6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

এই পুজোয় ১২টি রাশির জন্য সেরা ১২টি উপাচার!

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি



পুজো মানেই বাঙালির কাছে শুধু নতুন জামাকাপড়, খাওয়াদাওয়া আর ঠাকুর দেখা নয়। পুজোর দিনগুলিতে দেবীর সামনে প্রদীপ জ্বালানো, ফুল দেওয়া, অঞ্জলি দেওয়া, প্রার্থনা করা কিংবা বাড়ির ঠাকুরঘরে একটু বেশি সময় কাটানোর মধ্যেও জড়িয়ে থাকে একরাশ আবেগ ও বিশ্বাস। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত ধারণাতেও মানুষের জন্মরাশি অনুযায়ী কিছু রং, ফুল, উপকরণ বা আচারকে শুভ বলে মনে করা হয়। অবশ্যই এগুলির কোনওটিকেই নিশ্চিতভাবে ভাগ্য বদলে দেওয়ার উপায় বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ফলের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পুজোর আবহে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী ছোট্ট কিছু শুভাচার পালন করার একটি সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য পুজোয় লাল রঙকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। তাই দেবীর পায়ে লাল জবা বা লাল ফুল নিবেদন করে প্রার্থনা করতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লাল রং শক্তি, সাহস ও উদ্যমের প্রতীক। পুজোর কোনও একদিন নিজের সাধ্য অনুযায়ী দরিদ্র বা প্রয়োজনমতো কাউকে লাল বস্ত্র দান করাও শুভ বলে অনেকে মনে করেন। তবে দানের ক্ষেত্রে রংয়ের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে সুন্দর উপাচার।

বৃষ রাশির সঙ্গে সাদা ও কোমল রঙের সম্পর্কের কথা জ্যোতিষচর্চায় প্রায়ই বলা হয়। এই রাশির জন্য পুজোয় সাদা ফুল নিবেদন এবং সাদা মিষ্টি ভোগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সাদা রংকে শান্তি, সৌন্দর্য ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তাই দেবীর সামনে সাদা ফুল রেখে কিছুক্ষণ নীরবে বসে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করতে পারেন। আচারটি যতটা না ফল পাওয়ার জন্য, তার চেয়ে বেশি নিজের মনকে শান্ত করার একটি উপলক্ষ হতে পারে।

মিথুন রাশির ক্ষেত্রে সবুজ রঙকে শুভ বলে ধরা হয়। তাই পুজোর কোনওদিন সবুজ ফুল পাওয়া গেলে তা নিবেদন করতে পারেন, অথবা সবুজ পাতা দিয়ে দেবীর আরাধনা করতে পারেন। প্রচলিত জ্যোতিষবিশ্বাসে সবুজ বুদ্ধি, যোগাযোগ ও সজীবতার প্রতীক। এই রাশির মানুষ চাইলে পুজোর সময়ে কোনও ছোট শিশুকে বই, খাতা বা শিক্ষাসামগ্রী দান করতে পারেন। জ্ঞান ও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই দানকে একটি অর্থবহ উপাচার হিসেবেও দেখা যায়।

কর্কট রাশির জন্য সাদা রং এবং জলতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত উপকরণকে শুভ মনে করার রীতি রয়েছে। পুজোর সকালে পরিষ্কার জল দিয়ে দেবীর সামনে অর্ঘ্য দেওয়া এবং সাদা ফুল নিবেদন করা যেতে পারে। সম্ভব হলে কোনও অসহায় মানুষকে দুধ, ফল বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া যেতে পারে। কর্কটের সঙ্গে পরিবার ও আবেগের যোগের কথা জ্যোতিষে বলা হয়, তাই পুজোর দিনে পরিবারের সকলের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও এই রাশির মানুষের জন্য সুন্দর একটি ‘উপাচার’ হতে পারে।

