প্রতিবেদন
তড়িৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
রানি রাসমণি ও শ্রীরামকৃষ্ণের সংযোগকাল দীর্ঘময়। দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দিরের প্রতিষ্ঠারা ঘটে ৩১ মে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে এবং রানিমা অমরধামে যাত্রা করেন ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে। এই কাজকর্মের মধ্যে দু'বার শ্রীরামকৃষ্ণ দেশ গমন করেছেন। প্রথমবার দেশে গিয়ে একবছর এবং দ্বিতীয়বার প্রায দু'বছর সেখানে সময় কাটিয়েছেন। কার্যত শ্রীরামকৃষ্ণ ও রানি রাসমণির সংযোগকাল তিনবছরের কম সময়। এই স্বল্পসময়ের মধ্যেই ঘটে গেছে নানা ঐতিহাসিক ঘটনা। যুক্তি ও তর্কের মধ্যে তার উত্তর খোঁজা বাতুলতা মাত্র। ভেবে নেওয়া ভাল যে এ-সংযোগ দৈবনির্দিষ্ট। পাঠক! অনুগ্রহ করে ইতিহাসের পারম্পর্য অনুসরণ করুন।
বহু অর্থ ও সময় ব্যয় করে রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বর দেবালয় নির্মাণ করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন দেবী কালীকার মূর্তি (শ্রীরামকৃষ্ণের ভাষায় মা ভবতারিণী)। সেইসঙ্গে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ এবং দ্বাদশ শিবলিঙ্গ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় এবং প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি সম্বলে রানিমা তাঁর ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন এবং দেবী কালিকার প্রতিষ্ঠা পর্ব নির্ধারিত দিনে সুসম্পন্ন করেছিলেন। কালীমন্দিরে নিত্যপূজার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ অগ্রজ রামকুমারের উপর। রামকুমার শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও একবছর পূজার দায়িত্বভার চালিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাঁর কর্মভার অনুজ গদাধরের উপর অর্পণ করেন।
মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন শ্রীরামকৃষ্ণ অনাহুত হয়েই মন্দির প্রতিষ্ঠার শুভ অনুষ্ঠান স্বচক্ষে দর্শন মানসে দক্ষিণেশ্বরে হাজির হয়েছিলেন। রানিমার সুবন্দোবস্ত, অপরূপ দেবী প্রতিমা এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বিশাল আয়োজন গদাধরকে মুগ্ধ করেছিল। পরবর্তী কালে তাঁরই কণ্ঠ থেকে নির্গত হয়েছে ঐ সময় দেবালয় দেখিয়া মনে হয়েছিল, রানী যেন রজতগিরি তুলিয়া অনিয়া এখানে বসাইয়া দিয়াছেন। কেবল মন্দির প্রতিষ্ঠার দিনেই নয়, তার কয়েকদিন পর থেকেই তিনি ওই দেবমন্দিরে তিনি তাঁর অগ্রজের সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন। মন্দিরে নিবেদিত ভোগ-প্রসাদের বরাদ্দ পূজারি, কর্মচারী, অতিথি ও ভিক্ষুকদের। যেহেতু তিনি উক্ত কোনও গোষ্ঠীরই অন্তর্ভুক্ত নন, সেই কারণে অন্যের বরাদ্দকৃত বস্তুতে অংশ গ্রহণ করে অন্যকে বঞ্চিত করতে তিনি চাননি; তাই তিনি তা গ্রহণ করেননি। যেদিন থেকে তিনি মন্দিরের কর্মচারী হয়েছেন, সেদিন থেকে দ্বিধাহীন চিত্তে মায়ের ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মননে রানি রাসমণি কেবলমাত্র অর্থবৈভবে বিত্তশালিনী নন, ভক্তিভাবময়তায় তিনি গরীয়ান এবং দান বদান্যতায়ও অতুলনীয়া। শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট থেকেই তাঁর সন্ন্যাসী সন্তান স্বামী সারদানন্দ শুনেছেন, দেবীমূর্তি নির্মাণরম্ভের দিন হইতে রানি যথাশাস্ত্র কঠোর তপস্যার অনুষ্ঠান করিয়াছেন, ত্রিসন্ধা স্নান, হবিষান্ন ভোজ, মাটিতে শয়ন ও যথাশক্তি জনপূজাদি করিতেছিলেন।
