10th Apr 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

নিরামিষ খেয়েও বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা? কী করবেন?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


অনেকেই মনে করেন, আমিষ না খেলেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার খাওয়ার পরও অনেকের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পায়ের আঙুলে ব্যথা, গাঁটে ফোলা, চলাফেরায় অস্বস্তি, এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Hyperuricemia। মাত্রা বেশি হলে তা থেকে হতে পারে গাউট।

ইউরিক অ্যাসিড আসলে শরীরে পিউরিন নামক উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয়। পিউরিন শুধু মাংস বা মাছেই থাকে না ডাল, ছোলা, রাজমা, মটরশুঁটি, এমনকি কিছু শাকসবজিতেও পিউরিন রয়েছে। তাই নিরামিষ খেলেও যদি অতিরিক্ত পিউরিনযুক্ত খাবার খান, তবে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি স্থূলতা, কম জলপান, কিডনির সমস্যা বা বংশগত কারণও ভূমিকা রাখে। অনেকেই ভাবেন শুধু আমিষ বাদ দিলেই হবে। কিন্তু অতিরিক্ত ডালজাতীয় খাবার, সয়াবিন, মাশরুম, ফুলকপি ইত্যাদিও সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি রক্তপরীক্ষায় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তবে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য আনা জরুরি।

কী করবেন? প্রথমত, পর্যাপ্ত জল পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার জল খেলে কিডনি অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হঠাৎ করে খুব দ্রুত ওজন কমানোও ঠিক নয়, কারণ তাতেও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। চিনি ও ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় যেমন কোল্ড ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত জুস—এড়িয়ে চলুন। এগুলি ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। ভাজাভুজি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কমান। বরং খাদ্যতালিকায় রাখুন লাউ, ঝিঙে, পটল, করলা, টমেটো, শসা ইত্যাদি হালকা সবজি। টকদই ও লো-ফ্যাট দুধ উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং গাঁটের জড়তা কমায় এবং বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। তবে তীব্র ব্যথা থাকলে বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভারী ব্যায়াম করবেন না।

যদি ইউরিক অ্যাসিড বারবার বেড়ে যায় বা গাঁটে তীব্র ব্যথা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ বা শুরু করা বিপজ্জনক। মনে রাখবেন, নিরামিষ খাওয়া স্বাস্থ্যকর হলেও খাদ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শ এই চারটি বিষয় মেনে চললেই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Archive

Most Popular