19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

খালি পেটে অফিস চলে যান ? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ !

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালে অফিসে বেরোতে গিয়ে সকালের জলখাবার বাদ দেন। যদিও মনে হতে পারে এটি সময় বাঁচানোর একটি কৌশল, তবে খালি পেটে অফিসে যাওয়া শরীরের জন্য অনেক ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রতিবেদনে আমরা খালি পেটে অফিসে গেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে, কী ধরনের ঝুঁকি থাকে, এবং কিভাবে সহজ ও স্বাস্থ্যকর জলখাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা এড়ানো যায় তা বিশদভাবে আলোচনা করব।

প্রথমেই জানা দরকার কেন সকালের জলখাবার গুরুত্বপূর্ণ। রাতের দীর্ঘ ঘুমের পরে শরীরের গ্লুকোজ লেভেল কম থাকে। মস্তিষ্ক ও পেশী কার্যক্রমের জন্য গ্লুকোজ অপরিহার্য। খালি পেটে অফিসে গেলে শরীর গ্লুকোজের অভাবে ক্লান্ত ও অসুস্থবোধ করতে শুরু করে। এছাড়া, মস্তিষ্কে শক্তি না পৌঁছানোর কারণে মনোযোগ কমে যায়, কাজের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

গ্লুকোজের অভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব :

মস্তিষ্কের প্রায় ২০% শক্তি গ্লুকোজ থেকে আসে। সকালে খালি পেটে অফিসে গেলে গ্লুকোজের ঘাটতি হয়। ফলে মনোযোগ কমে, স্মৃতি শক্তি দুর্বল হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা মিটিংয়ে প্রভাব ফেলে।

শারীরিক ক্লান্তি ও শক্তির অভাব :

খালি পেটে চলাফেরা করলে শরীরের শক্তি কমে যায়। পেশীতে ATP বা শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। কাজের সময় দ্রুত ক্লান্তি, মাথা ভারি হওয়া, এবং হাত-পায় দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় এই অভ্যাস থাকলে পেশী ক্ষয় এবং শারীরিক দুর্বলতা হতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও হজম সমস্যা :

খালি পেটে কফি বা চা পান করলে পাকস্থলীর এসিডিক প্রভাব বাড়ে। এটি অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সকালে নাশতা করলে পাকস্থলীকে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে প্রস্তুত করা যায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

ব্লাড সুগার ফ্লাকচুয়েশন :

খালি পেটে কাজ করলে রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণহীন হয়। দীর্ঘ সময়ের জন্য এটি ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স এবং টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হঠাৎ শক্তি কমা বা মাথা ঘোরা এমন ফ্লাকচুয়েশনের সরাসরি প্রভাব।

মানসিক প্রভাব :

খালি পেটে থাকা মানসিক চাপ বাড়ায়। রাগ, চাপ, চিৎকার বা অবসাদ প্রবণতা বাড়তে পারে। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বা দলগত কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কী খেয়ে অফিসে বের হওয়া উচিত?

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার : ওটস, ফল, শাকসবজি।

প্রোটিন : ডিম, দই, বাদাম।

কম চিনি ও স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট: ব্রাউন ব্রেড, হোল গ্রেনস।

হালকা ও সহজ হজমযোগ্য : দ্রুত হজম হওয়া খাবার যেমন স্মুদি বা চিয়ারস।

দ্রুত জলখাবার এর উদাহরণ :

1. ওটমিল + বাদাম + ফল

2. ডিম ও শাকসবজি দিয়ে স্যান্ডউইচ

3. দই + গ্রেনোলা + মধু

4. ফ্রুট স্মুদি

5. বাদাম, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিডের ছোট স্মুদি বোল

অফিসে জলখাবার এর বিকল্প :

যদি বাড়িতে জলখাবার সময়মতো করা সম্ভব না হয়, অফিসে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার নেওয়া যেতে পারে। যেমন—নাটস, ফ্রুট বার, দই বা হোল গ্রেনস স্ন্যাক। এটি শক্তি এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

অন্যান্য স্বাস্থ্যকর টিপস :

সকালে প্রচুর জল পান করুন। এটি হাইড্রেশন নিশ্চিত করে এবং ক্লান্তি কমায়।

কাজের মাঝে ছোট বিরতি নিন এবং হালকা স্ট্রেচিং করুন।

চা বা কফি কম পরিমাণে পান করুন ; এতে অ্যাসিডিটি বা জ্বরের সমস্যা কম থাকে।

দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব :

সকালবেলা খালি পেটে অফিসে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি হজম সমস্যা, মানসিক চাপ, ক্লান্তি, ব্লাড সুগার ফ্লাকচুয়েশন, এবং শক্তির অভাবের জন্য দায়ী। তাই পুষ্টিকর জলখাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

সকালের জলখাবার উপেক্ষা করা শুধু সময় বাঁচানোর কৌশল নয়, বরং এটি শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মস্তিষ্কের শক্তি, পেশীর কার্যক্ষমতা, হজম, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ — সবই জলখাবারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অফিসে যাওয়ার আগে হালকা, পুষ্টিকর ও সহজ হজমযোগ্য নাশতা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সুষম  জলখাবার মস্তিষ্ক এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য রক্ষা করে। ব্যস্ত অফিস লাইফের মাঝে এটি একটি অমূল্য অভ্যাস।

Archive

Most Popular