স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথরের সমস্যা এখন খুবই সাধারণ, বিশেষ করে অনিয়মিত জীবনযাপন ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে। একবার কিডনি স্টোন হলে তা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও দরকার হয়। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চললে কিডনি স্টোন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্যারাগ্রাফ আকারে সেই নিয়মগুলোই তুলে ধরা হলো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পর্যাপ্ত জল পান করা। কিডনি স্টোন হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শরীরে জলস্বল্পতা। দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার জল পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং খনিজ লবণ জমে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। প্রস্রাবের রং যদি হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ থাকে, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে জলের মাত্রা ঠিক আছে। গরমকালে বা শরীরচর্চার সময় আরও বেশি জল পান করা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত নুন কমানো কিডনি স্টোন প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি নুন খেলে প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত নোনতা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। রান্নায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম নুন ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
অনেকে মনে করেন ক্যালসিয়াম খেলেই কিডনি স্টোন হয়, কিন্তু বাস্তবে খাবারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম গ্রহণ জরুরি। দুধ, দই বা ছানার মতো খাবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। বরং ক্যালসিয়াম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে স্টোনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়।
কিডনি স্টোন এড়াতে অক্সালেট-সমৃদ্ধ খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। পালং শাক, বিট, বাদাম, চকোলেট, চা, কফি ও সয়াবিনে অক্সালেটের মাত্রা বেশি থাকে। এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। এই ধরনের খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত জল পান করলে ক্ষতির ঝুঁকি কমে।
প্রাণিজ প্রোটিনের অতিরিক্ত গ্রহণও কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেশি পরিমাণে লাল মাংস, অর্গান মিট বা অতিরিক্ত ডিম খেলে প্রস্রাবে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়, যা পাথর তৈরিতে সাহায্য করে। তাই প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রেখে মাছ, ডাল, ডিম ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে সমন্বয় রাখা উচিত। নিয়মিত লেবু বা সাইট্রাস ফল খাওয়া কিডনির জন্য উপকারী। লেবু, কমলা, মৌসুমি ফলে থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর জমা হতে বাধা দেয়। দিনে এক গ্লাস লেবুজল (অল্প লেবু, কম নুন, চিনি ছাড়া) কিডনি স্টোন প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত শরীরচর্চা করাও কিডনি স্টোন এড়াতে সাহায্য করে। স্থূলতা ও বসে থাকা জীবনযাপন কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, কিডনি স্টোন প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতন জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা। আগে কখনও কিডনি স্টোন হয়ে থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক হওয়া জরুরি। শরীরের ছোট ছোট সংকেত উপেক্ষা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাকে অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।