19th Apr 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গরমে বাচ্চাদের হিটস্ট্রোকের ভয়! কীভাবে রাখবেন নিরাপদ?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



এপ্রিল পড়তেই গরমের তীব্রতা যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বড়দের জন্য এই গরম যতটা কষ্টকর, বাচ্চাদের জন্য তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তাদের শরীর এখনও পুরোপুরি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। ফলে খুব সহজেই তারা হিটস্ট্রোক বা লু-র শিকার হতে পারে। অনেক সময় আমরা ভাবি, বাচ্চারা তো বাড়িতেই আছে, তেমন কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু বাস্তবে, সামান্য অসাবধানতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

হিটস্ট্রোক আসলে এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং শরীর সেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় শরীরের স্বাভাবিক কুলিং সিস্টেম কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায় এবং তারা নিজেরাই বুঝতে পারে না যে তারা কতটা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো অনেক সময় হঠাৎ করে দেখা দেয়। যেমন হঠাৎ করে জ্বর চলে আসা, শরীর গরম হয়ে যাওয়া কিন্তু ঘাম না হওয়া, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, দুর্বলতা, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও হতে পারে। ছোট বাচ্চারা অনেক সময় অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে না, তাই তাদের আচরণে পরিবর্তন—যেমন অতিরিক্ত কান্না, অস্থিরতা বা অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে যাওয়া—এই বিষয়গুলোও খেয়াল করা জরুরি।

এই পরিস্থিতি এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল আগে থেকেই সতর্ক থাকা। গরমের সময় বাচ্চাদের যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখা উচিত। দুপুরের তীব্র রোদে, বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে, বাইরে নিয়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। যদি খুব প্রয়োজন হয়, তাহলে ছাতা, টুপি এবং হালকা পোশাক ব্যবহার করা জরুরি।

বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই সময়ে ঢিলেঢালা, হালকা রঙের এবং সুতি কাপড় সবচেয়ে ভালো। এই ধরনের কাপড় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ঘাম সহজে শুকিয়ে যেতে দেয়। সিনথেটিক বা আঁটসাঁট পোশাক গরমে অস্বস্তি বাড়ায় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

জলই হল এই গরমে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। বাচ্চাদের নিয়মিত জল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, এমনকি তারা তৃষ্ণা না পেলেও। অনেক বাচ্চাই খেলাধুলায় মগ্ন থাকলে জল খেতে ভুলে যায়, তাই অভিভাবকদেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু জল নয়, ডাবের জল, লেবুর শরবত, ঘোল—এই ধরনের পানীয়ও খুব উপকারী, কারণ এগুলো শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। গরমে ভারী, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়াই ভালো। ফল, সবজি, দই—এই ধরনের খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং শক্তিও জোগায়। বিশেষ করে তরমুজ, শসা, পেঁপের মতো জলসমৃদ্ধ ফল বাচ্চাদের জন্য খুবই উপকারী।

অনেক সময় বাড়ির ভেতরেও গরমের প্রভাব পড়ে। তাই ঘর ঠান্ডা রাখার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, পর্দা টেনে রোদ আটকানো, প্রয়োজনে ফ্যান বা কুলার ব্যবহার করা—এই সবই বাচ্চাদের আরাম দিতে সাহায্য করে। তবে সরাসরি ঠান্ডা হাওয়ার সামনে বেশি সময় রাখাও ঠিক নয়।

যদি কখনও মনে হয় বাচ্চা হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখাচ্ছে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমেই তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে আসুন, শরীরের অতিরিক্ত পোশাক খুলে দিন এবং ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন। অল্প অল্প করে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। তবে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গরমের সময় বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া মানে শুধু তাদের অসুস্থতা থেকে দূরে রাখা নয়, তাদের স্বাভাবিক খেলাধুলা ও আনন্দ বজায় রাখাও। সামান্য সচেতনতা, সঠিক অভ্যাস এবং নিয়মিত নজরদারিতেই এই গরমকেও সহজে সামলে নেওয়া সম্ভব। তাই এই গরমে বাচ্চাদের একটু বাড়তি যত্ন দিন। তাদের হাসি, খেলাধুলা আর সুস্থতা—সবটাই আপনার হাতেই। সচেতন থাকুন, নিরাপদ রাখুন, আর গরমের দিনগুলো কাটুক নিশ্চিন্তে।

Archive

Most Popular