19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শীতকালীন পারফিউম ও হ্যান্ডক্রিম ব্যবহার !

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


শীতকাল মানেই ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা, রুক্ষতা ও অস্বস্তি। ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং বারবার জল ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়। এই সময়ে যেমন উষ্ণ পোশাক শরীরকে সুরক্ষা দেয়, তেমনই সঠিক পারফিউম ও হ্যান্ডক্রিম ত্বক ও ব্যক্তিত্বের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতকালীন রূপচর্চায় এই দুই অনুষঙ্গ আজ আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন।

অনেকে মনে করেন পারফিউম মূলত গ্রীষ্ম বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু বাস্তবে শীতকালে পারফিউমের প্রয়োজন আরও বেশি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের ঘাম কম হলেও ভারী পোশাক ও বন্ধ পরিবেশে এক ধরনের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হতে পারে। ভালো মানের পারফিউম সেই গন্ধ দূর করে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

শীতে ত্বক তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকে, ফলে পারফিউমের সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই সময় ভারী, উষ্ণ ও গভীর ঘ্রাণের পারফিউম বেশি মানানসই। যেমন ভ্যানিলা, অ্যাম্বার, মাস্ক, উডি নোট বা স্পাইসি নোটযুক্ত পারফিউম শীতের আবহে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

শীতের জন্য পারফিউম নির্বাচন করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, পারফিউমের ঘনত্ব। Eau de Parfume বা Parfume শীতকালে বেশি কার্যকর, কারণ এগুলির সুগন্ধ দীর্ঘক্ষণ থাকে। দ্বিতীয়ত, সুগন্ধের ধরন। হালকা সাইট্রাস বা ফ্রেশ নোটের বদলে উষ্ণ ও গভীর ঘ্রাণ শীতে বেশি মানায়। এছাড়া পারফিউম ব্যবহারের সঠিক স্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কব্জি, কানের পেছনে, গলার নিচে বা কনুইয়ের ভাঁজে পারফিউম লাগালে তা ধীরে ধীরে সুগন্ধ ছড়ায়। তবে অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ তীব্র ঘ্রাণ শীতের বন্ধ পরিবেশে বিরক্তিকর হতে পারে।

শীতকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাতের ত্বক। বারবার জল দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে হাতের ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও ফেটে যায়। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া উঠে যাওয়া, লালচে ভাব ও জ্বালাভাবও দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত হ্যান্ডক্রিম ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। হ্যান্ডক্রিম ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে এবং হাতের সৌন্দর্য বজায় রাখে। বিশেষ করে যাঁরা গৃহকর্ম, অফিসের কাজ বা বাইরে বেশি সময় কাটান, তাঁদের জন্য হ্যান্ডক্রিম শীতকালের অপরিহার্য সঙ্গী।

শীতে ব্যবহারের জন্য হ্যান্ডক্রিম বাছাই করার সময় উপাদানের দিকে নজর দেওয়া উচিত। শিয়া বাটার, কোকো বাটার, গ্লিসারিন, ভিটামিন ই, বাদাম তেল বা নারকেল তেলযুক্ত হ্যান্ডক্রিম শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এই উপাদানগুলি ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায় এবং দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় রাখে। অ্যালকোহলযুক্ত বা অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত হ্যান্ডক্রিম সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শীতকালে মাইল্ড ও পুষ্টিকর হ্যান্ডক্রিম ব্যবহার করাই শ্রেয়।

হাত ধোয়ার পরপরই হ্যান্ডক্রিম ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর। এতে ত্বকের আর্দ্রতা লক হয়ে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে ঘন হ্যান্ডক্রিম লাগিয়ে নিলে সারারাত ত্বক পুষ্টি পায়। প্রয়োজনে তুলোর দস্তানা পরে ঘুমোলে ফল আরও ভালো হয়। দিনে বাইরে বেরোনোর আগে এবং স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরেও হ্যান্ডক্রিম লাগানো উচিত। এতে হাতের ত্বক রুক্ষ হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

শীতকালীন রূপচর্চায় পারফিউম ও হ্যান্ডক্রিমের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় তৈরি করা যায়। অনেক ব্র্যান্ড একই সুগন্ধের পারফিউম ও হ্যান্ডক্রিম তৈরি করে। এতে সুগন্ধ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ না করে বরং পরিপূরক হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, ভ্যানিলা বা ফ্লোরাল নোটের হ্যান্ডক্রিমের সঙ্গে একই ধরনের পারফিউম ব্যবহার করলে একটি পরিমিত ও মার্জিত সুগন্ধ তৈরি হয়। যাঁরা কেমিক্যালযুক্ত পণ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাঁরা প্রাকৃতিক উপায়েও শীতে হাতের যত্ন নিতে পারেন। অলিভ অয়েল, বাদাম তেল বা নারকেল তেল রাতে হাতে মালিশ করলে শুষ্কতা কমে। একইভাবে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে হালকা সুগন্ধও পাওয়া যায়। তবে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের আগে অবশ্যই ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া উচিত।

শীতকালীন রূপচর্চা মানেই শুধু উষ্ণ পোশাক নয়, বরং ত্বকের গভীর যত্ন। সঠিক পারফিউম ব্যক্তিত্বে আনে আলাদা মাত্রা, আর হ্যান্ডক্রিম রক্ষা করে হাতের কোমলতা ও সৌন্দর্য। নিয়মিত ও সচেতন ব্যবহারে শীতের রুক্ষতাকে সহজেই জয় করা যায়। তাই এই শীতে নিজের যত্নে একটু বাড়তি মনোযোগ দিন সুগন্ধে ও স্পর্শে থাকুক উষ্ণতার ছোঁয়া।

Archive

Most Popular