27th Jul 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গরমে বারবার ক্লান্ত লাগছে? শরীরকে এনার্জি দিতে কোন খাবার খাবেন?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


গরম পড়লেই অনেকের শরীরে যেন আলস্য ভর করে। সারাদিন ঘাম, অস্বস্তি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঝিমঝিম করা কিংবা কাজে মন না বসা— এই সমস্যাগুলো গ্রীষ্মকালে খুবই সাধারণ। বিশেষ করে তীব্র গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে দুর্বলতা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন শুধু বেশি জল খেলেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু শরীরকে ভেতর থেকে এনার্জি দিতে সঠিক খাবার খাওয়াও সমান জরুরি।

গরমের সময় এমন খাবার বেছে নেওয়া দরকার, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখবে, সহজে হজম হবে এবং সারাদিন শক্তি জোগাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। বরং হালকা, পুষ্টিকর এবং জলসমৃদ্ধ খাবারই শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

ডাবের জল হতে পারে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক:

গরমের দিনে শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করতে ডাবের জলের জুড়ি নেই। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট, যা শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে খনিজ বেরিয়ে যায়, ডাবের জল তা অনেকটাই পূরণ করে দেয়।

এছাড়া এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্তি কমাতেও সাহায্য করে। বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ডাবের জল শরীরকে মুহূর্তে সতেজ করে দিতে পারে।

মৌসুমি ফল রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়:

গরমের সময় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, আনারস, লিচু কিংবা আমের মতো মৌসুমি ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ফলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে জল, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।

বিশেষ করে তরমুজ ও শসা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আবার আম শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল একসঙ্গে বেশি না খাওয়াই ভালো।

দই ও ঘোল গরমে স্বস্তি দেয়:

গরমে হজমের সমস্যা খুব সাধারণ একটি বিষয়। তাই এই সময় দই, ঘোল খাওয়া খুব উপকারী। দই শরীর ঠান্ডা রাখে এবং পেটের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

দুপুরের খাবারের সঙ্গে এক বাটি টক দই বা সামান্য ভাজা জিরে দিয়ে তৈরি ছাছ শরীরকে অনেকটা ফ্রেশ অনুভব করায়। এটি ক্লান্তি কমাতেও সাহায্য করে।

ভাতের সঙ্গে পাতলা ডাল ও সবজি খান:

অনেকেই গরমে ভারী খাবার খেতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।

গরমের দিনে ভাত, পাতলা ডাল, আলু পোস্ত, লাউ, ঝিঙে, পটল বা পুঁইশাকের মতো সহজপাচ্য সবজি শরীরকে স্বস্তি দেয়। অতিরিক্ত মশলাদার খাবারের বদলে সাদাসিধে রান্না শরীরের উপর চাপ কম ফেলে।

লেবুর শরবত ও দেশি পানীয় শরীরকে চাঙ্গা রাখে:

গরমে শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে লেবুর শরবত, আমপোড়ার শরবত, বেলের শরবত বা জলজিরা দারুণ উপকারী। এই দেশি পানীয়গুলি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরকে ঠান্ডাও রাখে।

বিশেষ করে আমপোড়ার শরবত হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে বাইরে থেকে অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংক বা কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় কম খাওয়াই ভালো।

প্রোটিন জাতীয় খাবারও জরুরি:

শুধু জলীয় খাবার খেলেই চলবে না। শরীরকে দীর্ঘক্ষণ এনার্জি দিতে প্রোটিনও দরকার। ডিম, মাছ, ডাল, ছোলা, মুগ স্প্রাউটস বা পনিরের মতো খাবার শরীরকে শক্তি জোগায়।

তবে গরমে খুব ভারী মাংসজাতীয় খাবার কম খাওয়াই ভালো। অল্প পরিমাণে সুষম প্রোটিন শরীরকে দুর্বল হওয়া থেকে রক্ষা করে।

অতিরিক্ত চা-কফি ক্লান্তি বাড়াতে পারে:

ক্লান্তি কাটাতে বারবার চা বা কফি খান। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে জলের ঘাটতি বাড়াতে পারে। ফলে শরীর আরও ক্লান্ত লাগে।

তাই দিনে সীমিত পরিমাণে চা বা কফি খাওয়া ভালো। তার বদলে বেশি করে জল, ফলের রস বা ঘরোয়া পানীয় খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না:

গরমে খিদে কমে গেলেও দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা ঠিক নয়। এতে শরীরে সুগারের মাত্রা কমে গিয়ে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা হতে পারে।

অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো। ফল, বাদাম, চিঁড়ে, মুড়ি বা হালকা স্ন্যাকস শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত জল খাওয়া সবচেয়ে জরুরি:

গরমে ক্লান্তি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত জল পান করা। অনেক সময় শরীরে জল কমে গেলেও আমরা তা বুঝতে পারি না। ফলে মাথা ব্যথা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়।

তাই তেষ্টা না পেলেও নিয়মিত জল খাওয়া উচিত। বাইরে বেরোলে অবশ্যই সঙ্গে জলের বোতল রাখা দরকার।

গরমের সময় শরীরকে সুস্থ ও এনার্জিতে ভরপুর রাখতে শুধু বিশ্রাম নয়, সঠিক খাবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হালকা, পুষ্টিকর ও জলসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং ক্লান্তি কমায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল, সঠিক ঘুম এবং নিয়মিত বিশ্রামও সমান প্রয়োজন। সামান্য খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনেই গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই এই গ্রীষ্মে শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন এবং নিজের এনার্জি ধরে রাখুন সারাদিন।

Archive

Most Popular