প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
জার্সি নম্বর দশ। এই দশ নম্বরের জার্সি পরে খেলে নামযশও পেয়েছেন, এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যাও কম না। অনেকে মনে করেন, এই ১০ নম্বর জার্সি শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রেরণা।
১। পেলে
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো, সারা বিশ্বে যিনি পেলে নামে বিখ্যাত, তাঁর জার্সি নম্বর ১০। চার দশকেরও বেশি সময় আগে ১৯৭৭ সালে অবসর নেওয়ার পরেও সাবেক এই খেলোয়াড় সারা দুনিয়ায় এখনও সবচেয়ে পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের একজন। সম্প্রতি তাঁকে আমরা হারালাম। তিন তিনবার বিশ্বকাপ জয়। এছাড়াও তিনি তাঁর ক্লাব ও দেশের হয়ে ১,৩৬৩ টি ম্যাচ খেলে মোট ১,২৮১ টি গোল করেছেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। ফুটবল খেলায় পেলে যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন সেটা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার গল্প ছড়িয়ে আছে খেলাধুলার বাইরের জগতেও। অনেকে বলেন, কখনও ইউরোপীয় কোনও ক্লাবের হয়ে না খেলার কারণে ব্রাজিলের এই ফুটবল তারকার জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছিল।
২। নেইমার
নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র। সাধারণত নেইমার নামে পরিচিত। ব্রাজিলীয় পেশাদার ফুটবলার, যিনি ফরাসি ক্লাব পারি সা-জেরমা এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে হিসেবে খেলেন। তাকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়। নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। তাঁর জার্সি নম্বর ১০।
৩।মেসি
লিওনেল আন্দ্রেস 'লিও মেসি' আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়, যিনি মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট সাতবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়। যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন। তিনি ১০ নম্বর জার্সি-ই পরতেন।
৪। মারাদোনা
মারাদোনা তার খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময় আরজেন্টিনস জুনিয়রস এবং নাপোলির হয়ে একজন মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। তাঁকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে, আর্জেন্টিনীয় ফুটবল ক্লাব এস্ত্রেয়া রোহার যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে মারাদোনা ফুটবল জগতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে লস সেবোয়িতাস এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের যুব দলের হয়ে খেলার মাধ্যমেই তাঁর ফুটবল খেলায় বিকাশ ঘটে। ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জয়লাভ করার ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে মারাদোনার করা উভয় গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলা খেলোয়াড়।
৫। কাকা
রিকার্দু ইজেকসোঁ দুসাঁন্তুস লেইচি, যিনি কাকা নামেই সমধিক পরিচিত, তিনি ব্রাজিলীয় ফুটবল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় এবং বর্তমানে তিনি অরল্যান্ডো সিটি সকার ক্লাবে খেলেন। জার্সি পরেন ১০ নম্বরের। তিনি আট বছর বয়সে একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। সে সময়ে তিনি টেনিসও খেলতেন। পনেরো বছর বয়সে সাও পাওলো এফ সির সাথে পেশাদারী চুক্তি করার পরই তিনি ফুটবল খেলাকে ক্যারিয়ার হিসাবে বেছে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৭ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার লাভ করেন।
৬। কিলিয়ান এমবাপে
কিলিয়ান এমবাপে লোতাঁ হলেন একজন ফরাসি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে ফ্রান্সের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লিগ ১-এর ক্লাব পারি সাঁ- জেরমা এবং ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। মূলত কেন্দ্রীয় আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে ডান পার্শ্বীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে, ফরাসি ফুটবল ক্লাব বন্দির যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে এমবাপে ফুটবল জগতে প্রবেশ করেছেন। তিনি ফ্রান্সের হয়ে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা।
৭। লুকা মড্রিচ
লুকা মড্রিচ একজন ক্রোয়েশিয়ান পেশাদার ফুটবলার, যিনি লা লিগা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। তিনি ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের অধিনায়ক। তিনি প্রধানত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন, তবে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবেই বিবেচিত হন। তিনিও পরতেন ১০ নম্বর জার্সি।
৮। মার্কো আসেন্সিও উইলেমসেন
জন্ম ২১ জানুয়ারি ১৯৯৬। মার্কো আসেন্সিও নামে সুপরিচিত। একজন স্পেনীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। বর্তমানে স্পেনের পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লা লিগার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং স্পেন জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি মূলত ডান পার্শ্বীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে বাম পার্শ্বীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলে থাকেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে, স্পেনীয় ফুটবল ক্লাব পাতজেস কালভিয়ার যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে আসেন্সিও ফুটবল জগতে প্রবেশ করেছেন।
৯। ভিনসেন্ট আবু বকর
ভিনসেন্ট আবু বকর একজন ক্যামেরুনীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবীয় ক্লাব আল নাসর এবং ক্যামেরুন জাতীয় দলের হয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে, ক্যামেরুনীয় ফুটবল ক্লাব কোতোঁর যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে আবু বকর ফুটবল জগতে প্রবেশ করেছেন এবং এই দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি ফুটবল খেলায় বিকশিত হয়েছেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে, কোতোঁর মূল দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছেন।
১০। জিনেদিন জিদান
জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান একজন ফরাসি পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। এবং ম্যানেজার। তিনি বর্তমানে স্পেনীয় পেশাদার ফুটবল লিগের শীর্ষ স্তর লা লিগার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময় রিয়াল মাদ্রিদ, ইয়ুভেন্তুস, বর্দো এবং ফান্স জাতীয় দলের হয়ে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। তিনি মূলত একজন আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে বাম-পার্শ্বীয় মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে থাকেন।