স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
বেসিক ডায়েট প্ল্যান
* ডায়াবিটিস মানেই কি সারাজীবনের জন্য ভাত আর মিষ্টি বন্ধ? না একদম নয়। এগুলো খাওয়া যেতেই পারে তবে পর্যাপ্ত পরিমানে।
পেট ঠেসে খাওয়া একদম বারণ! খান বারে বারে, অল্প করে।
* খাবার ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খান। তাড়াতাড়ি খেলে আমাদের মস্তিস্ক বুঝতে পারে না আমরা কতটা খাচ্ছি। সেইজন্য খিদের অনুভূতি মিটতে চায় না, ফলে আমরা বেশি খেয়ে ফেলি।
* খাওয়ার সময় জল একদম নয়। এতে পরিপাকে সাহায্যকারী এনজাইমগুলোর ঘনত্ব কমে যায়। ফলে পরিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়। হজমে সমস্যা মানেই শরীরে হাজারো রোগের বাস।
* অনুষ্ঠান বাড়িতে বুদ্ধি করে খাবার বাছুন। মাটন খেতে চাইলে মশলাদার গ্রেভিটা বাদ দিন। ভাজাভুজির বদলে স্যালাড রায়তা খান।
মনে রাখবেন ওজন, উচ্চতা আর বয়স অনুযায়ী প্রত্যেকের চাহিদা আর প্রয়োজন আলাদা। তাই বেসিক নিয়ম এক হলেও হঠাৎ করে নেট বা কোনও বই দেখে যে-কোনও ডায়েট চার্ট নিজের জন্য বাছবেন না। সুস্থ থাকতে অভিজ্ঞের পরামর্শ মতো চার্ট বানিয়ে নিন। সে আপনার ডায়াবিটিস থাকুক আর নাই থাকুক।
কখন খাব? কী খাব?
* আমরা সাধারণত সারাদিনে তিনবার খাই। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা বড় অংশের প্রাতরাশ না করার প্রবণতা রয়েছে। সকালে না খেয়ে যতটা সময় বাঁচানো যায় আর কী! তারা সাধারণত এগারোটা নাগাদ কিছু খেয়ে সোজা দুপুরে খান, তারপর আবার সেই রাতে। এটা একদম খারাপ অভ্যাস। শুধুমাত্র ডায়াবিটিস আক্রান্তদের জন্যই নয়, সবার জন্য..
* সকালে ৭টা-৮টার মধ্যে ভারী কিছু খাওয়া মাস্ট! এরপর মিড মর্নিং স্ন্যাক্স (এগারোটা নাগাদ), দুপুরের খাবার, বিকেলে আবার হালকা কোনও স্ন্যাক্স তারপর রাতের খাবার। এতে দুপুর বা রাতে খুব খিদে পাবে না। খাবারের পরিমাণ অল্প হলে শরীর হালকা আর রোগমুক্ত থাকবে।
এছাড়া মাঝেমধ্যে কিছু খেলে পেট খালি থাকবে না। ইনসুলিন নিজের কাজ ঠিক মতো করতে পারবে। সুগারের মাত্রা চট করে নীচে নেমে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন না। কারণ হাই সুগারের চেয়েও খারাপ হল সুগার লেভেল ফল করা।
* সকালে দানাশস্য জাতীয় (সিরিয়াল বেসড) খাবার খেতে হবে। সেইসঙ্গে কিছুটা প্রোটিন, ফাইবার থাকা উচিৎ। কর্নফ্লেক্স, হুইটফ্লেক্স বা মুজলি খাওয়া যায়। ওটস খেতে পারলে খুব ভালো। এগুলোর সঙ্গে খুব সহজেই দুধ বা দই খাওয়া যেতে পারে। তাহলে প্রোটিন আর ক্যালসিয়াম ব্যালেন্সটাও ঠিকঠাক থাকবে। চিনি খাওয়া চলবে না। এমনকি যাদের সুগার নেই তারাও চিনি ছাড়া চা আর এইসব খাবার অভ্যাস করতে পারেন। চিনির বদলে কিছু ফলের টুকরো মিশিয়ে নিলে মন্দ লাগবে না। যেমন, পাকা পেয়ারা (ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকলেও অল্প পরিমাণে মাঝে মধ্যে খেতে পারেন) বা শশার টুকরো। ফল খাবারের স্বাদ বাড়াবে সঙ্গে ফাইবারের জোগান দেবে। ফলে পেট ভরবে, শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরির চাপ তৈরি হবে না।