19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ভ্যালেন্টাইন ডে তে সঙ্গীকে নিয়ে ডেটে যাবেন ? কোন কোন জায়গা রাখবেন লিস্টে ?

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি


ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখটি শুধু ক্যালেন্ডারের একটি দিন নয়, এটি হলো প্রেমের উদযাপন। এই দিনে অনেকেই তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নিতে চায়। শুধুমাত্র ফুল বা চকলেট দিয়ে নয়, বরং একসাথে সময় কাটানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভ্যালেন্টাইন ডে-এর ডেট প্ল্যানিং অনেকের কাছে এক ধরনের আনন্দের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা পড়ে। তবে সমস্যা হয়, কোথায় যাবেন, কোন পরিবেশে থাকবেন, কীভাবে সময়টিকে বিশেষ করে তুলবেন এই প্রশ্নগুলো বেশ জটিল বলে মনে হয়। চলুন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখি।

গত কয়েক বছর ধরে শহুরে মানুষদের মধ্যে ডেটিং ট্রেন্ড ক্রমশই বাড়ছে। শুধু তরুণ যুগল নয়, বরিষ্ঠ যুগলরাও নিজেদের সম্পর্ককে নতুনভাবে উদযাপন করতে উৎসাহী। ডেটের ধরন বিভিন্ন রকম, যেমন ধরুন ক্যাফে ডেট, সিনেমা ডেট, নদীর ধারে হেঁটে বেড়ানো, পার্কে পিকনিক, হোম ডেট বা আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার। শহরে রোমান্টিক ভেন্যুদের সংখ্যা বেড়েছে এবং সেগুলো ভ্যালেন্টাইন ডে-এর জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়। তবে সঠিক স্থান বাছাই করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি যেমন আপনার সম্পর্কের ধরণ, বাজেট, পছন্দ-অপছন্দ, এবং আপনার সঙ্গীর পছন্দ।

ভ্যালেন্টাইন ডে ডেটের ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি নতুন সম্পর্কের মধ্যে থাকেন, তবে একটি শান্ত ও প্রাইভেট জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। এতে প্রথম ডেটের নড়বড়ে অনুভূতি কমে যায় এবং স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটু অ্যাডভেঞ্চার এবং স্পেশাল সারপ্রাইজ অন্তর্ভুক্ত করা যায়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অথবা বন্ধুদের সাথে গ্রুপ ডেটের জন্যও কিছু ভিন্ন ধরনের জায়গা বেছে নেওয়া যায়।

কলকাতার স্পেশাল স্পট:

কলকাতা শহরে রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অনেকগুলো রোমান্টিক স্পট।

১.হাওড়া ব্রিজ বা বিখ্যাত নদীর ধারে: নদীর ধারে হেঁটে বেড়ানো, সূর্যাস্ত দেখা এবং নদী রোদের আড়ালে ছবি তোলা ভ্যালেন্টাইন ডে-এর ক্লাসিক মুহূর্ত।

২.ফ্রাঙ্কলিন পার্ক বা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পার্ক: শান্ত পরিবেশে পিকনিক বা হালকা হাঁটা।

৩.রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে: কলকাতার বিভিন্ন রোমান্টিক রেস্টুরেন্ট যেমন প্যারিসিয়ান বা আর্কেড ক্যাফে বিশেষ ডেকোরেশন এবং ক্যান্ডেললাইট ডিনার অফার করে।

৪.কফি হাউস বা বুকস্টোর ক্যাফে: যেমন কলেজ স্ট্রিটের কিছু হিল স্টাইলের স্থান। বইপ্রেমিক যুগলদের জন্য এটি আদর্শ।

৫.সিনেমা থিয়েটার বা আর্ট গ্যালারি : বিশেষ কিছু ছবি বা আর্ট এক্সিবিশন ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপনের জন্য পারফেক্ট।

৬.আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার স্পট : বোটিং, হাইকিং বা আউটডোর গেম। এটি প্রেমের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।

অন্যরকম আইডিয়া :

সাধারণ ডেটের বাইরে, বাড়িতে হোম ডেট করা নতুন ট্রেন্ড। প্রিয় খাবার বানানো, মুভি নাইট, গান বাজানো বা একসাথে হ্যান্ডমেড গিফট তৈরি করা। এছাড়া, কিছু যুগল রোমান্টিক ফটো শুটের জন্য বিশেষ লোকেশন বেছে নেয়।

পরামর্শ ও টিপস :

১.বাজেট : ডেটের পরিকল্পনা করার সময় খরচের সীমা ঠিক করা জরুরি। অত্যধিক ব্যয় না করেও বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব।

২.পোশাক ও প্রস্তুতি : ডেটের ধরন অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন। ক্যাজুয়াল ডেটের জন্য আরামদায়ক পোশাক, রেস্টুরেন্ট বা ফাইন ডাইনিং-এর জন্য ফরমাল পোশাক।

৩.সারপ্রাইজ উপাদান : ফুল, চকলেট, ছোট নোট বা গিফট—সবার জন্য ছোট সারপ্রাইজ মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে।

৪.সুরক্ষা ও সচেতনতা : জনসমাগমযুক্ত স্থান বেছে নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা।

ভ্যালেন্টাইন ডে শুধু ভালোবাসা উদযাপনের দিন নয়, এটি সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বোঝার, স্মৃতি তৈরি করার এবং একে অপরের সঙ্গে মানসিক সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ। সঠিক স্থান, পরিকল্পনা এবং মনোযোগ দিয়ে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত স্মৃতিময় হয়ে ওঠে। কলকাতার রোমান্টিক স্থানগুলোতে সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো সময় শুধু আনন্দই দেয় না, বরং সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। তাই ভ্যালেন্টাইন ডে-এর ডেটের পরিকল্পনা শুরু করুন আজ থেকেই আর এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলুন।

Archive

Most Popular