19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা দূর করার পাঁচটি উপায়

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। এটি একটি পরিচিত সমস্যা। ভাজাপোড়া কিংবা তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলেও কারও কারও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারন করে। অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হলে ওষুধ খেয়ে নেন। তবে ঘরোয়া পাঁচটি উপায়েও এই সমস্যা দূর করা যায়। যেমন-

১। বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পেতে সাহায্য করে গুড়। বুক জ্বালাপোড়া করলে সঙ্গে সঙ্গে এক টুকরা গুড় মুখে দিন। চিবিয়ে না খেয়ে ধীরে ধীরে চুষতে থাকুন যতক্ষন না এটা গলে যায়। এতে গ্যাষ্ট্রিকের ব্যথা কমে যাবে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের এ পদ্ধতি গ্রহণ না করাই ভালো।

২। যাদের নিয়মিত গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা হয় প্রতিবার খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে ওষুধের মতো করে আদার টুকরা চিবিয়ে খান। এতে গ্যাষ্ট্রিকে সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।

৩। প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতার রস ব্যবহার করা হয় গ্যাষ্ট্রিকের জন্য। প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন।

৪। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হলে দুটি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চিবোতে থাকুন। চুষে রসটা খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে গেছে।

৫। খাওয়ার পর প্রতিদিন টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে খাবার যেমন হজম হবে, তেমনি অ্যাসিডিটির সমস্যাও কমে যাবে।

খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম, স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম না করা, জল কম খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। প্রথমদিকেই সচেতন না হলে পরবর্তীতে আলসার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই খাবারের তালিকায় রাখুন।

আদা

অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার হল আদা। এই উপাদান গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, হজমে সমস্যা এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত সমাধানে সক্ষম। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে কাঁচা আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।

দই

দইয়ে ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে সেই সঙ্গে খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তাই দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। এজন্য খাবারের পর দই খাওয়া বেশ কার্যকর। বিশেষ করে টক দই।

শসা

পেট ঠাণ্ডা রাখতে বেশ কার্যকরী খাবার শসা। কাঁচা শসা হজমেও সাহায্য করে। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়। এছাড়া এতে আছে প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন-সি। যা দেহের ওজন কমাতে আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়।

পেঁপে

পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামে এনজাইম, যা হজমশক্তি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলে গ্যাসের সমস্যা কম হবে। পেঁপে কাঁচা-পাকা দুঅবস্থায় খেতে পারেন। সবটাতেই উপকার পাবেন।

আনারস

আনারসে রয়েছে ৮৫ শতাংশ জল এবং ব্রোমেলিন নামক হজমে সাহায্যকারী প্রাকৃতিক এনজাইম, যা অত্যন্ত কার্যকরী একটি পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তাছাড়া আনারস ত্বকের জন্যও উপকারী।

হলুদ

হজম সংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা সমাধানে হলুদ দারুণ কার্যকর। এটি চর্বিজাতীয় খাবার হজমে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া হলুদে প্রদাহনাশক উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায়।

কলা

যাঁরা বেশি করে লবণ খান, তাঁদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে। কলায় যে পটাশিয়াম আছে তা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। কলা হজমেও সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়।

Archive

Most Popular