19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

রাতে ঘুম নেই? কারণ হতে পারে ফ্যাটি লিভার!

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


লিভারে ফ্যাট জমার ঘটনাকে বলে ফ্যাটি লিভার। এক্ষেত্রে দুই ধরনের ফ্যাটি লিভার হতে পারে- অ্যালকোহোলিক এবং নন অ্যালকোহোলিক। মদ্যপানের কারণে যেই ফ্যাটি লিভার হয় তাকে অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলে। আর অপরদিকে রয়েছে নন অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার রোগটি। এই রোগটির নেপথ্যের কারণ মদ্যপান নয়। এক্ষেত্রে নিয়মিত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া, নুন খাওয়া, তেল- মশলা বেশি খাওয়া ইত্যাদি কারণে এই ধরনের ফ্যাটি লিভার রোগটি বেশি দেখা যায়।

অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের থেকেও এই নন অ্যালকোহলিক ধরন নিয়েই এখন সবার চিন্তা। এই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ডায়াবিটিস থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা, বিপাকীয় নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সাবধান হওয়া ছাড়া কোনও গতি নেই। লিভার বহু হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন সারা শরীরে কাজ করে। তারপর কাজ শেষ হলে লিভারকে জানিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এভাবে শরীরে থাকে হরমোনের ভারসাম্য। তবে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থাকলে এই হরমোন নিষ্ক্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে দেখা দেয় সমস্যা।

ঘুমের সমস্যা হয় কীভাবে?

প্রথমেই আমাদের জেনে নিতে হবে ব্যক্তি কি আগে থেকেই উৎকণ্ঠা বা স্ট্রেসের মতো সমস্যায় ভুগছেন? উত্তর হ্যাঁ হলে তাঁর শরীরে ইতিমধ্যেই বেড়ে রয়েছে কর্টিসল হরমোন। এবার এই হরমোন শরীরে বেড়ে থাকলে লিভারকে এই হরমোন নিষ্ক্রিয় করার জন্য বেশি করে খাটতে হয়। এই কারণে গোটা দিনই লিভার বেশ খাটাখাটনি করে চলে। এভাবে খাটাখাটনি করার কারণে লিভার কর্টিসল এবং মেলাটোনিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার ফলে দেখা দেয় ঘুমের সমস্যা। গবেষণা বলছে, সারাদিন যাঁরা ক্লান্ত থাকেন তাঁদের রাতের বেলায় উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে কোনও রোগীর যদি প্রায়ই রাত ১টা থেকে ৩ টের মধ্যে ঘুম ভেঙে যায় তবে বুঝতে হবে তাঁর লিভারেই সমস্যা আছে। এই গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে। এই গবেষকদল সিরোসিস রোগী এবং ঘুমের সমস্যা নিয়ে বিশেষভাবে গবেষণা করেন।

এক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার থেকে ঘুমের এই সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে

১. ঘুম চলে যাওয়া।

২. ঘুমাতে না পারা।

৩. সকালে ঘুম পাওয়া।

৪. ঘুমের চক্র বদলে যাওয়া।

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনও সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে একটি আলট্রাসাউন্ড টেস্টই বলে দেবে আপনার এই সমস্যা রয়েছে কিনা।

এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে

১. খেতে হবে শাক, সবজি

২. খাওয়ার তালিকায় যোগ করুন ফল

৩. পান করুন গ্রিন টি

৪. সারাদিনে অন্তত পক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। ব্যায়ামের মাধ্যমেই অনেক সমস্যার হবে সমাধান

৫. আর সমস্যা বেশি মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনাকে সমস্যা মুক্তির রাস্তা দেখাবেন।

Archive

Most Popular