প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
সেগুন কাঠের আসবাবপত্র তার দৃঢ়তা, টেকসই গঠন এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এটি প্রাকৃতিক তেলযুক্ত হওয়ায় সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে মজবুত থাকে। তবে সঠিক যত্নের অভাবে কাঠের রঙ ফিকে হয়ে যেতে পারে, ফাটল দেখা দিতে পারে বা পোকার আক্রমণের শিকার হতে পারে। তাই সেগুন কাঠের আসবাবপত্র দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য নিয়মিত পরিষ্কার, রোদ ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা এবং পলিশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে যত্ন নিলে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকতে পারে এবং ঘরের শোভা বাড়াতে পারে।
সেগুন কাঠের আসবাবপত্র দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হলেও নিয়মিত যত্ন না নিলে এর সৌন্দর্য ও মান কমে যেতে পারে। নিচে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর যত্নের উপায় দেওয়া হলো:
১. নিয়মিত পরিষ্কার করা
শুকনো কাপড়: প্রতিদিন নরম ও শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলো পরিষ্কার করুন।
সাবান জল: মাসে একবার হালকা সাবান জল ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে মুছুন, তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।
পলিশ বা ওয়্যাক্স: প্রতি ছয় মাসে একবার ভালো মানের কাঠের পলিশ বা ওয়্যাক্স ব্যবহার করলে আসবাব নতুন দেখাবে।
২. আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করা
খুব আর্দ্র জায়গায় রাখলে কাঠ ফাটতে বা ফুলে যেতে পারে, তাই শুকনো পরিবেশে রাখুন। অতিরিক্ত শুষ্ক জায়গায় রাখলে কাঠ সংকুচিত হতে পারে, তাই মাঝে মাঝে কাঠের তেল ব্যবহার করুন।
৩. সূর্যালোক ও তাপ থেকে সুরক্ষা
সরাসরি রোদে রাখবেন না, এতে কাঠের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। চুলা, হিটার বা গরম বাতাসের উৎস থেকে দূরে রাখুন।
৪. দাগ ও স্ক্র্যাচ প্রতিরোধ করা
গরম বস্তু (কাপ, প্লেট) সরাসরি না রেখে কোটার ব্যবহার করুন। নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে দাগ উঠানোর চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে তেল ব্যবহার করুন।
৫. কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষা করা
কাঠের পোকা বা উইপোকা এড়াতে নিয়মিত কাঠের ওষুধ (বোরিক অ্যাসিড, অ্যান্টি-টার্মাইট স্প্রেকাঠের আসবাবপত্রে উই বা অন্য পোকামাকড় যেন না লাগে, সে জন্য মাঝে মাঝে অ্যান্টি-টার্মাইট স্প্রে ব্যবহার করুন। যদি পোকার আক্রমণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৫. সঠিকভাবে স্থানান্তর করা
আসবাবপত্র টান দিয়ে সরানো উচিত নয়, বরং উঁচু করে ধরে সরান, এতে কাঠ ও সংযোগস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই যত্নের নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনার সেগুন কাঠের আসবাবপত্র অনেক বছর ধরে সুন্দর ও মজবুত থাকবে।