11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

নজর দোষ কাটাতে অমাবস্যায় করুন বিশেষ টোটকা! কী বলছে লোকবিশ্বাস?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


ভারতীয় সংস্কৃতিতে অমাবস্যা তিথিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র, তন্ত্রসাধনা এবং বিভিন্ন লোকাচারে এই দিনটিকে বিশেষ শক্তির দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বহু মানুষের বিশ্বাস, অমাবস্যার দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে এবং নজর দোষ, অশুভ দৃষ্টি বা অকারণ বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, নজর দোষ বা এই ধরনের টোটকার কার্যকারিতার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলি মূলত লোকবিশ্বাস, আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তবুও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহু মানুষ এই আচারগুলি পালন করে আসছেন।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, যখন কোনও ব্যক্তি, পরিবার বা ব্যবসার উপর অকারণে সমস্যা, অশান্তি বা বাধা বাড়তে থাকে, তখন অনেকেই তা নজর দোষের প্রভাব বলে মনে করেন। বিশেষ করে ছোট শিশু, নতুন বাড়ি, নতুন ব্যবসা বা সংসারের সুখ-শান্তি রক্ষার জন্য অমাবস্যায় কিছু বিশেষ আচার পালন করার রীতি রয়েছে। অনেক অঞ্চলে অমাবস্যার সন্ধ্যায় বাড়ির প্রধান দরজার সামনে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে এবং ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। বিশেষ করে তিলের তেল বা সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানোকে শুভ বলে মনে করা হয়।

আবার অনেকেই অমাবস্যার দিনে লবণ মেশানো জল দিয়ে ঘর মোছার পরামর্শ দেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এতে ঘরের স্থবির বা নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। যদিও এটি মূলত একটি আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, তবে ঘর পরিষ্কার রাখার অভ্যাস অবশ্যই স্বাস্থ্যকর। কিছু পরিবারে শুকনো লঙ্কা, নুন এবং সর্ষে একসঙ্গে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মাথার চারপাশে ঘুরিয়ে আগুনে ফেলার রীতি রয়েছে। এটি বহু পুরনো লোকাচারের অংশ। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে নজর দোষ কেটে যায়।

অমাবস্যার দিন দান-ধ্যানকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গরিব বা অভাবী মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করলে শুভ ফল লাভ হয় বলে অনেকের বিশ্বাস। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও দানকে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ হিসেবে দেখা হয়।অনেকেই এই দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের উদ্দেশে প্রার্থনা করেন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে অমাবস্যা পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে বিবেচিত।

জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, অমাবস্যার দিন মনকে শান্ত রাখা এবং অকারণ বিবাদ এড়িয়ে চলা উচিত। এই দিনে ইতিবাচক চিন্তা, প্রার্থনা ও আত্মবিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সমস্যার জন্য শুধুমাত্র টোটকার উপর নির্ভর করা উচিত নয়। পারিবারিক, আর্থিক বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লোকবিশ্বাসের এই আচারগুলিকে অনেকেই মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায় হিসেবেও দেখেন। কারণ কোনও আধ্যাত্মিক অনুশীলন যদি মানুষের মনে ইতিবাচকতা ও আশাবাদ তৈরি করে, তবে তা মানসিকভাবে উপকারী হতে পারে। বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ আধুনিক জীবনযাপনের পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও সংযোগ বজায় রাখতে চান। তাই অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে নানা আচার ও বিশ্বাস এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রিয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে কোনও ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অনুশীলন যেন ইতিবাচকতা, সহমর্মিতা এবং আত্মোন্নয়নের পথে পরিচালিত করে। কুসংস্কার বা ভয়ের পরিবর্তে সচেতনতা ও শুভ চিন্তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।অমাবস্যার এই বিশেষ দিনটি তাই অনেকের কাছে শুধুমাত্র একটি তিথি নয়, বরং আত্মবিশ্লেষণ, প্রার্থনা এবং নতুনভাবে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চয়ের একটি উপলক্ষ। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী নানা টোটকা পালন করা হোক বা না হোক, মনের অন্ধকার দূর করে ইতিবাচকতার আলো জ্বালানোই এই দিনের মূল বার্তা।

Archive

Most Popular