... দীয়তাং ভূজ্যাতাং শব্দে সেদিন (মন্দির প্রতিষ্ঠা দিবস) ঐ স্থান দিবারাত্র সমভাবে কোলাহল পূর্ণ করিয়া উঠিয়াছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ রানি রাসমণি সম্পর্কে বলেছেন, রানী রাসমণি শ্রীশ্রীজগদম্বার অষ্টনায়িকার একজন। ধরাধামে তাঁর পূজা প্রচারের জন্য আসিয়াছেন। রানি রাসমণির জন্ম ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে এবং শ্রীরামকৃষ্ণ জননী চন্দ্রমণিদেবীর জন্ম ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে। বয়সের তুলনায় রানি রাসমণি শ্রীরামকৃষ্ণের মাতৃসমা। এবং রানি রাসমণি শ্রীরামকৃষ্ণের মাতৃসমা। এবং রাসমণিদেবীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা প্রতিমুহূর্তে অটুট ছিল। রাসমণিদেবীর প্রয়াণকালে (১৮৬১ খ্রিঃ) তিনি কালীঘাটে উপস্থিত হয়ে অন্তিমক্ষণে রানিমাকে দর্শন দিয়েছেন। সেই মহতীক্ষণে রাসমণিদেবী শ্রীশ্রীজগদম্বার আবির্ভাব দর্শনে কৃতার্থ হয়েছিলেন এখন আমার মা (শ্রীশ্রীজগদম্বা) আসছেন, তাঁর শ্রীঅঙ্গের প্রভায় চারদিক আলোকময় হয়ে উঠেছে। এ-ঘটনার সাক্ষী স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ।
শ্রীরামকৃষ্ণ সাধক, দার্শনিক এবং মহামানবপ্রেমী। এ সমুদয় বৈশিষ্ট্যই তাঁর বৃহত্তর পরিচিতি। মানুষ শ্রীরামকৃষ্ণের গুণপনাও কম ছিল না। তাঁর সেই গুণপনাতেও মুগ্ধ হন রানি রাসমণি। শ্রীরামকৃষ্ণ ওরফে গদাধর ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি দেশ থেকে ফেরেন। প্রায় সমসময়েই তাঁর ভাগিনেয় হৃদয়রামও চাকরির সন্ধানে মাতুলদের নিকট দক্ষিণেশ্বরে হাজির হন। এই কালেই শ্রীরামকৃষ্ণ গঙ্গার মাটি দিয়ে একটি শিবমূর্তি তৈরি করেন। ঘটনাক্রমে মথুরমোহন সেটি দর্শন করেন এবং গদাধরের শিল্পসত্তা দেখে বিস্মিত ও আনন্দিত হন। সেই সংবাদ তিনি রানিমাকে জাত করান। মথুরমোহনের আগ্রহে এবং গদাধরের বক্তব্য মতো শ্রীরামকৃষ্ণ দেবী কালিকার অঙ্গসজ্জার (বেশভারী) দায়িত্ব নেন এবং হৃদয়রাম তাঁর সহকারী হিসাবে মন্দিরকর্মে যুক্ত হন।
গদাধর ওরফে শ্রীরামকৃষ্ণ ছিলেন সুকণ্ঠের অধিকারী। নিয়তই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হত রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের মাতৃগীত। সে-সংবাদ রানিমা জ্ঞাত ছিলেন। রানিমা যেদিন মন্দিরে আসতেন তিনি গদাধরকে অনুরোধ করতেন মাতৃসঙ্গীত পরিবেশনের জন্য। গদাধর প্রফুল্ল মনে রানিমাস গান শোনাতেন। শ্রীরামকৃষ্ণ কন্ঠে গাওয়া, গানে মধ্যে কোন হিসাবে হরহৃদে দাঁড়িয়েছে মা পদ দিয়ে। সাধকরে জিভ বাড়াচ্ছে, যেন কত ন্যাক মেয়ে। গানটি ছিল রানিমার অত্যন্ত প্রিয়। গদাধরের গুণপনায় যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন রানি রাসমণি, তেমনই তাঁর দৈবীপ্রকৃতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেয়েছেন একাধিকবার। গদাধর ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে জুন মাস নাগাদ মা কালীর বেশকারীর পদে