6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

উৎসবের আগে ঘর গোছানোর সহজ ও কার্যকর কৌশল!

বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি


উৎসব মানেই নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, আত্মীয়-বন্ধুদের আনাগোনা আর আনন্দের আবহ। কিন্তু উৎসবের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঘরদোর পরিষ্কার ও গোছানো। অনেকেই শেষ মুহূর্তে সব কাজ একসঙ্গে করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অথচ একটু পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে কাজ করলে ঘর গোছানো অনেক সহজ হয়ে যায়। শুধু বাড়িকে সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ জীবনযাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ঘর গোছানোর প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পনা। পুরো বাড়ি একদিনে পরিষ্কার করার পরিবর্তে প্রতিদিন একটি বা দুটি ঘর বেছে নিন। যেমন একদিন শোবার ঘর, অন্যদিন রান্নাঘর, তারপর বসার ঘর। এতে কাজের চাপ কমে এবং প্রতিটি জায়গায় মনোযোগ দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা বা ডিক্লাটারিং ঘর গোছানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আলমারিতে বছরের পর বছর ব্যবহার না করা পোশাক, ভাঙা জিনিস, পুরনো কাগজপত্র বা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী শুধু জায়গা দখল করে রাখে। যেগুলি আর ব্যবহার করবেন না, সেগুলি আলাদা করে রাখুন। ভালো অবস্থায় থাকলে প্রয়োজনে দান করা যেতে পারে, আর নষ্ট হলে পুনর্ব্যবহার বা সঠিকভাবে ফেলে দিন।উৎসবের আগে আলমারি গোছানোও জরুরি। পোশাক পরিষ্কার করে ভাঁজ করে রাখুন, শীতের বা গরমের পোশাক আলাদা করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লেবেল লাগাতে পারেন। এতে প্রয়োজনের সময় সহজে জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় এবং আলমারিও পরিপাটি থাকে।রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় তাক, মশলার ডিব্বা, ফ্রিজ এবং খাবার রাখার পাত্রগুলির দিকে বিশেষ নজর দিন। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা মশলা সরিয়ে ফেলুন। রান্নাঘরের চিমনি, এক্সহস্ট ফ্যান, গ্যাস ওভেন এবং সিঙ্কও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এতে শুধু পরিচ্ছন্নতাই নয়, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধিও বজায় থাকে।বাথরুম পরিষ্কারের সময় টাইলস, বেসিন, কমোড এবং কলের চারপাশে জমে থাকা দাগ বা ছত্রাক পরিষ্কার করুন। আয়না, শাওয়ার এবং ড্রেনও ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা উচিত। পরিষ্কার বাথরুম শুধু দেখতে ভালো লাগে না, জীবাণুর ঝুঁকিও কমায়।উৎসবের আগে পর্দা, কুশনের কভার, বিছানার চাদর এবং কার্পেট ধুয়ে নিলে পুরো বাড়ির চেহারাই বদলে যায়। জানালার কাচ, দরজার হাতল, সুইচ বোর্ড এবং ফ্যানের ব্লেডও পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। এগুলি অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়, অথচ সেখানে প্রচুর ধুলো জমে থাকে।ঘর গোছানোর সময় পরিবারের সবাইকে কাজে যুক্ত করুন। শিশুদের খেলনা গুছিয়ে রাখতে শেখানো, বড়দের আলমারি গোছানো বা ঘর পরিষ্কার করার মতো ছোট ছোট দায়িত্ব ভাগ করে দিলে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং পরিবারের সবাই উৎসবের প্রস্তুতির অংশ হয়ঘরে নতুনত্ব আনতে বড় খরচের প্রয়োজন নেই। পুরনো ফুলদানি নতুনভাবে সাজানো, টেবিলক্লথ বদলানো, ইনডোর গাছ রাখা বা নতুন কুশন কভার ব্যবহার করলেও ঘরের পরিবেশ অনেকটা বদলে যায়। উৎসবের আবহ তৈরি করতে আলো, ফুল বা ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জারও ব্যবহার করা যেতে পারে।ঘর পরিষ্কার করার সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। উঁচু জায়গা পরিষ্কার করার সময় মজবুত স্টুল বা মই ব্যবহার করুন। পরিষ্কারক রাসায়নিক ব্যবহার করলে গ্লাভস পরুন এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘর গোছানোর কাজকে বোঝা না ভেবে একটি আনন্দের অভ্যাসে পরিণত করা। পছন্দের গান চালিয়ে, পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতে বা ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করলে ক্লান্তি অনেকটাই কম লাগে। ধীরে ধীরে কাজ শেষ করলে শেষ মুহূর্তের চাপও এড়ানো যায়।

উৎসবের আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন বাড়ির পরিবেশও থাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং আরামদায়ক। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো না করে আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন, অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন এবং ধাপে ধাপে ঘর গুছিয়ে নিন। একটি পরিপাটি বাড়ি শুধু অতিথিদেরই ভালো লাগবে না, পরিবারের সকলের মনেও এনে দেবে উৎসবের বাড়তি আনন্দ।

Archive

Most Popular