ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
গরম পড়তেই মন চায় একটু সমুদ্রের হাওয়ায় ভিজতে। ঢেউয়ের শব্দ, নোনতা বাতাস, আর অসীম নীলের দিকে তাকিয়ে কিছুটা সময় কাটানো এই অনুভূতির সঙ্গে তুলনা হয় না। তাই উইকেন্ড এলেই অনেকেই ভাবেন, কোথায় যাওয়া যায়? খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রথমেই মাথায় আসে দীঘা কিংবা পুরী। বছরের পর বছর ধরে এই দুই সমুদ্রসৈকত বাঙালির কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল। কিন্তু সমস্যা একটাই—ভিড়। বিশেষ করে ছুটির দিনে এই জায়গাগুলোতে এমন ভিড় হয় যে, অনেক সময় শান্তির বদলে ক্লান্তিই বেশি নিয়ে ফিরতে হয়। তাই এখন অনেকেই খুঁজছেন এমন কিছু বিকল্প, যেখানে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে, কিন্তু ভিড় থাকবে তুলনামূলক কম। রইল এমনই কিছু অফবিট সমুদ্রসৈকতের খোঁজ, যা আপনার পরবর্তী ভ্রমণকে করে তুলতে পারে আরও আরামদায়ক এবং স্মরণীয়।
প্রথমেই আসা যাক মন্দারমনি-র কথায়। দিঘার খুব কাছেই অবস্থিত এই সমুদ্রসৈকত এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক শান্ত। দীর্ঘ বালুকাবেলা, গাড়ি চালিয়ে সমুদ্রের ধারে পৌঁছে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য গন্তব্য। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত সুন্দর। দিঘার তুলনায় এখানে হোটেলগুলিও একটু নিরিবিলি পরিবেশে তৈরি, ফলে যারা একটু শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।
এরপরেই রয়েছে তাজপুর। লাল কাঁকড়ার জন্য বিখ্যাত এই সৈকতটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক স্বর্গ। এখানে ভিড় কম, চারপাশে ঝাউবনের সারি, আর একেবারে নির্জন পরিবেশ—সব মিলিয়ে একেবারে আলাদা অনুভূতি দেয়। ক্যাম্পিং করারও সুযোগ রয়েছে এখানে, যা তরুণদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে তাজপুর হতে পারে আদর্শ।
আরও একটু এগিয়ে গেলে পাওয়া যায় শঙ্করপুর। এটি মূলত একটি মৎস্যবন্দর হলেও এর সমুদ্রসৈকত খুবই পরিষ্কার ও শান্ত। ভোরবেলায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়, যা একেবারে আলাদা অভিজ্ঞতা। এখানে পর্যটকের সংখ্যা কম হওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই নিরিবিলি। যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার গন্তব্য। যদি একটু দূরে যেতে আপত্তি না থাকে, তাহলে গোপালপুর হতে পারে আপনার পরবর্তী পছন্দ। ওড়িশার এই সমুদ্রসৈকতটি খুবই সুন্দর এবং তুলনামূলকভাবে কম ভিড় হয়। ব্রিটিশ আমলের পুরনো স্থাপত্যের ছোঁয়া, শান্ত পরিবেশ এবং পরিষ্কার সৈকত—সব মিলিয়ে এটি এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর।
আরও একটি সুন্দর বিকল্প হল চাঁদিপুর। এই সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল সমুদ্র এখানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সরে যায়। ফলে আপনি হেঁটে অনেকটা ভিতর পর্যন্ত যেতে পারেন। এই অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল এবং একবার না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এখানে ভিড়ও অনেক কম, ফলে নিশ্চিন্তে সময় কাটানো যায়। যারা একটু একেবারে নির্জনতা চান, তাদের জন্য জুনপুট একটি আদর্শ জায়গা। এটি এখনও খুব বেশি পরিচিত নয়, ফলে পর্যটকের সংখ্যা কম। শান্ত পরিবেশ, গাছপালায় ঘেরা রাস্তা এবং নির্জন সৈকত—সব মিলিয়ে এটি একটি পারফেক্ট ‘ডিটক্স’ ডেস্টিনেশন। এই সব জায়গার একটি বড় সুবিধা হল, এগুলো তুলনামূলকভাবে সহজেই পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে বা ট্রেনে খুব বেশি সময় লাগে না। ফলে ছোট্ট উইকেন্ড ট্রিপের জন্য এগুলো একেবারে উপযুক্ত।
তবে যেখানেই যান না কেন, কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন, গরমকালে সমুদ্রতটে গেলে পর্যাপ্ত জল পান করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দিঘা বা পুরী অবশ্যই সুন্দর জায়গা, কিন্তু যদি আপনি একটু শান্তি, নির্জনতা এবং অন্যরকম অভিজ্ঞতা খুঁজে থাকেন, তাহলে এই বিকল্প সৈকতগুলো একবার ঘুরে দেখতেই পারেন। কখনও কখনও পরিচিত জায়গার বাইরে বেরিয়ে এলেই নতুন সৌন্দর্যের সন্ধান মেলে।
তাই পরের উইকেন্ডে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রকে উপভোগ করুন নিজের মতো করে—শান্ত, নির্ভার আর একেবারে নিজের ছন্দে।
20th Apr 2026
ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
20th Apr 2026
স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
20th Apr 2026
স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি