প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
তারা কেবল পোষ্য নয় অনেকের কাছে তারা একান্ত আপন, যেন পরিবারেরই একজন। একাকিত্বে, বিষণ্ণতায় কিংবা ভগ্ন হৃদয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই চারপেয়ে সঙ্গীরা অনেক সময় জীবনের কঠিনতম অধ্যায় পেরোতে সাহায্য করে। কুকুরকে ঘিরে এমন বহু গল্পই ছড়িয়ে আছে কেউ তাঁদের সন্তান বলে ডাকেন, কেউ সাথি, কেউ বা আত্মার বন্ধু। তবে ভালোবাসার সেই বন্ধনে যেমন আবেগ জড়িয়ে, তেমনই জরুরি কিছু দায়দায়িত্বও। আর সেই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে তৈরি হতে পারে আইনি জটিলতা। সাম্প্রতিক কয়েকটি রায় তা-ই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আদালতের স্পষ্ট বার্তা: দায়িত্ব মালিকেরই
প্রথমে মুম্বইয়ের একটি নিম্ন আদালত, তারপর কলকাতা হাইকোর্ট উভয় ক্ষেত্রেই রায় এসেছে একই সুরে: পোষ্য কুকুর কাউকে কামড়ালে তার জন্য দায়ী তার মালিক। কুকুর অবোলা, তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না, কিন্তু মালিকের অবহেলায় যদি এমন কিছু ঘটে, তবে তাঁকেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পোষ্যদের প্রতি যতটা ভালবাসা, ততটাই সচেতনতা দরকার মালিকের তরফ থেকে। যদি সেই কুকুরের আচরণে অন্য কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হন, তবে তা গাফিলতির পর্যায়ে পড়ে। আজকের দিনে অনেক একক পরিবারেই পোষ্যই হয়ে উঠেছে পরম সঙ্গী। কেউ সকালে তার মুখ দেখেই শুরু করেন দিন, কেউ বা ঘুমোন তার পাশেই। তবে সন্তানকে যেমন মানুষ করতে অভিভাবককে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব নিতে হয়, ঠিক তেমনই পোষ্যকেও শেখাতে হয় সামাজিক আচরণ।
নিজের কুকুর মানুষের সঙ্গে মিশতে পারছে কি না
আদৌ সে কারও প্রতি আগ্রাসী হয়ে উঠছে কি না
সে রাস্তায় বেরোলে তার মুখে চেন পরানো আছে কি না
হাউজিং সোসাইটির নিয়ম মানা হচ্ছে কি না
একজন পোষ্যপ্রেমী হওয়ার মানে কেবল তার খাওয়া-দাওয়া বা চিকিৎসার খরচ দেওয়া নয়, বরং সামাজিক ও আইনি সচেতনতার মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ককে নিরাপদ রাখা। সম্প্রতি কলকাতা সহ দেশের নানা প্রান্তে পোষ্য কুকুরের কামড়ানোর ঘটনায় সমাজে এক বিভাজন তৈরি হয়েছে একদিকে কুকুরপ্রেমীরা, অন্যদিকে পাড়াপ্রতিবেশীদের নিরাপত্তার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ যেন একটা ভারসাম্য তৈরি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে পোষ্য রাখতেই পারেন, কিন্তু দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। সুপ্রিম কোর্টেও এই ধরনের একাধিক মামলা চলছে। কুকুরকে না হয় ‘অ্যাডপ্টেড চাইল্ড’ ভাবা গেল, কিন্তু তার আচরণের জন্য সামাজিক দায় নিতে প্রস্তুত না হলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।
পোষ্যকে মানুষ করার এই যাত্রাপথে দরকার আরও একটু সতর্কতা, একটু বেশি সচেতনতা। আইন যেমন মানুষের অধিকারের সুরক্ষা দেয়, তেমনই অন্য মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে চায়। সেই চাহিদার জায়গা থেকেই বার বার উঠে আসছে একটাই কথা ভালবাসুন, তবে দায়িত্ব এড়াবেন না। পোষ্যরা আমাদের প্রাণ, আমাদের পরম আপন। কিন্তু সমাজে সহাবস্থান করতে গেলে সেই আপন সম্পর্কেও থাকতে হয় সংবেদনশীল ও দায়িত্ববান। শুধু ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার প্রমাণ মিলবে দায়িত্বে।