স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
গরম পড়লেই অনেকের ত্বকে ব্রণ, ছোট ছোট ফুসকুড়ি, অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কিংবা র্যাশের সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক অয়েলি বা সেনসিটিভ, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। সারাদিন ঘাম, ধুলো, দূষণ এবং তীব্র রোদের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মুখে বারবার ব্রণ বেরোতে শুরু করে। অনেকেই এই সময় ব্রণ ঢাকতে অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করেন বা বারবার মুখ ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু ভুল স্কিনকেয়ার অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে ত্বকের যত্নে কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ শীতকালের স্কিনকেয়ার রুটিন গরমে সবসময় কার্যকর হয় না। গরমের সময় ত্বকে অতিরিক্ত ঘাম ও তেল জমে রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা বাড়ে। তাই এই সময় ত্বক পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে দু’বার মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। খুব বেশি শক্ত বা কেমিক্যালযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তখন ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে, যা ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার দরকার নেই। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। ত্বক হাইড্রেটেড না থাকলে তেল উৎপাদন আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই গরমে হালকা, জেল-বেসড বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
সানস্ক্রিন ব্যবহারও অত্যন্ত জরুরি। তীব্র রোদ শুধু ত্বক পুড়িয়ে দেয় না, ব্রণের দাগও আরও গাঢ় করে তুলতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই হালকা ও নন-কমেডোজেনিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। গরমের সময় ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলাই ভালো। ঘাম ও তেলের সঙ্গে মেকআপ মিশে রোমছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে ব্রণ আরও বাড়তে পারে। তাই যতটা সম্ভব হালকা মেকআপ ব্যবহার করা ভালো।
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া কিছু উপায়ও উপকারী হতে পারে। অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণের জ্বালা কমাতে কার্যকর। গোলাপজলও ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তবে লেবু, টুথপেস্ট বা বেকিং সোডার মতো জিনিস সরাসরি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো। অনেক সময় এগুলো ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাইরের যত্ন নয়, খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার, কম জল খাওয়া বা অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার অনেক সময় ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই গরমের সময় বেশি করে জল, ফল, শাকসবজি এবং হালকা খাবার খাওয়া উচিত। ডাবের জল, শসা, তরমুজ বা লেবুর শরবত শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, যার প্রভাব ত্বকেও পড়ে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা বালিশের কভার, তোয়ালে বা মোবাইল স্ক্রিন থেকেও ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। অনেকেরই ব্রণ হলে বারবার হাত দিয়ে খোঁটার অভ্যাস থাকে। এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে এবং পরে দাগও থেকে যেতে পারে। তাই ব্রণ খোঁটা একেবারেই উচিত নয়।
গরমে অতিরিক্ত স্ট্রেস, ঘুম কম হওয়া বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক স্বস্তিও ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি ব্রণ খুব বেশি বেড়ে যায়, ব্যথা হয় বা দীর্ঘদিন না কমে, তাহলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজের মতো করে অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে অনেক সময় সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গরমের সময় ত্বকের যত্নে সরল ও নিয়মিত রুটিন বজায় রাখা। খুব বেশি প্রোডাক্ট একসঙ্গে ব্যবহার না করে ত্বককে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই ভালো। সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হালকা স্কিনকেয়ার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে গরমের সময়ও ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। কারণ সুন্দর ত্বক শুধু বাইরের যত্নে নয়, ভেতরের সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত।