স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
ত্বক যদি সারাক্ষণ তেলতেলে থাকে, তার সঙ্গে যদি যোগ হয় বারবার ব্রণ ওঠার সমস্যা তাহলে অস্বস্তি তো বটেই, আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। অথচ বাড়িতেই থাকা একটি সহজ উপাদান ফিটকিরি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফিটকিরি, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Potassium alum, বহুদিন ধরেই প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি ত্বকের রোমছিদ্র সংকুচিত করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। তেলতেলে ত্বকে সাধারণত সেবাম বেশি তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত তেল ধুলো-ময়লার সঙ্গে মিশে রোমছিদ্র বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্রণ তৈরি হয়। ফিটকিরি হালকা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে ত্বক টানটান করে এবং রোমছিদ্র ছোট করতে সাহায্য করে। এর ফলে তেল জমার প্রবণতা কমে। ব্যবহার করার একটি সহজ পদ্ধতি হল এক টুকরো ফিটকিরি জলে ভিজিয়ে মুখ ধোয়ার পর হালকা করে ত্বকে ঘষে নেওয়া। কয়েক মিনিট রেখে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’তিনবার ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে।
আরেকটি উপায় হল ফিটকিরির গুঁড়ো সামান্য গোলাপ জল বা সাধারণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা। ব্রণের উপর স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের ফোলা ভাব ও লালচে ভাব কিছুটা কমতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সবার ত্বক একরকম নয়। কারও কারও ত্বক খুব সংবেদনশীল হতে পারে। তাই প্রথমে হাতে বা কানের পিছনে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া জরুরি। জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। ত্বকে বড় ধরনের সমস্যা থাকলে বা ব্রণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফিটকিরি ব্যবহার করার পাশাপাশি কিছু অভ্যাসও জরুরি—দিনে দু’বার মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করা। ত্বকের যত্নে নিয়মিততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তেলতেলে ত্বক ও ব্রণের সমস্যায় ফিটকিরি একটি সহজ ও সাশ্রয়ী ঘরোয়া উপায় হতে পারে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার এবং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়াই হল আসল চাবিকাঠি।