19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

কোন ঘরের দেওয়ালে কেমন আকৃতির ঘড়ি ঝোলানো শুভ ?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি



বাস্তু শাস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র এবং সজ্জার স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঘড়ির অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একটি ঘড়ি শুধুমাত্র সময় দেখানোর উপকরণ নয়, এটি ঘরের সৌন্দর্য, মানসিক প্রশান্তি এবং শক্তির প্রবাহকেও প্রভাবিত করে। সঠিক স্থানে সঠিক ধরণের ঘড়ি ঝোলালে বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী ঘরের শক্তি, মনোবল ও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। ভুল স্থানে বা ভুল ধরণের ঘড়ি ঝোলালে মানসিক চাপ, অশান্তি এবং নেতিবাচক শক্তি বাড়তে পারে। এই প্রতিবেদনে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব ঘরের বিভিন্ন স্থান অনুযায়ী ঘড়ির আকৃতি, দিক ও অবস্থান এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।

ঘড়ির গুরুত্ব বাস্তুতে : ঘড়ি সময়ের প্রতীক। এটি নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং ক্রমবিকাশের প্রতিনিধিত্ব করে। ঘরের উত্তম স্থানে ঘড়ি রাখলে সময়ের সঠিক ব্যবহার, পজিটিভ শক্তি এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, সঠিক দিক ও উচ্চতায় ঘড়ি ঝোলালে ঘরে সৌভাগ্য, শান্তি এবং সমৃদ্ধি আসে।

উত্তর-পূর্ব কোণে ঘড়ি ঝোলার উপকারিতা : উত্তর-পূর্ব কোণ মানসিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও পরিকল্পনার প্রতীক। ঘড়ি এখানে রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংযম, ধৈর্য এবং পরিকল্পনামূলক আচরণ বৃদ্ধি পায়। ছোট সন্তানরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং পরিবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

পূর্ব বা পূর্ব-দক্ষিণ কোণে ঘড়ি : পূর্ব দিকে ঘড়ি রাখলে নতুন সূচনা, উদ্যম এবং উদ্যোগের প্রতীকী শক্তি বৃদ্ধি পায়। কর্মক্ষেত্রে সফলতা, নতুন প্রকল্প শুরু করা বা ব্যবসায় উন্নতি পাওয়া সহজ হয়। পূর্ণিমা বা শুভ দিনে ঘড়ি পরিবর্তন করলে আরও শক্তি বাড়ে।

দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ঘড়ি : দক্ষিণ-পূর্ব কোণ অর্থ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। ঘড়ি এখানে রাখলে অর্থনৈতিক প্রবাহ, ব্যবসায়িক বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়ে। তবে খুব বড় বা ভারী ঘড়ি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ অতিরিক্ত ভার ঘরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

পশ্চিম বা পশ্চিম-উত্তর কোণে ঘড়ি : পশ্চিম কোণ প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্ক, সামাজিক সংযোগ এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। ঘড়ি এখানে রাখলে পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ, মানসিক স্বস্তি এবং সৃজনশীল উদ্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 

বৃত্তাকার vs. চৌকো ঘড়ি :

১. বৃত্তাকার ঘড়ি : শান্তি ও সামঞ্জস্যের প্রতীক।দম্পতি বা একক পরিবারে সঠিক স্থানে রাখলে মনোবল এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে।উত্তম উচ্চতায় ঝুলানো উচিত।

২. চৌকো বা আয়তাকার ঘড়ি : শক্তি, শৃঙ্খলা এবং কর্মক্ষমতার প্রতীক।অফিস বা স্টাডি রুমে রাখা ভালো।খুব বড় হলে নেতিবাচক চাপ বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

ঘড়ি ঝোলার উচ্চতা এবং অবস্থান : চোখের উচ্চতায় ঝোলানো সবচেয়ে ভালো।খুব নিচে বা খুব উপরে ঝুলালে শক্তির সঠিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।দিকমতো স্থান নির্ধারণ করলে বাস্তু অনুযায়ী সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।

ঘড়ি এবং ঘরের সৌন্দর্য : ঘরের রঙের সাথে মিলিয়ে ঘড়ি বাছাই করা ভালো।কাঠের ঘড়ি শান্তি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ করে।ধাতব ঘড়ি আধুনিকতা ও কর্মক্ষমতার প্রতীক।ডিজিটাল ঘড়ি শিশু বা টেকনোলজি-প্রিয় পরিবারের জন্য কার্যকর।

ঘড়ি ঝোলার সময় সতর্কতা : ঘড়ির কাঁচ বা কাঠের ক্ষয় রোধে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।প্রয়োজনমতো ব্যাটারি পরিবর্তন করা।ত্রুটি থাকলে সময়মতো ঠিক করা, কারণ ভুল সময় মানসিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে।

বাস্তু শাস্ত্র ও ধন-সমৃদ্ধি : ঘড়ি উত্তম কোণে রাখলে পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।ঘরে সময়মতো কাজ করা এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।ঘড়ির আকৃতি ও দিক পরিবারের সকলের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক।

মানসিক প্রভাব : সঠিক ঘড়ি রাখলে ঘরের পরিবেশ ইতিবাচক হয়।সদস্যদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ধৈর্য, মনোযোগ এবং সংযম বৃদ্ধি পায়।ঘড়ি শুধু সময় নয়, পরিবারের মানসিক ও আবেগগত সংযোগকেও প্রভাবিত করে।

ঘরের দেওয়ালে ঘড়ি ঝোলানো শুধু সময় দেখার জন্য নয়; এটি পরিবারে শান্তি, ধৈর্য, সমৃদ্ধি এবং সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখে। বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী ঘড়ির অবস্থান, আকৃতি এবং উচ্চতা নির্বাচন করলে ইতিবাচক শক্তি বাড়ে এবং নেতিবাচক প্রভাব কমে। বৃত্তাকার ঘড়ি শান্তি ও সমন্বয় আনে, চৌকো বা আয়তাকার ঘড়ি কর্মক্ষমতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করে। উত্তর-পূর্ব, পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ঘড়ি রাখার মাধ্যমে পরিবারের মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। তাই ঘড়ি ঝোলার সময় শুধুমাত্র ডিজাইন বা রঙের দিকে নয়, বাস্তু অনুযায়ী অবস্থান, আকৃতি ও উচ্চতার দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।

Archive

Most Popular