স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকৃতির উপর প্লাস্টিকের প্রভাব কতটা ভয়াবহ, তা আজ আর নতুন করে বোঝানোর কিছু নেই। দূষণ ছড়ানো ক্ষতিকর উপাদানগুলির মধ্যে শীর্ষে এই প্লাস্টিক। বিশ্ব উষ্ণায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক জীবনের সংকট সবকিছুর মূলে কোথাও না কোথাও জড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক। তবে শুধু পরিবেশ নয়, এই বস্তুটি আজ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে মানবদেহকেও।
বিজ্ঞানীরা আগেও রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি চিহ্নিত করেছিলেন। এবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আরও সূক্ষ্ম অথচ বিধ্বংসী এক রূপ ন্যানোপ্লাস্টিক। নামমাত্র আকারে হলেও, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রতিদিন নানা উপায়ে আমাদের শরীরে ঢুকে পড়ছে প্লাস্টিকের অণু-কণাগুলি। খালি চোখে দেখা না গেলেও, তা জমা হচ্ছে রক্তে, অন্ত্রে, এমনকি মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণের প্লাসেন্টাতেও।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় মৃতদেহের মস্তিষ্কে বিশ্লেষণ চালিয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। যাঁরা ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়ুজনিত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের মস্তিষ্কে ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। অর্থাৎ, নিয়মিত প্লাস্টিক প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে আমাদের মস্তিষ্কও ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে পারে।
২০১৬ সালের তুলনায় আজ মানবদেহে পাওয়া প্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। গবেষণা বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে আজ ৯৯.৫ শতাংশ জৈব উপাদানের সঙ্গে মিশে রয়েছে ০.৫ শতাংশ প্লাস্টিক। এক সময়ে এই হার ছিল মাত্র ০.০৫ শতাংশ। এই পরিবর্তন নিঃশব্দে আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দিচ্ছে, বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্যানসার, স্নায়ুর রোগ, এমনকি বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও।
একটা বড় অংশ শরীর থেকে বেরিয়ে গেলেও, যা থেকে যায় তা শরীরের অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়ার মতো কাজ করে। আমরা প্লাস্টিক খাচ্ছি, নিঃশ্বাসে নিচ্ছি, পরছি এমন কাপড় যা প্লাস্টিকজাত—এতটাই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে এটি। অথচ এই স্বাভাবিকতার আড়ালেই জমছে মৃত্যুর বীজ। পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভয়াবহ সংকটে পড়বে। সুতরাং প্লাস্টিক ব্যবহারে রাশ টানা এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং নিজের শরীর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর এক জরুরি লড়াই।