26th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গলব্লাডারে পাথর থেকে হতে পারে হার্টের রোগও! কীভাবে সাবধান হবেন?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


গলব্লাডারে পাথর, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় Gallstones অনেকের কাছেই এটি কেবল পেটব্যথা বা হজমের সমস্যার কারণ বলে মনে হয়। ডান দিকের পাঁজরের নিচে ব্যথা, বমিভাব বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলেই অস্বস্তি এসব লক্ষণ দেখা দিলেই আমরা সাধারণত গ্যাস্ট্রিক ভেবে উড়িয়ে দিই। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গলব্লাডারের পাথর ও হৃদ্‌রোগের মধ্যে একটি পরোক্ষ সম্পর্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ, শরীরের বিপাকীয় সমস্যাগুলি একাধিক অঙ্গকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে।

গলব্লাডার বা পিত্তথলি হল লিভারের নিচে থাকা একটি ছোট থলি, যেখানে পিত্তরস জমা থাকে এবং তা চর্বি হজমে সাহায্য করে। যখন পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় বা রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন তা জমে শক্ত কণায় পরিণত হয় যাকে আমরা পাথর বলি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পাথর কোলেস্টেরলজাত, যা আমাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ও লিপিড বিপাকের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই কোলেস্টেরলই আবার হৃদ্‌রোগের বড় কারণ। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে ধমনীর দেয়ালে প্লাক তৈরি করে, যাকে বলা হয় Atherosclerosis। এর ফলে ধমনী সংকুচিত হয় এবং হার্টে রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই যাদের শরীরে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের ক্ষেত্রে গলস্টোন ও হৃদ্‌রোগ দুইয়ের ঝুঁকিই একসঙ্গে বাড়তে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন গলব্লাডারে প্রদাহ থাকলে শরীরে সামগ্রিক প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদ্‌যন্ত্রের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি সমস্যার সমষ্টিকে বলা হয় Metabolic syndrome—যা গলস্টোন ও হৃদ্‌রোগ, উভয়েরই ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থাৎ, সমস্যার শিকড় অনেক সময় একই জায়গায় লুকিয়ে থাকে।

গলব্লাডারের পাথরের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ডান পাশের পাঁজরের নিচে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি, বমিভাব বা জ্বর। অন্যদিকে হৃদ্‌রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, এমনকি বাম হাত বা চোয়ালে ব্যথা। এই ধরনের উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাবধান থাকার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রয়োজনে আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে গলব্লাডারের অবস্থা জেনে নেওয়া যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তেল-চর্বি কমিয়ে শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্য বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত জল পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের বিপাকক্রিয়া সঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণও বড় ভূমিকা পালন করে। তবে খুব দ্রুত ওজন কমানো ঠিক নয়, কারণ তাতেও গলস্টোনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ধীরে ধীরে, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন কমানোই উত্তম। পাশাপাশি যদি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আগে থেকেই থাকে, তবে নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ব্যথা বা সংক্রমণ হলে গলব্লাডার অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে পাথরজনিত সমস্যা কমে, তবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অপরিহার্য। কারণ মূল সমস্যাটি অনেক সময় শরীরের সামগ্রিক বিপাকীয় ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে গলব্লাডারের পাথর মানেই হার্টের রোগ হবেই এমনটা কিন্তু নয়। তবে এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই ভয় নয়, সচেতনতা জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই তিনটিই পারে আপনাকে সুস্থ রাখতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে।

Archive

Most Popular