বিনোদন
এলিজা
গরম আবার পড়ে গেলো, আর এখানে তো গরম মানেই হিউমিডিটি আর প্যাচপ্যাচে ঘাম। ওয়ার্ক ফ্রম হোম আইডিয়াটা বেশ ভালই ছিল কিন্তু এখন অনেক অফিসই ওয়ার্ক ফ্রম হোম তুলে দিয়ে আবার এমপ্লয়ীদের অফিসে ডেকে নিচ্ছে সুতরাং গরমের মধ্যেও অফিসে যেতে হচ্ছে প্রায় অনেক মানুষকে। আর গরমে অফিস যাওয়ার কথা ভাবলেই মনে হয় ঘেমে নিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে অফিসে পৌঁছনো , যেটার অর্থই হলো কাজ শুরু হওয়ার আগেই টায়ার্ড হয়ে যাওয়া, কিংবা হয়তো থাকা যেতে পারে একেবারেই কুল এন্ড কনফিডেন্ট। তাও কি সম্ভব যদি সম্ভব হয় তাহলে কিভাবে? তারই কিছু আইডিয়া শেয়ার করলাম এবার অফিস যাত্রা যেন গরমে আস্তে আস্তে গ্রিল হয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা।
এই পরিস্থিতিতে পুরোপুরি ঠান্ডা থাকা সম্ভব নয়, কিন্তু বুদ্ধি করে পোশাক নির্বাচন করলে গরমের কষ্ট অনেকটাই কমানো যায় — আর প্রফেশনাল লুকটাও সুন্দরভাবে ধরে রাখা যায়।
গরমকালে অফিসের জন্য স্টাইলের তিনটে মূল মন্ত্র:
ফ্যাব্রিক, ফিট আর ফিনেস।
১. ফ্যাব্রিক নির্বাচন: পোশাককেই শ্বাস নিতে দিন
ভারতের গরমে প্রথম কাজ হলো এমন কাপড় বেছে নেওয়া যা বাতাস চলাচল করতে দেয়:
লিনেন: হালকা, আরামদায়ক আর ক্যাজুয়াল ক্রিজ সহ লুক। লিনেন-সুতির মিশ্রণ বা আইরিশ লিনেন নিলে আরও ভালো।
স্মার্ট কটন: পাতলা ও হালকা বোনা কটন — যেমন চামব্রে, সিয়ারসাকার বা ম্যাডরাস কটন।
অন্যান্য বিকল্প: হপস্যাক (খোলা বুননের ব্লেজার ফ্যাব্রিক), ভিসকোস, হ্যাম্প বা সিয়ারসাকার।
স্মার্ট টিপ:
ডেনিমের জিন্স বাদ দিয়ে লিনেন বা পাতলা কটনের প্যান্ট বেছে নিন। পলিয়েস্টার ড্রেসের বদলে সুতির ফ্রক বা টপ পরুন।
২. ফিটের ব্যাপার: ঢিলেঢালা কিন্তু গোছানো
গরমে খুব টাইট জামা-কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরামদায়ক হলেও ফিট যেন স্মার্ট থাকে — ঢিলেঢালা, কিন্তু অগোছালো না।
শার্ট: হালকা বক্সি ফিট, ঢিলেঢালা হাতা। কিউবান কলার বা ব্যান্ড কলার ট্রাই করতে পারেন।
ট্রাউজার: সিগারেট প্যান্ট বাদ দিন, প্লিটেড বা ঢিলেঢালা কাটের ট্রাউজার নিন। অ্যাঙ্কেল-লেংথ হলে বেশি আরাম পাবেন।
ব্লেজার: হালকা অনস্ট্রাকচার্ড ব্লেজার (যেমন হপস্যাক বা ট্রপিক্যাল উলে তৈরি) নিন যাতে অতিরিক্ত গরম না লাগে সম্ভব হলে গ্রীষ্ম কালে ব্লেজার পরা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৩. রঙ নির্বাচন: হালকা রঙে ভরসা রাখুন
গরমে হালকা ও প্যাস্টেল রঙের জামা-কাপড় পরুন:
প্যাস্টেল শেড: ল্যাভেন্ডার, মিন্ট, পাউডার পিঙ্ক, বেবি ব্লু।
কনট্রাস্ট প্লে করুন: হালকা ট্রাউজারের সাথে একটু মিড-টোন শার্ট পরুন — যেমন খাকি শার্টের সাথে অফ-হোয়াইট চিনো।
টিপস:
কালো রঙ এড়িয়ে চলুন যদি না আপনি পুরো সময় এয়ারকন্ডিশন্ড রুমে থাকেন।
৪. স্টাইলিং ম্যানেজমেন্ট: কম টুকরোতে বেশি স্টাইল
গরমে লেয়ারিং কম করুন। তার বদলে টেক্সচার বা প্যাটার্ন দিয়ে স্টাইল বাড়ান:
টেক্সচার: লিনেন, সিয়ারসাকার, হপস্যাকের মত হালকা কাপড় ব্যবহার করুন।
প্যাটার্ন: মাইক্রো-চেক, সফট ফ্লোরাল বা হালকা পিনস্ট্রাইপ যুক্ত জামা পরুন।
৫. স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ: কম হলেও স্টাইলিশ
কম অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহার করুন কিন্তু স্টাইল ঠিক রাখুন:
বেল্ট: টেক্সচারড লেদার বেল্ট (যেমন DIESEL B-LINE বেল্ট)।
ব্যাগ: স্লিম ব্রিফকেস (যেমন Tom Ford গ্রেইন্ড লেদার ব্রিফকেস)।
ঘড়ি: মিনিমাল ডিজাইনের ঘড়ি।
৬. সঠিক জুতো নির্বাচন: আরাম আর স্টাইল একসাথে
গরমে পায়ের আরাম ভীষণ জরুরি। সঠিক জুতো নির্বাচন আপনাকে অনেক কষ্ট থেকে বাঁচাবে:
লোফার (সুয়েড বা ক্যানভাস):
Ralph Lauren Purple Label সুয়েড লোফার
Dior Granville লোফার
Christian Louboutin ক্যানভাস লোফার
ডার্বি সুজ:
Nappa Dori সুয়েড ডার্বি
Tom Ford ডেজার্ট বুটস
মিউলস/কোলাপুরি (কম ফরমাল অফিসের জন্য):
Tod Gommino মিউলস
Bottega Veneta Sunday মিউলস
ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা টিপস
ছেলেদের জন্য:
হালকা রঙের সুতি বা লিনেনের ফুল হাতা বা হাফ হাতার শার্ট
পাতলা ট্রাউজার বা চিনো প্যান্ট
ক্লোজড-টো জুতো (লোফার/ডার্বি)
মেয়েদের জন্য:
হালকা রঙের সুতির শাড়ি, সালওয়ার কামিজ, কুর্তি-পালাজো
হালকা ব্লাউজের সাথে স্কার্ট বা ট্রাউজার
ফ্ল্যাট বা লো হিলের জুতো (কম ফরমাল হলে খোলা স্যান্ডেলও চলবে)
গরম যতই ভয়ঙ্কর হোক, স্মার্ট কাপড় নির্বাচন, সঠিক ফিট আর স্টাইল সেন্স থাকলে আপনি গরমেও থাকবেন কুল, কম্পোজড আর কনফিডেন্ট।
ফলাফল — অফিসে প্রথম নজর কেড়ে নেবেন, আর গরমের কষ্টটাও অনেক কম লাগবে!