19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

চোখের কাজল না তুলেই ঘুমিয়ে পড়ছেন? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ।

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


সকাল সকাল অফিস, কলেজ বা বাইরে যাওয়ার তাড়া। ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু হয় নানা রকম কাজের ধাক্কা। তাড়াহুড়োর মধ্যে সময় খুব কম, সাজগোজের সময় হয় না বললেই চলে। তবু চোখে একটু কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক এটুকু সাজ অনেক নারীর নিত্যদিনের আত্মবিশ্বাসের জোগানদার। কিন্তু যেভাবে আমরা চোখের সাজের যত্ন নিই, তেমনভাবে কি তার যত্ন নিই ক্লান্ত দিনের শেষে?

চোখে কাজল, আরাম নয় ভবিষ্যতের অস্বস্তি?

বাড়ি ফিরে অনেকেই এতটাই ক্লান্ত থাকেন যে মেকআপ তুলতে আর আলাদা করে সময় দিতে ইচ্ছেই করে না। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়াই শেষ কাজ মনে হয়। কিন্তু চোখে লাগানো কাজল কিন্তু এত সহজে বিদায় নেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজল থেকে যায়, বিশেষ করে যদি তা ওয়াটারপ্রুফ হয়।

কাজল থাকলে কী ক্ষতি হতে পারে?

চোখের জ্বালা ও চুলকানি:

অনেকক্ষন কাজল পরা অবস্থায় থাকলে চোখে জ্বালা, চুলকানি এমনকি লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। কারণ, অধিকাংশ বাজারচলতি কাজলে থাকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান। এই রাসায়নিক চোখের ভেতরে ঢুকে গেলে সংবেদনশীল কোষে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

চোখ দিয়ে জল পড়া:

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপে তাকিয়ে কাজ করলে যেমন চোখে চাপ পড়ে এবং জল পড়ে, তেমনি কাজল থেকেও হতে পারে এমন সমস্যা। কাজল চোখের তলানিতে জমে গেলে চোখের স্বাভাবিক অশ্রুগ্রন্থি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কনজাংটিভাইটিস ও সংক্রমণ:

অবহেলায় ফেলে রাখা পুরনো কাজল পেন্সিল, বা অপরিষ্কার কাজল ব্রাশ থেকে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। এর ফলে চোখে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে, হতে পারে কনজাংটিভাইটিস বা অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি।

চোখের পাতা ঝরে পড়া:

যেমন চুলের গোড়ায় রাসায়নিক থাকলে চুল পড়ে, তেমনই রাসায়নিকযুক্ত কাজল নিয়মিত ব্যবহারে চোখের পাতার লোম ঝরে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে পাতলা হয়ে যেতে পারে চোখের পল্লব।

মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া প্রসাধনী:

অনেকেই খেয়াল না করে বছরের পর বছর কাজল ব্যবহার করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তাতে জীবাণু জন্মানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি।

যত্ন আর সচেতনতা

1. ক্লিনজার ব্যবহার করুন:

দিনশেষে শুধু ফেসওয়াশ নয়, একটি অয়েল-বেসড ক্লিনজার দিয়ে চোখের কাজল পরিষ্কার করে নিন। এটি চোখের চারপাশের ত্বককেও কোমল রাখে।

2. প্রাকৃতিক উপাদান বেছে নিন:

যদি সম্ভব হয়, রাসায়নিকমুক্ত বা অর্গ্যানিক কাজল ব্যবহার করুন। বাজারে ঘৃতকুমারী, ক্যাস্টর অয়েল, আমলকি নির্যাস-ভিত্তিক কাজল পাওয়া যায়।

3. কাজলের তারিখ দেখে কিনুন:

প্রসাধনী কেনার সময় মেয়াদ দেখে নিন। আর একবার খুলে ফেললে ছয় মাসের মধ্যে তা শেষ করে ফেলুন।

4. শেয়ার না করুন কাজল:

চোখের সংক্রমণ ছড়ায় খুব দ্রুত। তাই নিজের কাজল অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেবেন না এবং অন্যের কাজল ব্যবহারও এড়িয়ে চলুন।

5. সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন চোখকে মেকআপমুক্ত দিন দিন:

চোখের ত্বককে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিন।


চোখ আমাদের সৌন্দর্যের অঙ্গ, কিন্তু তারও আগে চোখ আমাদের দৃষ্টির জানালা। কিছুটা সচেতনতা, কিছুটা যত্ন এই দুটো থাকলে আপনি যেমন সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবেন, তেমনই চোখ থাকবে সুস্থ ও ঝকঝকে।


Archive

Most Popular