বিনোদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
ফুটবল মাঠে বিদ্যুতের মতো ছুটে চলা এক তরুণ প্রতিভা, সদ্য বিবাহিত, সদা হাস্যময় এক চেহারা দিয়োগো জোটা। কিন্তু ৩ জুলাই ২০২৫, সেই চেনা মুখ যেন চিরতরে হারিয়ে গেল। স্পেনের জামোরা প্রদেশে, এ-৫২ হাইওয়েতে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন লিভারপুল এবং পর্তুগালের জাতীয় দলের জনপ্রিয় এই ফরোয়ার্ড। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাও দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলেই।
মৃত্যুর মুহূর্ত: কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
রাত প্রায় ১২টা ৩০ নাগাদ স্পেনের সেরনাদিলা অঞ্চলের কাছে তাঁদের ল্যাম্বরগিনি গাড়ির একটি টায়ার হঠাৎ ফেটে যায়। তখন তাঁরা একটিকে ওভারটেক করছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি ধাক্কা খেয়ে সড়কের ধারে উল্টে যায় এবং মুহূর্তে আগুন লেগে যায়। স্থানীয় পুলিশের মতে, গাড়ি চালনার সময় অত্যন্ত দ্রুত গতি এবং টায়ারের বিস্ফোরণ এই দুটি কারণই মৃত্যুর প্রধান সূত্রপাত।
অকালে থেমে গেল এক প্রতিভার পথচলা
মাত্র ২৮ বছর বয়সে বিদায় নিলেন জোটা। তাঁর কাঁধেই ছিল লিভারপুলের আক্রমণের বড় ভরসা। ২০২০ সালে উলভস থেকে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর, ক্লাবের হয়ে ১৮২টি ম্যাচে ৬৫টি গোল করেছিলেন। তাঁর ঝুলিতে ছিল প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং লিগ কাপ জয়ের সাফল্য। আন্তর্জাতিক মঞ্চে, পর্তুগালের জার্সি গায়ে ৪৯ বার মাঠে নামেন, দুটি নেশনস লিগ জেতেন। মাত্র কিছুদিন আগেই, ২২ জুন ২০২৫-এ তিনি বিয়ে করেছিলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী রুতে কার্দোসোকে। তাঁদের তিনটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের মাত্র ১১ দিন পর এমন অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক পরিণতি যেন গোটা ফুটবলবিশ্বকেই হতবাক করে দিল।
লিভারপুল ক্লাব এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেছে, "এই ক্ষতি শুধুই ক্লাবের নয় ফুটবলবিশ্বের। আমরা এক অসম্ভব মেধাবী, নিরহঙ্কার, হাসিমুখ যুবাকে হারালাম।" পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কোচ জার্গেন ক্লপ, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা UEFA-সহ অসংখ্য খেলোয়াড়, ক্লাব এবং সমর্থক শোকপ্রকাশ করেছেন। আনফিল্ডে অর্ধনমিত করা হয়েছে পতাকা, খোলা হয়েছে শোকবই।
জোটার মৃত্যু শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের বিদায় নয় একটি প্রজন্মের আশা, একটি পরিবারের ভালোবাসা, এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থকের স্বপ্নের ভাঙন। তাঁর প্রাণবন্ত খেলা, সতীর্থদের প্রতি ভালোবাসা এবং মাঠের বাইরের সহজ সরল হাসিটুকু অনন্তকাল ফুটবলপ্রেমীদের মনে রয়ে যাবে।