19th Apr 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

উইকেন্ডে শহরের কাছেই ঘুরতে চান? শান্তিনিকেতন হতে পারে পারফেক্ট ছোট্ট ট্রিপ!

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি



ব্যস্ত শহুরে জীবনে সপ্তাহের পাঁচটা দিন কাজের চাপে কেটে যায় চোখের পলকে। ট্রাফিক, ডেডলাইন, দায়িত্ব সব মিলিয়ে মন আর শরীর দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখনই মন চায় একটু ছুটি, একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা। কিন্তু সময়ের অভাবে দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে যদি এমন কোনও জায়গা থাকে, যেখানে খুব কম সময়ে পৌঁছে গিয়ে দু’দিনের মধ্যে মন-প্রাণ জুড়িয়ে নেওয়া যায়—তাহলে তার থেকে ভালো আর কী হতে পারে! ঠিক তেমনই একটি জায়গা হল শান্তিনিকেতন।

কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শান্ত, সবুজে ঘেরা শহরটি শুধু একটি ভ্রমণস্থল নয়, এটি এক অনুভূতি। এখানে পৌঁছলেই শহরের কোলাহল যেন মুহূর্তে মিলিয়ে যায়, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অন্যরকম প্রশান্তি। প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস এই তিনের মেলবন্ধনই শান্তিনিকেতনকে আলাদা করে তোলে। শান্তিনিকেতনের নাম উঠলেই প্রথমেই মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কথা। তাঁর হাত ধরেই এই জায়গা শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। এখানে এসে আপনি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই উপভোগ করবেন না, অনুভব করবেন এক গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও।

শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করার যে ধারণা, সেটিই এখানে বাস্তব। গাছের ছায়ায় বসে পড়াশোনা এই অভিজ্ঞতা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ালে চোখে পড়বে নানা শিল্পকর্ম, ভাস্কর্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শান্তিনিকেতন যেন এক স্বর্গ। লাল মাটির পথ, শাল-পিয়ালের বন, খোলা আকাশ সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ। বিশেষ করে বিকেলের দিকে সোনাঝরা আলো যখন গাছের পাতায় পড়ে, তখন সেই দৃশ্য মনকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। শহরের ধোঁয়া-ধুলো থেকে দূরে এই নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটালেই মন হালকা হয়ে যায়।

শুধু প্রকৃতি নয়, শান্তিনিকেতন তার হস্তশিল্প এবং লোকসংস্কৃতির জন্যও বিখ্যাত। এখানকার স্থানীয় বাজারে ঘুরলে দেখতে পাবেন হাতের কাজের নানা সামগ্রী—বাঁশের জিনিস, কাঁথাস্টিচ, বাটিক প্রিন্ট, ডোকরা শিল্প। প্রতিটি জিনিসেই রয়েছে একান্ত বাঙালিয়ানা, যা সহজেই মন জয় করে নেয়। খাওয়াদাওয়ার দিক থেকেও শান্তিনিকেতন বেশ সমৃদ্ধ। এখানে ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট ও হোমস্টেতে পাওয়া যায় একেবারে ঘরোয়া বাঙালি খাবার। গরম ভাত, ডাল, সবজি, মাছ এই সাধারণ খাবারও এখানে অন্যরকম লাগে, কারণ তার সঙ্গে মেশে গ্রামের স্বাদ এবং আন্তরিকতা।

উইকেন্ড ট্রিপ হিসেবে শান্তিনিকেতন বেছে নেওয়ার আরও একটি বড় সুবিধা হল এর সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ট্রেনে বা গাড়িতে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। সকালে রওনা দিলে দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব, ফলে সময় নষ্ট হয় না এবং পুরো দু’দিন ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। যারা একটু অফবিট অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তারা কাছাকাছি কিছু জায়গাও ঘুরে দেখতে পারেন। যেমন কপাই নদীর ধারে কিছুটা সময় কাটানো বা সোনাঝুরি হাটে ঘোরা—এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই ট্রিপটাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

তবে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। গরমের সময় গেলে হালকা পোশাক পরা এবং পর্যাপ্ত জল সঙ্গে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব। যদি খুব বেশি সময় বা পরিকল্পনা ছাড়াই কোথাও ঘুরে আসতে চান, তাহলে শান্তিনিকেতন হতে পারে একেবারে পারফেক্ট পছন্দ। এখানে আপনি পাবেন প্রকৃতির শান্তি, সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যা শহরে ফিরে আসার পরও অনেকদিন পর্যন্ত মনে থেকে যায়। তাই পরের উইকেন্ডে যদি মনটা একটু অন্যরকম কিছু চায়, তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন শান্তিনিকেতনের পথে। খুব বেশি কিছু নয়, শুধু দু’দিন—আর সেই দু’দিনই বদলে দিতে পারে আপনার ক্লান্ত মন আর ব্যস্ত জীবনের ছন্দ।

Archive

Most Popular