19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

ডুমস্ক্রোলিং: এক নীরব মানসিক ক্ষয়

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


সকালে ঘুম ভাঙতেই আমরা হাতে নিই স্মার্টফোন, আর শুরু হয় স্ক্রলিং। দুর্ঘটনা, সহিংসতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, জলবায়ু বিপর্যয় নেতিবাচক খবরের স্রোতে চোখ আটকে যায়। আর আমরা বলে উঠি, আরেকটু দেখি। এই থেমে না-থাকা অভ্যাসটির নামই ডুমস্ক্রোলিং। শুনতে নিরীহ, কিন্তু এর প্রভাব মারাত্মক।

কেন হয় ডুমস্ক্রোলিং?

আমাদের মস্তিষ্ক বিপদের খবরকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর সুযোগ নেয় সোশ্যাল মিডিয়ার এলগোরিদম। ভয়ের, রাগের, বা দুঃখের কনটেন্টে আমরা বেশি সময় কাটাই, ফলে সে-রকম পোস্টই আরও সামনে আসে। আরও কিছু জেনে নেওয়ার বাসনা, কী ঘটছে চারপাশে এই মানসিকতা আমাদের আটকে ফেলে এক বিষাক্ত চক্রে।

ভয়ের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ

মানুষ বিপদের খবরকে দ্রুত গ্রহণ করে এটি আমাদের টিকে থাকার প্রাচীন প্রবৃত্তি। তাই নেতিবাচক, ভীতিকর বা দুঃখজনক খবর সহজেই আমাদের মনোযোগ কাড়ে।


????সোশ্যাল মিডিয়ার এলগোরিদম

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম আপনার “অবিরাম মনোযোগ” ধরে রাখার জন্য কাজ করে। আপনি যে ধরনের খবর বা ভিডিওতে বেশি সময় দেন, প্ল্যাটফর্মগুলো সেই ধাঁচের কনটেন্টই আপনাকে বারবার দেখায়। এতে আপনি একঘেয়ে নেতিবাচক তথ্যের ঘূর্ণিপাকে আটকে পড়েন।


???? FOMO (Fear of Missing Out)

আমরা ভাবি, আরও কিছু জানা বাকি আছে, বা এখন না দেখলে কিছু মিস করব—এই মানসিকতা আমাদের থামতে দেয় না।


???? মানসিক অস্থিরতা বা একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে

অনেকেই একাকীত্ব, ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভুলতে ডুমস্ক্রোলিং করেন। কিন্তু তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপই বাড়িয়ে তোলে।


ডুমস্ক্রোলিংয়ের প্রভাব কী?

ডুমস্ক্রোলিং কেবল সময় নষ্ট করে না, এটি ধীরে ধীরে আপনার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। নিচে উল্লেখ করা হলো এর কিছু প্রধান ক্ষতিকর প্রভাব:


???? উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পায়

নেতিবাচক খবর বারবার পড়লে মস্তিষ্ক বিপদের সঙ্কেত পায়, ফলে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।


???? হতাশা ও বিষণ্ণতা

প্রতিদিন খারাপ খবর দেখতে দেখতে মনে হয় পৃথিবীতে ভালো কিছু ঘটছেই না। এই মানসিকতা থেকে জন্ম নেয় হতাশা ও দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন)।


???? ঘুমের ব্যাঘাত

রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রল করতে করতে সময় কেটে যায়, আর সেই নেতিবাচক কনটেন্ট ঘুমের মান খারাপ করে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা।


???? একাগ্রতার অভাব ও কাজের প্রতি অনীহা

মন বারবার সেই নেতিবাচক চিন্তাগুলোতে ফিরে যায়, ফলে কাজে মন বসে না, প্রোডাকটিভিটি কমে যায়।


???? নিজের জীবনের প্রতি অসন্তোষ

অন্যের জীবনের তুলনায় নিজের জীবনকে দুর্বল মনে হয়। নিজের অর্জন, সময় বা ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা কমে যায়।

কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?

  • সকাল ও রাতের শুরুটা ফোন ছাড়াই করুন

  • সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য সময়সীমা ঠিক করুন

  • আনন্দদায়ক বা প্রেরণামূলক কনটেন্ট দেখুন

  • বাস্তব জগতে ফিরে আসুন কথা বলুন, হাঁটুন, বই পড়ুন

  • দরকার হলে ডিজিটাল ডিটক্স নিন


খবর রাখা জরুরি, কিন্তু নিজেকে হারিয়ে ফেলার দামে নয়। আমরা যখন মনে করি আরও কিছু জানতেই হবে, তখনই দরকার হয় থেমে যাওয়ার। নিজের মনের যত্ন নিন, ডুমস্ক্রোলিং নয়, সংবেদনশীল সংযোগই হোক আপনার ডিজিটাল অভ্যাসের নতুন পথ। ডুমস্ক্রোলিং আমাদের জীবনের অদৃশ্য শত্রু হয়ে উঠছে যা সময়, মনোযোগ, আর মানসিক শান্তি চুরি করে নিচ্ছে প্রতিদিন। খবর জানা দরকার, কিন্তু নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের বিনিময়ে নয়। তাই এখনই সময় স্ক্রল করা থামিয়ে নিজের দিকে ফিরে তাকানোর। স্মার্টফোন নয়, সংবেদনশীল সংযোগই হোক জীবনের আসল পথ। নিজেকে ভালোবাসুন, সচেতন থাকুন আপনার মনের দায়িত্ব আপনিই নিন।

Archive

Most Popular