11th Jun 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

গরমে যত্নে রাখুন নিজের পোষ্যটিকেও।

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


গরমকাল শুধু মানুষের জন্য নয়, পোষ্যদের জন্যও অত্যন্ত কষ্টকর সময়। প্রচণ্ড তাপ, আর্দ্রতা এবং গরম হাওয়ার কারণে অনেক সময় কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য পোষ্য দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেহেতু তারা মানুষের মতো নিজেদের অস্বস্তি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, তাই তাদের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

অনেকেই মনে করেন শুধু খাবার দিলেই পোষ্যের যত্ন সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু গরমের সময় তাদের শরীরের চাহিদা অনেকটাই বদলে যায়। সামান্য অসাবধানতাও হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন কিংবা ত্বকের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে পোষ্যদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত জল। অনেক সময় প্রাণীরা নিজেরা যথেষ্ট জল খায় না। তাই সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা জল কাছে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়িতে একাধিক জায়গায় জলের পাত্র রাখলে তারা সহজে জল খেতে পারে।

অনেকেই পোষ্যদের নিয়ে দুপুরে হাঁটতে বেরোন। কিন্তু গরমের সময় এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। দুপুরের গরম রাস্তা পোষ্যের পায়ের জন্যও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরমে তাদের শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই সকাল সকাল বা সন্ধ্যার পরে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে কুকুরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হাঁপানো, জিভ অনেকটা বেরিয়ে থাকা, দুর্বল হয়ে পড়া বা বারবার শুয়ে পড়া— এগুলো হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন কিছু দেখলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে জল খাওয়ানো দরকার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

গরমে পোষ্যদের খাবারের দিকেও নজর রাখা জরুরি। খুব ভারী বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা খাবার সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে পেটের সমস্যা বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই টাটকা খাবার দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার সরিয়ে ফেলা ভালো। অনেক পোষ্য গরমে খাওয়া কমিয়ে দেয়। এটি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন এমন চললে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।

গরমের সময় পোষ্যদের শরীর পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্রাশ করলে অতিরিক্ত লোম ঝরে যায় এবং শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয়। তবে অনেকেই গরমে সম্পূর্ণ লোম কেটে ফেলেন, যা সবসময় ঠিক নয়। কারণ অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে লোম তাদের শরীরকে অতিরিক্ত তাপ থেকেও রক্ষা করে। তাই লোম কাটার আগে অবশ্যই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

গরমে ত্বকের সংক্রমণও অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘাম, ধুলো বা ভেজা জায়গায় থাকার কারণে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই পোষ্যের শোবার জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। বর্তমানে অনেকেই পোষ্যদের সারাদিন এসির মধ্যে রাখেন। কিন্তু খুব ঠান্ডা পরিবেশও তাদের শরীরের জন্য সবসময় ভালো নয়। ঘরের তাপমাত্রা যেন স্বাভাবিক ও আরামদায়ক থাকে, সেদিকে নজর রাখা দরকার।

বাইরে বেরোলে গাড়ির মধ্যে কখনও পোষ্যকে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ির ভিতরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বস্তিও পোষ্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরমে অনেক প্রাণী বিরক্ত, ক্লান্ত বা অস্থির হয়ে পড়ে। তাই তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, খেলাধুলো করা এবং আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়াও জরুরি।

বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে বয়স্ক পোষ্য রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার। বয়স্ক প্রাণীরা গরম সহজে সহ্য করতে পারে না এবং দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। গরমের দিনে পোষ্যের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অতিরিক্ত নিস্তেজ ভাব, খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

একটি পোষ্য শুধু প্রাণী নয়, পরিবারেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাই তাদের আরাম ও সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। সামান্য যত্ন, সচেতনতা এবং ভালোবাসাই গরমের কষ্ট থেকে তাদের অনেকটা সুরক্ষিত রাখতে পারে। গ্রীষ্মের এই সময়ে নিজের পাশাপাশি পোষ্যের দিকেও নজর রাখুন। কারণ তারা কথা বলতে না পারলেও যত্ন ও ভালোবাসা ঠিকই অনুভব করতে পারে।

Archive

Most Popular