রান্নাঘর
নিজস্ব প্রতিনিধি
তীব্র গরমে শরীর ক্লান্ত, জলের ঘাটতি, অস্থিরতা সব মিলিয়ে অবস্থা হাঁসফাঁস। এসময় শরীর ঠান্ডা রাখতে, পুষ্টি জোগাতে এবং হজম ঠিক রাখতে প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির বাড়িতে ছাতুর শরবতের চল ছিল। আধুনিক এনার্জি ড্রিঙ্ক বা সোডা পানীয়-এর ভিড়ে ছাতুর শরবতের মত উপকারী দেশি পানীয় আজও প্রাসঙ্গিক। শুধু গরমে তৃষ্ণা মেটানোই নয়, এতে রয়েছে প্রচুর উপকারিতা।
ছাতুর শরবতের উপাদান:
ছাতু মূলত ভাজা ছোলা বাটা। সাধারণত এতে মেশানো হয়
ঠান্ডা জল
চিনি বা গুড়
লবণ বা বিট লবণ
দই বা ঘোল (ঐচ্ছিক)
সামান্য আদা কুচি বা ভাজা জিরে গুঁড়ো (স্বাদের জন্য)
গরমে ছাতুর শরবতের উপকারিতা:
১. শরীর ঠান্ডা রাখে:
ছাতু ঠান্ডা প্রকৃতির। গরমে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে। ঘামঝরা ক্লান্ত দুপুরে এক গ্লাস ছাতুর শরবত শরীরকে শান্তি দেয়।
২. জলের অভাব পূরণ করে:
এটি একসাথে জল ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহ করে, ফলে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে কার্যকর।
৩. শক্তি যোগায়:
ছোলার মধ্যে থাকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। একগ্লাস ছাতুর শরবত অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং দ্রুত এনার্জি দেয়।
৪. হজমে সহায়ক:
ভাজা ছোলায় ফাইবার থাকায় হজমে সুবিধা হয়। আদা বা জিরে মেশালে পেটের গ্যাস বা অস্বস্তিও কমে।
৫. ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ভালো (গুড় ছাড়া):
চিনি বা গুড় না মিশিয়ে খেলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপযোগী। এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।
৬. ত্বক ও চুলের জন্য ভালো:
ভিটামিন বি, আয়রন ও জিঙ্ক থাকে, যা গরমে ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
গ্রীষ্মে শরীরকে চাঙ্গা রাখার জন্য দামী কৃত্রিম পানীয়ের দরকার নেই প্রাচীন বাঙালির ছাতুর শরবতই যথেষ্ট। পুষ্টিকর, সহজলভ্য এবং উপকারী এই পানীয় আজও সমান প্রাসঙ্গিক। রোজকার খাদ্যাভ্যাসে একগ্লাস ছাতুর শরবত যোগ করলে গ্রীষ্ম কাটবে অনেক বেশি স্বস্তিতে ও স্বাস্থ্যকরভাবে। এই গরমে, একগ্লাস ছাতুর শরবত হোক আপনার ঠান্ডা আশ্রয়।