11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

প্রতিবার শ্যাম্পু করার আগে কি মাথায় তেল মাখেন? কোন কোন সতর্কতা জরুরি?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


চুলের যত্ন নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম অভ্যাস ও বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে চুলে তেল দেওয়ার প্রথা বহু পুরোনো। ছোটবেলা থেকে অনেকেই শুনে এসেছেন শ্যাম্পু করার আগে মাথায় ভালো করে তেল মাখলে চুল মজবুত হয়, পড়া কমে এবং চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। তাই এখনও অনেকেই নিয়ম করে শ্যাম্পু করার আগে মাথায় তেল মাখেন।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই অভ্যাস কি সত্যিই চুলের জন্য ভালো? নাকি অজান্তেই আমরা এমন কিছু ভুল করছি যা চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলে তেল দেওয়া উপকারী হলেও এর সঠিক পদ্ধতি জানা অত্যন্ত জরুরি। ভুলভাবে তেল ব্যবহার করলে উপকারের বদলে উল্টে ক্ষতিও হতে পারে।

চুলে তেল দেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো চুল এবং স্ক্যাল্পকে পুষ্টি দেওয়া। মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়, সহজেই ভেঙে পড়ে এবং চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। তেল এই শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। তেলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ চুলের গোড়ায় পৌঁছে স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখে এবং চুলকে নরম ও মসৃণ করে তোলে।অনেক সময় আমরা প্রতিদিনের দূষণ, রোদ, ধুলোবালি ও বিভিন্ন কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। এসবের প্রভাবে চুল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। শ্যাম্পু করার আগে তেল মাখলে চুলের উপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা শ্যাম্পুর কড়া রাসায়নিকের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।তবে তেল মাখার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অনেকেই মনে করেন যত বেশি তেল লাগানো যাবে তত বেশি উপকার পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত তেল লাগালে স্ক্যাল্পে ময়লা জমে যেতে পারে। এর ফলে খুশকি, চুলকানি বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই তেল লাগানোর সময় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।তেল লাগানোর সময় আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ম্যাসাজের পদ্ধতি। অনেকেই জোরে জোরে মাথা ম্যাসাজ করেন। এতে মনে হয় রক্তসঞ্চালন বাড়ছে এবং চুলের গোড়া শক্ত হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করলে উল্টে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা হাতে আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।তেল লাগানোর পর কতক্ষণ অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করা উচিত—এই প্রশ্নও অনেকের মনে থাকে। অনেকেই সারারাত তেল লাগিয়ে রেখে দেন, আবার কেউ কেউ শ্যাম্পুর ঠিক আগে তেল লাগান। আসলে এই দুই পদ্ধতির মধ্যেই কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয়, শ্যাম্পু করার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে তেল লাগানো ভালো। এতে তেল স্ক্যাল্পে কিছুটা সময় ধরে কাজ করার সুযোগ পায়।তবে সারারাত তেল লাগিয়ে রাখার অভ্যাস সবসময় ভালো নাও হতে পারে। দীর্ঘ সময় তেল মাথায় থাকলে ধুলোবালি সহজেই তাতে আটকে যায়। বিশেষ করে শহুরে পরিবেশে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে স্ক্যাল্পে ময়লা জমে খুশকি বা চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।তেলের ধরন নির্বাচনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধিযুক্ত হেয়ার অয়েল ব্যবহার করেন। কিন্তু সব তেলই যে চুলের জন্য সমান উপকারী হবে এমন নয়। নারকেল তেল, বাদাম তেল, অলিভ অয়েল বা তিলের তেল সাধারণত চুলের জন্য ভালো বলে মনে করা হয়। এগুলিতে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ থাকে যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।চুলের ধরন অনুযায়ী তেল নির্বাচন করাও জরুরি। যাদের স্ক্যাল্প খুব তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার যাদের চুল খুব শুষ্ক, তাদের জন্য তেল বিশেষ উপকারী হতে পারে। তাই নিজের চুলের ধরন বুঝে তেল ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।এছাড়াও একটি বড় ভুল হলো খুব ঘন ঘন তেল লাগানো। অনেকেই প্রায় প্রতিদিনই তেল ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক তেল উৎপাদনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সাধারণত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার তেল ব্যবহার করাই যথেষ্ট।শ্যাম্পু করার সময়ও কিছু সতর্কতা জরুরি। তেল লাগানোর পর খুব কড়া কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই মৃদু বা সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া খুব গরম জল দিয়ে মাথা ধোয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত, কারণ এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়।চুলের যত্ন শুধু তেল বা শ্যাম্পুর উপর নির্ভর করে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখাও চুলের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকলে যত তেলই ব্যবহার করা হোক না কেন, চুলের সমস্যা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।শ্যাম্পু করার আগে মাথায় তেল মাখা একটি উপকারী অভ্যাস হতে পারে, তবে তা অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে করতে হবে। পরিমিত পরিমাণে তেল ব্যবহার, হালকা হাতে ম্যাসাজ, উপযুক্ত সময়ে শ্যাম্পু করা এবং নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী তেল নির্বাচন—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। অযথা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার বা ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করলে উপকারের বদলে উল্টে সমস্যাই বাড়তে পারে। তাই সচেতনভাবে চুলের যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Archive

Most Popular