নিযুক্ত হয়েছেন। এর কিছুদিন পর বিষ্ণুমন্দিরের পুরোহিতের অসাবধানতায় তাঁর হাত থেকে রাধাকান্তের মূর্তি পড়ে যায় এবং মূর্তির একটি পা ভেঙে যায়। পণ্ডিতগণ বিধান দেন যে ভাঙামূর্তি গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে নতুন মূর্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা! পণ্ডিতদের বিধানমতো নতুন মূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত দিনে নতুন মূর্তি মন্দিরে হাজিরও হয়। কিন্তু রানি রাসমণি পণ্ডিতদের বিধান মেনে নিতে পারেননি। তিনি নবীন পূজারি গদাধরের মতামত জানতে চান। গদাধর বলেন, রানিমার জামাইদের কেউ যদি পড়ে পা ভেঙে ফেলে, তবে কি তাকে ত্যাগ করে আর একজনকে তার জায়গায় বসানো হত? মূর্তিটি জুড়ে যেমন পূজা হচ্ছে, তেমনই পূজা করা হোক। রানিমা গদাধরের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে প্রাচীন মূর্তিটি ঠিক করে পুনরায় তাঁর পূজার্চনা বহালরাখেন। শ্রীরামকৃষ্ণের এই সিদ্ধান্ত শুনে রানিমা বিস্ময়াভিভূত হন। তিনি ভাবেন নবীন পুরোহিত তাঁর মনের কথা জানল কি করে? এই রকমই আবার বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়েছিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী রানি রাসমণিকে। সেদিনটি ছিল বিশেষ দিন। তখন গদাধর মা-কালিকার পূজার দায়িত্বে আসীন। রাগভক্তির প্রাবল্যে বৈধী পূজার পরিবর্তে তিনি তাঁর স্বকল্পিত পদ্ধতি অনুসারে মার পূজার্চনা চালাতেন। এরজন্য বাক-বিতণ্ডার পাহাড় জমে উঠেছিল শ্রীরামকৃষ্ণও কর্মচারীদের মধ্যে। মথুরবাবু সরজমিন তদন্তে মন্দিরে এসে গদাধরের রাগ-ভক্তি-সিঞ্চিত পুজা-আরাধনা দেখে মুগ্ধ হন। তিনি রানিমাকে গদাধর প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন: অদ্ভুত পূজক পাওয়া গেছে, দেবী বোধহয় শীঘ্রই জাগ্রত হবেন।
এরপর একদিন গদাধর... বিড়ালের মধ্যে দেবীর অস্তিত্ব অনুভব করে দেবীর ভোগের লুচি বিড়ালকে খাইয়ে দেন। তাতে ঘটল বিপত্তি। কর্মচারীদের ধারণা পূজারি পাগল হয়ে গেছেন। সংবাদ জানবাজারে পৌঁছলে রানিমা ক্রুদ্ধ হন। তিনি নিজে সরজমিনে পরিস্থিতি দেখতে মন্দিরে আসেন। গদাধর রানিমার আগমনসংবাদ পেয়ে দেবী কালিকার পিছনে লুকোন। রানিমা একবার দেবীর দিকে তাকান, তারপরই গদাধরকে লক্ষ করেন। তিনি দেবীকে দেখেন প্রসন্নবদনা, আর গদাধরকে দেখেন মা-কে ছুঁয়ে সে অকুতোভয়। রানিমা হতবাক হয়ে যান। সেইসময় রানি রাসমণির মনে বেনারসি শাড়ি পরানোর বাসনা জেগেছিল। পণ্ডিতদের অনুমতি না-পাওয়ার শঙ্কায় তিনি তাঁর ভাবনার কথা ব্যক্ত করেননি। হঠাৎ সেই বিশেষ দিকে মা কালীকে স্পর্শ করে গদাধর বলে ওঠেন, মা বলেছেন, তিনি বেনারসি পরবেন! রানিমা বিস্ময়ে হতবাক! গদাধর তাঁর মনের কথা জানল কি করে? পরে পণ্ডিতদের বিচারসভায় রানিমার বাসনার কথা ব্যক্ত করা হলে পণ্ডিতবর্গ তা নাকচ করে দেন, কিন্তু গদাধর স্বীয় সংকল্পে অটুট থেকে রানিমার ইচ্ছাকে ফলবতী করেছেন। কেবল দু'বার নয়, আরও একবার রানিমাকে ভাবিয়ে তুলেছিলেন এই গদাধর। প্রাত্যহিক অভ্যাসমতো রানিমা মন্দিরে এসেছেন। গদাধর রানিমার মনোমতো সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। গান শুনতে শুনতে রাসমণিদেবী এক বিশেষ মোকদ্দমার বিষয় চিন্তিত হয়ে পড়ায় কিছুটা অন্যমনস্ক হয়েছেন, তখনই গদাধর হাত দিয়ে তাঁর পিঠে আঘাত করে বলে ওঠেন: এখানেও মোকদ্দমা? রানিমা সম্বিত ফিরে পেয়ে নিজের অন্যমনস্কতার জন্য অনুতপ্ত হন। ইত্যবসরে শ্রীরামকৃষ্ণকে বেষ্টন করে কর্মচারীবৃন্দ জমায়েত হয়েছেন এক পূজারির অবধারিত শাস্তি দেখার প্রত্যাশায় তাঁরা অধীর।
