10th Aug 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

স্বাধীনতা দিবসে বেড়াতে যাবেন? কলকাতার কাছেই ঘুরে আসুন এই ৫ জায়গা থেকে।

ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি


স্বাধীনতা দিবস মানেই একদিনের ছুটি। অনেকেই এই সুযোগে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সময়ের অভাব, ট্রেনের টিকিট না পাওয়া বা অতিরিক্ত খরচের কারণে সেই পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। অথচ কলকাতার আশপাশেই এমন অনেক সুন্দর গন্তব্য রয়েছে, যেখানে একদিন কিংবা সপ্তাহান্তে ঘুরে এসে মন ভালো করে নেওয়া যায়। সবুজ প্রকৃতি, নদীর ধারে শান্ত পরিবেশ, ইতিহাসের ছোঁয়া কিংবা পাহাড়ি আবহ—সবই মিলবে অল্প দূরত্বের মধ্যেই।

যাঁরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য দারুণ একটি গন্তব্য বাওয়ালি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলটি মূলত পরিচিত ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ির জন্য। পুরনো বাংলার স্থাপত্য, বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর এবং গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশ শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে এক অন্যরকম মুক্তির স্বাদ দেয়। এখানকার ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদও নেওয়া যায়।

ইতিহাস ও নদীর সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন চন্দননগর। হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশ আজও তার নিজস্ব স্থাপত্য ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। স্ট্র্যান্ডে হাঁটতে হাঁটতে নদীর হাওয়া উপভোগ করা, ফরাসি আমলের ভবন দেখা কিংবা জাদুঘর ঘুরে দেখা—সব মিলিয়ে দিনটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে। সন্ধ্যায় নদীর ধারে সূর্যাস্তের দৃশ্যও অত্যন্ত মনোরম।

যদি সবুজ অরণ্য, নদী আর পাহাড়ের ছোঁয়া একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাহলে গড়পঞ্চকোট হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। পুরুলিয়ার এই ঐতিহাসিক স্থানটি ধ্বংসাবশেষ, প্রাচীন মন্দির এবং পঞ্চকোট পাহাড়ের জন্য পরিচিত। বর্ষার শেষে চারপাশের সবুজ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, ফলে প্রকৃতিপ্রেমী এবং ফটোগ্রাফি-প্রেমীদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণীয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর জন্য জায়গাটি সত্যিই অনন্য।

অন্যদিকে, সমুদ্রের হাওয়া যদি আপনার বেশি টানে, তাহলে তাজপুর হতে পারে সেরা পছন্দ। দিঘার তুলনায় তুলনামূলক শান্ত এই সমুদ্রসৈকত এখনো অনেকটাই নিরিবিলি। লাল কাঁকড়ায় ভরা সৈকত, ঝাউবনের সারি এবং ভোর কিংবা বিকেলের সমুদ্রের রূপ মনকে সতেজ করে তোলে। একদিনের তুলনায় এক রাত থেকে গেলে জায়গাটির সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

যাঁরা পাহাড়ের আবহ অনুভব করতে চান কিন্তু বেশি দূরে যেতে চান না, তাঁদের জন্য অযোধ্যা পাহাড় একটি চমৎকার বিকল্প। পুরুলিয়ার এই পাহাড়ি অঞ্চল বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে সবুজে ঢেকে যায়। ঝরনা, ছোট ছোট পাহাড়ি রাস্তা, বনাঞ্চল এবং নির্মল পরিবেশ ট্রেকিং বা প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে আগ্রহীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরে আসা সম্ভব হলেও, এক রাত থাকলে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়ে।

তবে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এই সময় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই হোটেল বুকিং, গাড়ির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখা উচিত। বর্ষাকাল হওয়ায় ছাতা বা রেনকোট, অতিরিক্ত পোশাক, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী এবং পানীয় জল সঙ্গে রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ। পাহাড় বা সমুদ্র—যেখানেই যান না কেন, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত।

ভ্রমণের সময় পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি সম্মান দেখান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, একটি সুন্দর পর্যটনস্থলকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব পর্যটকদেরও।

স্বাধীনতা দিবস শুধু জাতীয় গর্বের দিন নয়, নিজের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নেওয়ারও একটি সুযোগ। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার কাছাকাছি এই গন্তব্যগুলির যেকোনো একটিতে ঘুরে এলে মন যেমন ভালো হবে, তেমনি নতুন উদ্যমে আবার কাজেও ফিরতে পারবেন। খুব বেশি সময় বা অর্থ ব্যয় না করেও একটি স্মরণীয় ছুটি কাটানো যে সম্ভব, তা এই পাঁচটি গন্তব্যই প্রমাণ করে।

Archive

Most Popular