বিনোদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
করবা শব্দের অর্থ কড়াই এবং চৌথ মানে চতুর্থী তিথি। এই দুয়ে মিলে ব্রতের নামকরণ। স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই ব্রত করা হয় কার্তিক মাসের প্রথম পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতে।
এই ব্রতে কড়াইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা ব্রত রাখেন, তাঁরা নতুন কড়াই কেনেন। সেখানে রাখেন নতুন কাপড়, কাচের চুড়ি এবং বাড়িতে তৈরি মুখরোচক খাবার ও মিষ্টি। একে অন্যের সঙ্গে সেই কড়াই আদানপ্রদানও করেন তাঁরা।
এটি মূলত উত্তর ও উত্তর পশ্চিম ভারতে পালনীয় ব্রত। রীতি হল, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত ব্রতীরা কিছু খাবেন না। এমনকি, জলপানও নিষিদ্ধ। তাই সূর্যোদয়ের আগে বিবাহিতারা খেয়ে নেন। সাধারণত সেই খাবার তাঁকে বানিয়ে দেন তাঁর শাশুড়ি। একে বলে সারগি। এতে থাকে দুধ, ফল, মিষ্টি, ড্রাই ফ্রুটস, শাড়ি, গয়না ও মেক-আপের জিনিসপত্র।
পুজোর নিয়ম:
এইদিন মাতা পার্বতী, শিব, গনেশ, কার্তিক ও চন্দ্র দেবতার পুজো করার নিয়ম আছে। সকালে স্নান করার পর, মহিলারা হাতে জল নিয়ে ব্রত শুরু করেন। মাটি দিয়ে গৌরী ও গনেশের মূর্তির তৈরি করা হয়। এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে গৌরীর কোলেই গণেশ থাকে। এরপর মাতা গৌরীকে সাজিয়ে দিন। তারপর সামনে জলে ভরা কলসি রাখুন। তারপর করবা অর্থাৎ একটি মাটির হাঁড়িতে গম এবং চিনি পূর্ণ করুন। তার উপর দক্ষিণা রাখুন এবং রোলি করার পরে স্বস্তিকা তৈরি করুন।
সন্ধেবেলায় হয় পুজো। তখন বিবাহিত মহিলারা এক জায়গায় জড়ো হয়ে করবা চৌথ উপবাসের গল্প শোনেন। কথা পাঠের সময় হাতে তেরো দানা গম বা চাল রাখুন। কথা পাঠের শেষে গৌরী মাকে তা প্রদান করুন। পুজোর পর চাঁদ দেখার পালা। রাতে চাঁদের আরতি করুন। চন্দ্রের পুজোর পর স্বামীর হাতে জল পান করে উপবাস ভঙ্গ করুন।