11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বাচ্চারা খেতে চাইছে না? পুষ্টিকর খাবারকে কীভাবে আকর্ষণীয় করবেন?

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি



অনেক অভিভাবকেরই একটি সাধারণ সমস্যা—বাচ্চারা ঠিকমতো খেতে চায় না। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবার যেমন সবজি, ডাল, ফল বা ঘরে বানানো স্বাস্থ্যকর খাবার দেখলেই অনেক শিশু মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে চিন্তা বাড়ে—শিশু কি যথেষ্ট পুষ্টি পাচ্ছে? তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে তো? আসলে বাচ্চাদের খাওয়ার অনীহার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে। খাবারের স্বাদ, রং, গন্ধ, পরিবেশন পদ্ধতি—সবকিছুই তাদের খাওয়ার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে। তাই শুধু পুষ্টিকর খাবার বানালেই হবে না, সেটিকে আকর্ষণীয় করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই বুঝতে হবে, বাচ্চারা চোখ দিয়ে আগে খাবার “খায়”। খাবার যত রঙিন, সাজানো ও মজাদার দেখাবে, তারা তত আগ্রহ দেখাবে। তাই প্রতিদিনের সাধারণ খাবারকেও একটু সৃজনশীলভাবে পরিবেশন করা যেতে পারে। যেমন—সবজি দিয়ে হাসিমুখ বানানো, ফল দিয়ে কার্টুন আকৃতি তৈরি করা বা রঙিন প্লেটে পরিবেশন করা। এতে খাবারের প্রতি তাদের কৌতূহল বাড়ে। আরেকটি কার্যকর উপায় হলো খাবারকে গল্পের সাথে যুক্ত করা। ধরুন, গাজরকে বলা যেতে পারে “সুপারহিরো ফুড” যা চোখ ভালো রাখে, বা পালং শাককে “পাওয়ার লিফ” বলা যেতে পারে। শিশুরা গল্প পছন্দ করে, তাই এই ধরনের কল্পনা তাদের খাওয়ার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।

শিশুকে খাবার তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন তারা নিজেরা কিছু বানাতে সাহায্য করে—যেমন স্যালাড মেশানো, রুটি বেলতে চেষ্টা করা বা ফল সাজানো—তখন সেই খাবার খাওয়ার প্রতি তাদের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এতে তারা দায়িত্ববোধও শেখে। একই ধরনের খাবার বারবার দিলে শিশুরা বিরক্ত হয়ে যায়। তাই একই পুষ্টিকর উপাদানকে ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিবেশন করা যেতে পারে। যেমন, ডাল শুধু স্যুপ হিসেবে না দিয়ে ডাল দিয়ে চিলা, প্যানকেক বা কাটলেট বানানো যেতে পারে। এতে স্বাদ ও বৈচিত্র্য দুটোই বাড়ে। খাবারের সময়টিকে আনন্দময় করে তোলাও জরুরি। অনেক সময় আমরা বাচ্চাকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করি, যা উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার বদলে পরিবারের সবাই একসাথে বসে খেলে, গল্প করতে করতে খেলে, বাচ্চারাও আগ্রহ পায়। বাচ্চাদের জন্য ছোট পরিমাণে খাবার দেওয়া উচিত। বেশি পরিমাণ খাবার দেখলে তারা ভয় পেয়ে যায় বা খেতে অনীহা দেখায়। অল্প অল্প করে বারবার দিলে তারা সহজে খেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাচ্চাদের সামনে স্বাস্থ্যকর খাবারের ভালো উদাহরণ তৈরি করা। তারা বড়দের দেখে শেখে। যদি তারা দেখে বাবা-মা নিয়মিত সবজি, ফল খাচ্ছেন, তাহলে তারাও ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস গড়ে তোলে। খাবারের মধ্যে লুকিয়ে পুষ্টি দেওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন—সবজি কুচি করে খিচুড়ি, পাস্তা বা নুডলসে মিশিয়ে দেওয়া, ফল দিয়ে স্মুদি বানানো। এতে তারা না বুঝেই পুষ্টি পেয়ে যায়। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড বা প্যাকেটজাত খাবার কমানোও জরুরি। যদি বাচ্চারা নিয়মিত এসব খাবার খায়, তাহলে তারা ঘরের খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কমিয়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প দেওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য রাখা। বাচ্চাদের খাবারের অভ্যাস একদিনে বদলায় না। সময় লাগে, নিয়মিত চেষ্টা করতে হয়। জোর না করে, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। সঠিকভাবে পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবারও হয়ে উঠতে পারে বাচ্চাদের প্রিয়। একটু নতুনভাবে ভাবুন, আর দেখুন—খাবার নিয়ে আর কোনো যুদ্ধ নয়, বরং আনন্দময় একটি অভিজ্ঞতা!

Archive

Most Popular