11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বহুদিন ধরে একই টুথব্রাশ ব্যবহার করছেন? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন বিপদ।

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। দাঁত পরিষ্কার রাখা শুধু মুখের সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি। কিন্তু অনেক সময় আমরা দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম মেনে চললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহেলা করি টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত। অনেকেই একই টুথব্রাশ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে চলেন। এতে যে অজান্তেই নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

টুথব্রাশ মূলত আমাদের দাঁত ও মাড়ির মধ্যে জমে থাকা খাবারের কণা, প্লাক এবং ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে ব্রাশের ব্রিসল বা আঁশ ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। কিছুদিন পর এগুলো বেঁকে যায় এবং আগের মতো কার্যকর থাকে না। তখন দাঁত পরিষ্কার করার ক্ষমতাও কমে যায়। যখন ব্রাশের ব্রিসল নরম ও ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা বা প্লাক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। এর ফলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ বা মুখের দুর্গন্ধের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষয়ের অন্যতম বড় কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া ও প্লাক জমে থাকা। সময়মতো সেগুলো পরিষ্কার না হলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Dental Caries। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলেও যদি পুরনো টুথব্রাশ ব্যবহার করা হয়, তাহলে দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শুধু দাঁত নয়, মাড়ির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। পুরনো বা ক্ষয়প্রাপ্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজলে অনেক সময় মাড়িতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে বা ক্ষত তৈরি হতে পারে। এতে মাড়িতে ব্যথা, রক্তপাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টুথব্রাশে জীবাণু জমে থাকা। প্রতিদিন ব্যবহারেরফলে ব্রাশে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। বিশেষ করে যদি ব্রাশ ঠিকভাবে পরিষ্কার না করা হয় বা ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখা হয়, তাহলে জীবাণুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক সময় বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশও এই জীবাণু বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে একটি টুথব্রাশ তিন থেকে চার মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এই সময়ের মধ্যে ব্রাশের ব্রিসল অনেকটাই ক্ষয় হতে শুরু করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর টুথব্রাশ বদলে নেওয়া ভালো। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর আগেই ব্রাশ পরিবর্তন করা প্রয়োজন হতে পারে। যেমন যদি দেখা যায় ব্রিসলগুলো খুব দ্রুত বেঁকে গেছে বা ছড়িয়ে পড়েছে, তাহলে সেটি আর ব্যবহার না করাই ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে টুথব্রাশ অনেক সময় দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়, তাই তাদের ব্রাশও নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।

অসুস্থ হওয়ার পরও অনেক চিকিৎসক নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কারণ অসুস্থতার সময় ব্যবহৃত ব্রাশে জীবাণু থেকে যেতে পারে। নতুন ব্রাশ ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমে। টুথব্রাশ ব্যবহারের পর সেটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখা এবং শুকনো জায়গায় রাখা উচিত। এতে ব্রাশে জীবাণু জমার সম্ভাবনা কিছুটা কমে। অনেক সময় ব্রাশ ঢেকে রাখা হয়, কিন্তু ভেজা অবস্থায় ঢেকে রাখলে আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং জীবাণু বাড়তে পারে।

দাঁতের যত্নে টুথব্রাশ একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি সময়মতো টুথব্রাশ বদলে নেওয়া। সুস্থ দাঁত ও মাড়ি বজায় রাখতে তাই টুথব্রাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া দরকার। ছোট এই অভ্যাস বদলালেই দাঁতের অনেক সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Archive

Most Popular