সিংহ রাশির সঙ্গে সূর্য ও উজ্জ্বলতার সম্পর্ক রয়েছে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। তাই এই রাশির জাতক-জাতিকারা পুজোয় লাল, কমলা বা গেরুয়া রঙের ফুল নিবেদন করতে পারেন। সকালে সূর্যের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করার প্রচলনও রয়েছে। তবে সরাসরি সূর্যের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকানো উচিত নয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে খাবার খাওয়ানো বা অন্নদান করাও অত্যন্ত সুন্দর একটি পুজোর কাজ হতে পারে।

কন্যা রাশির জন্য সবুজ রং এবং প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত উপকরণকে শুভ বলে মনে করা হয়। তাই দেবীর সামনে সবুজ পাতা বা তাজা ফুল নিবেদন করা যেতে পারে। এই রাশির জাতক-জাতিকারা পুজোর সময়ে কোনও গাছের চারা লাগাতে পারেন কিংবা পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে পারেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিবেশের যত্নও যখন একটি শুভ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই উপাচারের অর্থ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

তুলা রাশির সঙ্গে সৌন্দর্য, সাম্য ও সাদার সম্পর্কের কথা জ্যোতিষচর্চায় পাওয়া যায়। এই রাশির জন্য সাদা বা হালকা রঙের ফুল নিবেদন এবং সুগন্ধি ধূপ জ্বালানোর রীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে ধূপের ধোঁয়া নিয়ে যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ধূপ ব্যবহার না করাই ভালো। পুজোর দিনে কারও সঙ্গে অকারণে বিবাদ না করে শান্তভাবে কথা বলা এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করাও হতে পারে তুলা রাশির মানুষের নিজের জন্য একটি অর্থবহ সংকল্প।

বৃশ্চিক রাশির ক্ষেত্রে লাল, গাঢ় লাল বা মেরুন রংকে অনেক সময় শুভ বলে ধরা হয়। দেবীর সামনে লাল ফুল নিবেদন করে নিজের ভয়, দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রার্থনা করতে পারেন। এই রাশির জন্য দানও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী উপাচার হতে পারে। বিশেষ করে কোনও প্রয়োজনমতো মানুষকে খাবার বা দৈনন্দিন প্রয়োজনের সামগ্রী দেওয়া পুজোর আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

ধনু রাশির সঙ্গে হলুদ ও গেরুয়া রঙের সম্পর্কের কথা প্রচলিত জ্যোতিষবিশ্বাসে রয়েছে। তাই পুজোর দিনে হলুদ ফুল, হলুদ ফল বা হলুদ রঙের কোনও ভোগ নিবেদন করতে পারেন। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত দানও এই রাশির জন্য প্রতীকীভাবে সুন্দর। কোনও ছাত্রছাত্রীকে বই বা পড়াশোনার সামগ্রী দেওয়া যেতে পারে। দেবীর সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনের লক্ষ্য নিয়ে কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ভাবাও হতে পারে এই দিনের ব্যক্তিগত সাধনা।

মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য নীল, কালো বা গাঢ় রঙের সঙ্গে জ্যোতিষীয় প্রতীকের সম্পর্কের কথা বলা হয়। তবে দুর্গাপুজোর আবহে দেবীর সামনে সাধারণত উজ্জ্বল ও পবিত্রতার প্রতীক নানা রঙের ফুলই বেশি ব্যবহার করা হয়। তাই এই রাশির মানুষ নিজের পছন্দের ফুল দিয়ে দেবীকে প্রণাম করতে পারেন এবং কোনও শ্রমজীবী বা প্রয়োজনমতো মানুষকে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করতে পারেন। পরিশ্রমকে সম্মান করা এবং নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাও মকর রাশির জন্য প্রতীকী শুভাচার হিসেবে ধরা যেতে পারে।

কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে নীল বা বেগুনি রঙকে অনেক সময় শুভ বলে মনে করা হয়। এই রাশির জাতক-জাতিকারা পুজোর দিনে দেবীর সামনে নীলচে বা বেগুনি ফুল পাওয়া গেলে তা নিবেদন করতে পারেন। তবে ফুলের রং নিয়ে অতিরিক্ত জটিলতা করার প্রয়োজন নেই; পুজোর নিয়মে যে ফুল গ্রহণযোগ্য এবং সহজলভ্য, সেটিই যথেষ্ট। কুম্ভ রাশির জন্য মানুষের কল্যাণে কিছু করা একটি সুন্দর প্রতীকী উপাচার হতে পারে। কোনও বৃদ্ধ মানুষকে সাহায্য করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে দেওয়া কিংবা কোনও সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়াও পুজোর প্রার্থনাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে।

মীন রাশির সঙ্গে হলুদ, সাদা এবং জলতত্ত্বের যোগের কথা প্রচলিত জ্যোতিষবিশ্বাসে রয়েছে। পুজোর দিনে সাদা বা হলুদ ফুল নিবেদন করে শান্তি ও মঙ্গল কামনা করতে পারেন। কোনও মন্দির বা আশ্রমে খাদ্যদান করা কিংবা দরিদ্র মানুষকে ফল বা প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া যেতে পারে। এই রাশির মানুষের জন্য নিজের মনকে শান্ত রাখার উদ্দেশ্যে পুজোর সময়ে কিছুক্ষণ ধ্যান, প্রার্থনা বা নীরবতায় কাটানোও একটি সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।

তবে এই ১২টি রাশির উপাচারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল ‘সাধ্য’। কোনও আচার পালনের জন্য নিজের সামর্থ্যের বাইরে খরচ করার প্রয়োজন নেই। দামি ফুল, বিশেষ সামগ্রী বা বহুমূল্য দান করলেই যে পুজো বেশি ফলপ্রসূ হবে, এমন ধারণার কোনও প্রয়োজন নেই। একটি সাধারণ ফুল, একমুঠো ফল, নিজের হাতে তৈরি ভোগ কিংবা আন্তরিক প্রার্থনাও ভক্তির প্রকাশ হতে পারে। পুজোর মূল সৌন্দর্য তো জাঁকজমকে নয়, বিশ্বাস ও আন্তরিকতায়।

আর একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, রাশি অনুযায়ী উপাচার জ্যোতিষীয় ও লোকাচারভিত্তিক বিশ্বাস। এগুলির মাধ্যমে চাকরি, অর্থ, বিবাহ, স্বাস্থ্য বা ভবিষ্যতের কোনও নির্দিষ্ট ফল নিশ্চিত হবে এমন দাবি করা ঠিক নয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও কেবল রাশি বা কোনও উপাচারের উপর নির্ভর করে নেওয়া উচিত নয়। বরং পুজোর এই আচারগুলিকে নিজের মনকে ইতিবাচক রাখা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, দান করা, প্রকৃতির যত্ন নেওয়া এবং নিজের জীবনের প্রতি নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার একটি সুন্দর উপলক্ষ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত দেবীর কাছে প্রত্যেক মানুষের প্রার্থনা একটাই সুস্থ থাকি, প্রিয়জনেরা ভালো থাকুন, জীবনে শান্তি থাকুক এবং বিপদের সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি যেন পাই। তাই আপনার রাশি যা-ই হোক, এই পুজোয় সবচেয়ে বড় উপাচার হতে পারে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো। কারও হাতে খাবার তুলে দেওয়া, কারও পাশে দাঁড়ানো, পুরনো অভিমান ভুলে প্রিয়জনকে কাছে টেনে নেওয়া কিংবা নিজের ভুল স্বীকার করে নতুনভাবে শুরু করা এসবের চেয়ে শুভ আর কী-ই বা হতে পারে? দেবীর আরাধনা তখনই যেন পূর্ণতা পায়, যখন মন্দিরের প্রদীপের আলো পেরিয়ে তার একটু আলো আমাদের আচরণেও এসে পড়ে।

Archive

Most Popular