ভ্রমণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
দুর্গাপুজো মানেই ভ্রমণের আনন্দ। পরিবার, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে ছোট-বড় সফর এখন পুজোর অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আর এই ভ্রমণযাত্রায় আজকাল অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV)। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি খরচে সাশ্রয়ী এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বাহন এখন অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে প্রচলিত পেট্রোল-ডিজেল গাড়ির তুলনায় ইভি নিয়ে সফরে গেলে কিছু বিশেষ বিষয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘ সফরে ব্যাটারি চার্জিং, রাস্তার সুবিধা, নিরাপত্তা, এমনকি আবহাওয়ার প্রভাব সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই এবারের পুজো সফরে যদি ইভি বাহন নিয়ে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকে, তবে কী কী মাথায় রাখা উচিত তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
চার্জিং স্টেশন লোকেশন: সফরে বেরোনোর আগে পুরো রুটে কোথায় কোথায় EV চার্জিং স্টেশন আছে, তা নিশ্চিত করুন। গুগল ম্যাপ, প্লাগশেয়ার, টাটা পাওয়ার, স্ট্যাটিক্স চার্জিং-এর মতো অ্যাপ এই তথ্য সহজে দেয়।
দূরত্ব হিসাব: প্রতিদিন কত কিলোমিটার চলবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যাটারি রেঞ্জের হিসাব আগে থেকে করে নিন।
অ্যাডভান্স বুকিং: কিছু হাইওয়ে চার্জিং পয়েন্টে ভিড় হয়। আগে থেকে স্লট বুকিং করলে সময় বাঁচে।
সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে যাত্রা শুরু: সফরের আগে রাতেই গাড়ি ফুল চার্জ করে রাখুন।
ড্রাইভিং মোড নির্বাচন: Eco Mode বা Normal Mode ব্যবহার করলে ব্যাটারি রেঞ্জ বাড়ে।
স্পিড কন্ট্রোল: উচ্চ গতিতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। মাঝারি গতিতে স্থিরভাবে চালান।
রিজেনারেটিভ ব্রেকিং: নেমে আসা রাস্তায় বা ধীরে চলার সময় ব্রেক ব্যবহার করলে ব্যাটারি কিছুটা চার্জ হয়—এটাকে কাজে লাগান।
পোর্টেবল চার্জার: ভ্রমণের সময় সাথে রাখুন। হোটেল বা গেস্ট হাউসের প্লাগ পয়েন্টে ব্যবহার করা যায়।
অ্যাডাপ্টার ও কেবল: সব চার্জিং স্টেশনে একই ধরনের পোর্ট নাও থাকতে পারে। তাই মাল্টিপল অ্যাডাপ্টার রাখুন।
এক্সটেনশন কর্ড: হোটেলের পার্কিংয়ে চার্জিং দূরে হলে কাজে লাগবে।
গরম আবহাওয়া: ব্যাটারি গরম হয়ে গেলে রেঞ্জ কমতে পারে। গাড়িকে ছায়ায় রাখুন।
শীতল আবহাওয়া: ঠান্ডায় ব্যাটারি পারফরম্যান্স কিছুটা কমে যায়। তাই রিজার্ভ চার্জ সবসময় রাখুন।
বর্ষাকালীন সাবধানতা: চার্জিং করার সময় ভেজা হাতে বা ভিজে জায়গায় কেবল ছোঁবেন না।
ফায়ার সেফটি কিট: ইভি গাড়িতে আলাদা অগ্নিনির্বাপক রাখা ভালো।
ফার্স্ট এইড বক্স: যেকোনো সফরে জরুরি।
ব্যাটারি হেলথ মনিটর: সফরের সময় গাড়ির ডিসপ্লেতে ব্যাটারির অবস্থা নজর রাখুন।
চার্জিং বিরতি কাজে লাগান: চার্জ হতে সময় লাগে (৩০ মিনিট–২ ঘণ্টা)। সেই সময় খাবার, চা-কফি, বিশ্রাম, অথবা ফটো তোলার কাজ সারুন।
অ্যাপ ডাউনলোড করুন: EV মালিকদের কমিউনিটি অ্যাপ ব্যবহার করে চার্জিং পয়েন্টের আপডেট পেতে পারেন।
EV নিয়ে সফরে জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমে যায়।
হাইওয়ে চার্জিং স্টেশনগুলোতে সাধারণত প্রতি ইউনিটে নির্দিষ্ট টাকা কাটা হয়, যা পেট্রোল/ডিজেলের তুলনায় সাশ্রয়ী।
তবে ফাস্ট চার্জারের খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে, সেটা মাথায় রাখুন।
অতিরিক্ত খাবার ও পানীয় রাখুন, কারণ চার্জিং বিরতিতে সময় বেশি লাগতে পারে।
বাচ্চাদের বিনোদনের ব্যবস্থা করুন—বই, খেলা বা মিউজিক।
আরামদায়ক আসন: সফরে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়, তাই সিট কুশন বা নেক পিলো কাজে লাগবে।
EV ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার সফর কার্বন নিঃসরণ কমায়।
পথে প্লাস্টিক বোতল বা আবর্জনা ফেলে দেবেন না।
হোটেল ও রিসোর্ট বেছে নিন যারা পরিবেশবান্ধব নীতি মেনে চলে।
লো ব্যাটারি: কাছের চার্জিং স্টেশন বা হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে টোয়িং সার্ভিসের নম্বর রাখুন।
অ্যাপ অফলাইন হলে: আগে থেকে চার্জিং স্টেশনের ঠিকানা লিখে রাখুন।
রাস্তা বন্ধ বা ট্র্যাফিক জ্যাম: অতিরিক্ত চার্জ খরচ হতে পারে। তাই রিজার্ভ চার্জ রাখুন।
পুজো সফরে ইভি বাহন নেওয়া যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি আধুনিকতারও প্রতীক। তবে সফরের আগে সঠিক পরিকল্পনা, চার্জিং সুবিধার তথ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কিছু বাড়তি প্রস্তুতি থাকলেই যাত্রা হবে নির্বিঘ্ন। পুজোর এই সময়টাকে শুধু আনন্দময় নয়, দায়িত্বশীলও করে তুলুন। মনে রাখবেন ইভি নিয়ে ভ্রমণ মানে শুধু এক সফর নয়, ভবিষ্যতের প্রতি এক দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।