রানিমা শ্রীরামকৃষ্ণের রাগএই আপাত অস্বাভাবিক আচরণের জন্য, ক্ষোভ বা বিরক্তি- কিছুরই অভিব্যক্তি দেখাননি বরং শ্রীরামকৃষ্ণের অনন্য দৈবী প্রকৃতি অনুভব করে মোহিত হয়েছেন এবং বয়োকনিষ্ঠ সন্তানবৎ গদাধরের দেবী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। পরে পরিস্থিতি দেখে তিনি কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। দক্ষিণেশ্বর দেবালয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের সংযুক্তি মা কালীর বেশধারী হিসেবে, পরে তিনি দেবীর পূজার দায়িত্বে এসে দেবীকে জাগ্রত করেন। কিন্তু পূজকের আসনে তিনি বেশিদিন থাকতে পারেননি। তিনি বলেছেন, শ্রীশ্রীভবতারিণীর পূজা ছয়মাস মাত্র করিয়াছিলেন। রানি রাসমণির জীবদ্দশাতেই তাঁর সাধনা শুরু। এই কালেই তাঁর পঞ্চবটী তপোবন নির্মাণ। সবই রানিমার জানা। তীব্র সাধনাজনিত তাঁর শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ে মথুরবাবু তাঁর যে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালিয়েছিলেন, তাও ছিল রানিমার সম্মতি ও উৎসাহে। শ্রীরামকৃষ্ণের শরীর সুরক্ষার প্রতি মথুরমোহনের যে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত, তাও রানিমার সহানুভূতির বাইরে ছিল না। বিধিবদ্ধ পূজা চালানো গদাধরের পক্ষে অসম্ভব জেনে মথুরবাবু মাকালীর পূজার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন হৃদয়রামের উপর। বস্তুত রানিমার সজ্ঞান উপস্থিতিতেই শ্রীরামকৃষ্ণ দিবারাত্র নিজ ভাবে বিভোর এবং গভীর সাধনায় মগ্ন। কিন্তু তখনও তিনি মন্দির রেজিস্টারে (১৮৫৮ খ্রিঃ) শ্রীশ্রীরাধাকান্তজির পূজক। শ্রীরামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য- মাসিক বেতন ৫ (পাঁচ) টাকা হিসাবে চিহ্নিত।
তাহলে আমরা অনায়াসে ধরে নিতে পারি যে, শ্রীরামকৃষ্ণের দ্বাদশবর্ষ সাধন পরিক্রমণের উদ্বোধন কল্পে ছিল রানি রাসমণির উপস্থিতি, উৎসাহ ও গভীর সহানুভূতি। পরিশেষে বলতে হয়, রানি রাসমণি সম্পর্কে নানা মনীষীগণ তাঁকে নানা বিশেষণে ভূষিতা করলেও শ্রীরামকৃষ্ণ কথিত শ্রদ্ধাবন্দনাটিই সর্বোৎকৃষ্ট বলে অনুমিত হয়, কারণ এটিই তাঁর চরিত্রের স্বকীয়তা, অনন্যতা এবং আধ্যাত্মিক ভাবময়তায় পরিপূর্ণ। রাসমণিদেবীর অর্থ কৌলীন্য, সমাজমান্যতা, প্রজ্ঞাপরায়ণতা প্রমুখ গুণাবলী ছাড়িয়ে বিশ্বমানবতার দরবারে তাঁকে পূজ্যপদে আসীন করে গেছে শ্রীরামকৃষ্ণের শ্রদ্ধাবন্দনা। শ্রীরামকৃষ্ণের লোকভর চৈতন্যময় শক্তির মহতী স্পর্শে রানিমার ভগবতী প্রকৃতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছিল। বস্তুত, রানি রাসমণি হলেন সেই মহীয়সী নারী যাঁর মাধ্যমে মহাকালী অবতার বরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণের কৃপা হস্ত উন্মোচনের উদ্বোধন ঘটিয়েছিলেন। পৃথিবীর কোটি কোটি শ্রীরামকৃষ্ণ অনুরাগ-অনুরাগী-অনুরাগিনীর সহস্র প্রণতি জগজ্জনীর সখী-রূপিণী রাসমণিদেবীর চরণে।