ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
ভারতের উত্তর-পূর্ব কোণের এক বিস্ময়জনক রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ। মূলধারার পর্যটকদের চোখ এড়িয়ে থাকা এই রাজ্য প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন। যারা ভিড় থেকে দূরে, প্রকৃতির কোলে নির্জনে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য অচেনা অরুণাচল এক আদর্শ গন্তব্য। এই লেখায় থাকছে একটি ভালোমতো ঘুরে দেখার জন্য বিস্তারিত ট্যুর পরিকল্পনা।
অচেনা অরুণাচল ভ্রমণের জন্য সেরা সময়:
➡️ অক্টোবর-নভেম্বর: সবুজে ঢাকা পাহাড় আর ঝলমলে আকাশ।
➡️ ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি: বরফের অভিজ্ঞতা, বিশেষত সেলা পাসে।
➡️ মার্চ-এপ্রিল: ফুল ফোটা উপত্যকা আর ঝলমলে আবহাওয়া।
কীভাবে যাবেন?
1.কলকাতা → গৌহাটি → অরুণাচল
কলকাতা থেকে গৌহাটি: কলকাতা থেকে গুৱাহাটী পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট উপলব্ধ।
গৌহাটি থেকে অরুণাচল প্রদেশ: ডোনি পোলো বিমানবন্দর (হোলংগি, ইটানগর): গৌহাটি থেকে ইন্ডিগো এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। এই বিমানবন্দরটি ইটানগরের নিকটবর্তী।
লিলাবাড়ি বিমানবন্দর (অসম): ইটানগরের কাছাকাছি আরেকটি বিকল্প।
তেজু ও পাসিঘাট বিমানবন্দর: এই বিমানবন্দরগুলিতে গৌহাটি থেকে ফ্লাইট উপলব্ধ।
2.কলকাতা → গৌহাটি→ নাহারলাগুন (ইটানগর)
কলকাতা থেকে গৌহাটি: কলকাতা থেকে গৌহাটি পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন রয়েছে।
গৌহাটি থেকে নাহারলাগুন: গৌহাটি থেকে নাহারলাগুন পর্যন্ত ডোনি পোলো এক্সপ্রেস এবং শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেন চালিত হয়।
নাহারলাগুন থেকে ইটানগর: নাহারলাগুন থেকে ইটানগর প্রায় ১৫ কিমি দূরে, যেখানে ট্যাক্সি বা বাসে পৌঁছানো যায়।
মোট দূরত্ব: প্রায় ১,০০০+ কিমি
সময়: প্রায় ৩-৪ দিন, রাত্রি যাত্রা সহ
রুট: কলকাতা → শিলিগুড়ি → গৌহাটি → তেজপুর → ভালুকপং → ডিরাং → সেলা পাস → তাওয়াং
এই রুটটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, তবে রাস্তা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে যাত্রা করলে এই রুটটি উপভোগ্য হবে।
অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণের জন্য ইননার লাইন পারমিট (ILP) আবশ্যক। আপনি এটি অনলাইনে arunachalilp.com থেকে আবেদন করতে পারেন। ILP সাধারণত ১৫ দিনের জন্য বৈধ থাকে, তবে প্রয়োজনে এটি নবায়ন করা যায়।
সকালে গৌহাটি থেকে গাড়িতে যাত্রা
এনএইচ-১৩ ধরে পাহাড়ি রাস্তায় ড্রাইভ
পথে তেজপুর ও ভালুকপং ঘুরে দেখা
রাতের বিশ্রাম বমডিলায়
দারুণ সুন্দর সেলা পাস (13,700 ft) পার হয়ে
সেলা লেক ও জাসওয়ান্থ গড় ওয়ার মেমোরিয়াল দর্শন
বিকালে তাওয়াং পৌঁছে হোটেল চেক ইন
তাওয়াং মনাস্টেরি (ভারতের বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার)
গ্যালডান নামগিয়াল লাটসে মনাস্টেরি
স্থানীয় বাজারে ঘোরাফেরা ও স্থানীয় খাবার
প্রয়োজনে তেজু বা ইটানগর হয়ে সংযোগ
পাহাড়ের কোলঘেঁষা আপাতানি উপজাতির গ্রাম
রাতের বেলা স্থানীয় হোমস্টে-তে থাকার ব্যবস্থা
ধান চাষ, বাঁশের বাড়ি ও নারীদের মুখের ট্যাটু
জনজাতির জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়
স্থানীয় হস্তশিল্প দেখা ও কেনাকাটা
সকালে যাত্রা মেনচুকার দিকে
মিনি সুইজারল্যান্ড বলা হয় এই স্থানকে
ওপেন গ্রিন ফিল্ড, নদী ও তিব্বতি প্রভাবিত সংস্কৃতি
গাড়িতে ডিব্রুগড় ফিরে আসা
বিকালের ফ্লাইট/ট্রেনে কলকাতা ফেরা
বিশেষ টিপস:
ILP (Inner Line Permit) অবশ্যই আগে থেকে করে নিন
গরম জামা, মেডিকেশন, ক্যাশ ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে রাখুন
ছবি তোলার সময় স্থানীয় অনুমতি নিন
অরুণাচল প্রদেশ শুধুই একটি ভৌগোলিক গন্তব্য নয়, এ যেন এক হৃদয়ের অভিজ্ঞতা। প্রতিটি পাহাড়ি বাঁকে, প্রতিটি উপজাতীয় হাসিতে, আর প্রতিটি নির্জন উপত্যকায় মিশে আছে এক অনাবিষ্কৃত ভারতের গল্প। এই ভ্রমণ শুধু প্রকৃতির নয়, আত্মার কাছাকাছি পৌঁছানোর এক সুযোগ। যারা সাহসী, কৌতূহলী এবং নিস্তব্ধতা ভালোবাসেন তাদের জন্য অচেনা অরুণাচল এক অনন্য আহ্বান।
চেনা দুনিয়া থেকে একটু দূরে, নিজের ভেতরের না-চেনা আমি-কে চিনে নিতে হলে, অরুণাচল এক আদর্শ যাত্রাপথ।