19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বাজারচলতি ফেশিয়াল কিটের বদলে বাড়িতে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চা !

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


ত্বক আমাদের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফেসিয়াল, ক্রিম বা বডি লোশন ব্যবহার করেও অনেক সময় ত্বক চটচটে বা উজ্জ্বল হয় না। শহরের ধুলো, দূষণ, সূর্যের ক্ষতি, স্ট্রেস সব মিলিয়ে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাজারে পাওয়া ফেশিয়াল কিট বা প্রি-মেড ডার্মাটোলজিকাল প্রোডাক্টে সহজ সমাধান মনে হলেও অনেকেই লক্ষ্য করেন, দীর্ঘমেয়াদে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যায়, অ্যালার্জি হতে পারে বা কৃত্রিম রাসায়নিকের কারণে সমস্যা বাড়ে।

এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ উপায় হলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা। বাড়িতে সহজলভ্য উপাদান যেমন মধু, দই, অলিভ অয়েল, পেঁয়াজ, লেবু, শসা, হালকা মসলা ইত্যাদি দিয়ে নিজেই ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। এগুলো ত্বককে কোমল, উজ্জ্বল এবং ফ্রেশ রাখে। প্রাকৃতিক ফেসিয়াল কিট বানানো সহজ এবং এটি ত্বকের উপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করে।

প্রথমে, ক্লিনজিং। মুখ পরিষ্কার রাখা ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধোয়ার সঙ্গে এক চিমটি চালের ময়দা বা ওটমিল মিশিয়ে ব্যবহার করলে মৃত ত্বক দূর হয় এবং ত্বক নরম হয়। এটি বাজারের ফেস ওয়াশের বিকল্প হতে পারে।

দ্বিতীয়ে, এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাব। মৃত কোষ দূর করা ত্বককে জেল্লা দেয়। বাড়িতে চিনি + অলিভ অয়েল + লেবুর রস দিয়ে স্ক্রাব বানানো যায়। সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহারে ত্বক সতেজ, নরম এবং উজ্জ্বল থাকে। এছাড়া চালবাটা ও দই ব্যবহার করেও প্রাকৃতিক স্ক্রাব তৈরি করা যায়।

তৃতীয় ধাপ ময়শ্চারাইজিং বা আর্দ্রতা। বাজারের কৃত্রিম ক্রিমের পরিবর্তে মধু, অ্যালোভেরা জেল বা নারকেল তেল ব্যবহার করলে ত্বককে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দেওয়া যায়। মধু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যালোভেরা ত্বককে শান্ত ও ঠাণ্ডা রাখে, নারকেল তেল হালকা লেপ হিসাবে ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে।

চতুর্থে ফেসিয়াল মাস্ক। বাড়িতে সহজলভ্য উপাদান দিয়ে সপ্তাহে ১–২ বার মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ:

শসা + দই + হালকা মধু: ত্বক ঠাণ্ডা রাখে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

পেঁয়াজের রস + দই: সূক্ষ্ম বলিরেখা হ্রাস করে এবং ত্বক জেল্লা দেয়।

ওটমিল + দই + লেবুর রস: স্কিন টোন সমান করে এবং ফেসিয়ালকে ফ্রেশ রাখে।

প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চার আরও সুবিধা হলো এগুলি সহজলভ্য, খরচ কম এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে রাসায়নিকের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক স্বাস্থ্যবান, উজ্জ্বল এবং কোমল হয়। এছাড়া, বাজারের কিটের মতো অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার ঝুঁকি থাকে না।

এছাড়া, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই বাড়ির প্রাকৃতিক ফেসিয়াল কার্যকর হয়। যেমন, মাস্ক বা স্ক্রাব ব্যবহার করার আগে ত্বকের টেস্ট করা, সূর্যের রোদে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত জলপান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এই সব উপায় মিলিয়ে ত্বক দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও সুস্থ থাকে। বাজারের ফেশিয়াল কিট ব্যবহার না করেও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। বাড়িতে সহজলভ্য উপাদান যেমন দই, মধু, অলিভ অয়েল, শসা, লেবু বা পেঁয়াজ দিয়ে ত্বক সতেজ, উজ্জ্বল এবং কোমল রাখা যায়। নিয়মিত প্রাকৃতিক রূপচর্চা ত্বককে রাসায়নিকের প্রভাব থেকে রক্ষা করে, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সুন্দরত্ব বজায় রাখে। তাই আজই শুরু করুন প্রাকৃতিক রূপচর্চা এবং আপনার ত্বককে দিন নতুন জীবন।

Archive

Most Popular