19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বাবা হওয়া কি মুখের কথা?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


পিতৃত্বকালীন ছুটি হলো সন্তানের জন্মের সময় বা জন্মের পর নতুন বাবার জন্য দেওয়া একটি বিশেষ ছুটি। এটি কর্মজীবী পিতাদের তাদের নবজাতকের যত্ন নেওয়ার সুযোগ ও করে দেয়। পিতৃত্বকালীন ছুটি আধুনিক কর্মসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা পিতাকে তার নবজাতক সন্তান ও স্ত্রীকে সহায়তা করার সুযোগ দেয়। পরিবার গঠনের এই সংবেদনশীল সময়ে বাবার উপস্থিতি শুধু পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে না, বরং সন্তানের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজে যতই পরিবারে সমতা ও দায়িত্ব ভাগাভাগির ধারণা বাড়ছে, ততই পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। পিতৃত্বকালীন ছুটি কেন প্রয়োজন, এর সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনায় টিম অনন্যা। 

ভারতে পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনীয়তা

পিতৃত্বকালীন ছুটি শুধু কর্মীর সুবিধার জন্য নয়, বরং এটি পরিবারের সুস্থ বিকাশ এবং সামগ্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর কিছু মূল কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—

১. নবজাতক ও মায়ের যত্নে সহায়তা

শিশুর জন্মের পর মা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন এবং তাঁকে বিশ্রাম ও সঠিক যত্নের প্রয়োজন হয়। পিতা যদি এই সময় পাশে থাকেন, তাহলে মা ও শিশুর যত্ন নিতে সাহায্য করতে পারেন।

২. বাবা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠা

জন্মের প্রথম কয়েক মাস শিশুদের মানসিক ও আবেগিক বিকাশের জন্য বাবা-মায়ের উভয়ের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় পিতার যত্ন শিশুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মজবুত করে।

৩. লিঙ্গ সমতা (Gender Equality) নিশ্চিত করা

নারীরা সাধারণত মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, কিন্তু পুরুষরা ছুটি না পেলে সমস্ত দায়িত্ব মায়ের ওপর পড়ে। পিতৃত্বকালীন ছুটি দিলে বাবা-মা দুজনেই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন, যা সমাজে লিঙ্গ সমতার উন্নয়ন ঘটায়।

৪. কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি

অনেক বাবা সন্তান জন্মের পর কাজের চাপের কারণে মানসিকভাবে চাপে থাকেন। ছুটি থাকলে তাঁরা পরিবারকে সময় দিতে পারেন এবং কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ হতে পারেন।

৫. পরিবারকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখা

নবজাতকের জন্ম পরিবারে নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাবা যদি প্রথম দিকে পাশে থাকেন, তাহলে মা ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।

৬. আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ

অনেক উন্নত দেশে (যেমন সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা) পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক, যা পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভারতেও যদি এটি বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আধুনিক ও মানবিক নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

ভারতে এখনো পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যাপারে পর্যাপ্ত আইন নেই, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজের সুস্থ বিকাশের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হলে বাবা-মা দুজনেই সন্তানের যত্ন নিতে আরও ভালোভাবে সক্ষম হবেন। বর্তমান যুগে একটি সন্তানের জন্ম শুধুমাত্র মায়ের একক দায়িত্ব নয়; পিতার অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মক্ষেত্রে পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা শুধু একটি মানবিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রতীক। সরকারের পাশাপাশি সকল প্রতিষ্ঠানের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা এবং কর্মীদের জন্য একটি সহানুভূতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

Archive

Most Popular