19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

মূত্রনালির সংক্রমে আক্রান্ত হতে পারে আপনার পোষ্যটিও, জেনে নিন ৫ লক্ষণ !

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


পোষা প্রাণীদের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখা আজকের আধুনিক জীবনধারায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়শই আমরা মানুষের স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিই, কিন্তু পোষ্যদের সমস্যাগুলি কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। বিশেষ করে মূত্রনালির সংক্রমণ (Urinary Tract Infection – UTI), যা কুকুর ও বিড়ালদের মধ্যে বেশ সাধারণ, কিন্তু প্রাথমিকভাবে সনাক্ত না হলে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। মূত্রনালির সংক্রমণ হলে পশুর জীবনযাত্রা, স্বাভাবিক আচরণ এবং পুষ্টি গ্রহণের ধরন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রতিবেদনে আমরা পোষ্যদের UTI-এর কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি বিশদভাবে আলোচনা করব।

মূত্রনালির সংক্রমণ কি? মূত্রনালির সংক্রমণ হলো ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। এটি প্রায়শই মূত্রথলি (bladder), মূত্রনালি (urethra) এবং কখনও কিডনি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। সংক্রমণ হলে ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের চাহিদা এবং আচরণ পরিবর্তন দেখা দেয়।

UTI-এর কারণ :

1. ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ: মূলত E. coli ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে সাধারণ।

2. হাইড্রেশন সমস্যা: পর্যাপ্ত জল না খাওয়া বা প্রস্রাবের বিলম্ব।

3. পুষ্টির অভাব : উচ্চ শর্করা বা কম ফাইবারযুক্ত খাবার।

4. অস্বাস্থ্যকর ময়লা বা টয়লেট : বিড়াল ঘরে লিটার বক্স পরিচ্ছন্ন না রাখা।

5. বংশগত সমস্যা ও পুরুষ/মহিলা পার্থক্য : নারীরা প্রায়শই সংক্রমণ বেশি হয়।

পোষ্যদের UTI-এর ৫টি প্রধান লক্ষণ :

1. বারবার প্রস্রাবের চেষ্টা : UTI-তে পোষ্যরা ছোট পরিমাণে কিন্তু ঘন ঘন প্রস্রাব করতে চায়। কখনও কখনও মাত্র কয়েক মিলিলিটার প্রস্রাব হয় এবং প্রাণীটি ঘন ঘন ময়লা বা টয়লেটের দিকে যায়। এটি প্রাথমিকভাবে সাধারণ আচরণিক পরিবর্তন মনে হতে পারে।

2. ব্যথা বা অস্বস্তি : প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা কষ্টের কারণে কুকুর বা বিড়াল অস্থির থাকে। তারা কাঁপতে পারে, দীর্ঘ সময় ধরে ময়লার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে অথবা প্রস্রাবের সময় চিৎকার করে। কিছু ক্ষেত্রে পশুর কান বা চোখে উদ্বেগের লক্ষণও দেখা যায়।

3. প্রস্রাবের রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন : সংক্রমিত পোষ্যদের প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা লালচে হতে পারে, যা রক্তমিশ্রিতও হতে পারে। প্রস্রাবের গন্ধ তীব্র, শক্ত এবং অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি পোষ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।

4. আচরণগত পরিবর্তন : UTI-এর কারণে পোষ্যরা সাধারণের চেয়ে বেশি চিড়চিড়ে, বিরক্ত বা অস্থির হয়ে যায়। তারা খেলাধুলা কমাতে পারে, খাবারে আগ্রহ কমায় এবং একাকীত্বে থাকতে চায়। শিশুদের মতোই পশুরাও ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করলে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারে না।

5. লিটার বক্স বা ঘরমুখী সমস্যা : বিড়ালদের ক্ষেত্রে লিটার বক্সে ভুলভাবে প্রস্রাব বা মল ত্যাগ করা দেখা যায়। কুকুররা বাড়ির মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব করতে পারে। এটি সংক্রমণের কারণে ব্যথা বা অস্বস্তির প্রকাশ।

UTI নির্ণয় ও চিকিৎসা : পোষ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ইউরিন টেস্ট, কালচার ও সংক্রমণ শনাক্তকরণ করা হয়। সংক্রমণ হলে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি দেওয়া হয়। কখনও কখনও ডায়েটারি পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়াও জরুরি।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা :

1. পর্যাপ্ত জল সরবরাহ: প্রতিদিনের জলপান নিশ্চিত করা।

2. সঠিক পুষ্টি: ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।

3. লিটার বক্স/ময়লা পরিচ্ছন্ন রাখা : নিয়মিত পরিষ্কার করা।

4. ভেটেরিনারি চেকআপ : বছরে ১–২ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

5. স্ট্রেস ফ্রি পরিবেশ : অস্থিরতা বা চাপ কমানো।

নির্দিষ্ট বয়স ও লিঙ্গের প্রভাব : নারী কুকুর ও বিড়ালদের মধ্যে UTI বেশি সাধারণ কারণ তাদের ইউরেথ্রা ছোট এবং সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিকার :

ক্যান্টেলোপ বা ক্র্যানবেরি : কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্র্যানবেরি বা তার নির্যাস ইউরিনালির সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক হাইড্রেশন : স্যুপ, স্টক বা জল মিশ্রিত খাবার।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম : পোষ্যকে চাপমুক্ত রাখা।

UTI-এর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি : যদি সংক্রমণ সময়মতো সনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়, তবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, প্রস্রাবের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং পোষ্যের জীবনমান নষ্ট হয়। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

পোষ্যদের UTI একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। ঘন ঘন প্রস্রাবের চেষ্টা, ব্যথা, রঙ বা গন্ধ পরিবর্তন, আচরণ পরিবর্তন এবং ভুলভাবে প্রস্রাব করা—এসব লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ভেটেরিনারির সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত পানি, সুষম খাদ্য এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর। বাবা-মা হিসেবে আমাদের সচেতনতা, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া পোষ্যদের সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে।

Archive

Most Popular