6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বৃষ্টির শেষে ডেঙ্গি প্রতিরোধে ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার উপায়

বাড়িঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি


বর্ষা শেষের দিকে এলেই ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। কয়েক দিনের বৃষ্টির পর জমে থাকা অল্প জলও মশার বংশবিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে এডিস মশা, যা ডেঙ্গি ভাইরাস বহন করে, পরিষ্কার ও স্থির জলে ডিম পাড়ে। তাই শুধু মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে দিলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও জল জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।অনেকের ধারণা, শুধুমাত্র নোংরা নালা বা আবর্জনার মধ্যেই মশা জন্মায়। বাস্তবে এডিস মশা পরিষ্কার জলে বংশবিস্তার করতে বেশি পছন্দ করে। বাড়ির বারান্দায় রাখা ফুলের টব, এসির ড্রেন ট্রে, ফ্রিজের জল জমার ট্রে, পুরনো টায়ার, ভাঙা বালতি, বোতলের ঢাকনা বা ছাদে পড়ে থাকা ছোট পাত্রেও জল জমে থাকলে সেখানে মশা জন্মাতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির প্রতিটি কোণ ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।ফুলের টব বা গাছের টবের নীচে জমে থাকা জল নিয়মিত ফেলে দেওয়া জরুরি। যদি ফুলদানি ব্যবহার করেন, তাহলে দুই-তিন দিন অন্তর জল বদলে পাত্রটি পরিষ্কার করে নিন। অনেক সময় খুব অল্প পরিমাণ জলও মশার ডিম পাড়ার জন্য যথেষ্ট হয়। তাই ছোট পাত্র বা কাপেও জল জমে থাকতে দেওয়া উচিত নয়।ছাদের জলনিকাশির ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। বৃষ্টির পরে অনেক সময় নর্দমা বা পাইপে পাতা, প্লাস্টিক বা ময়লা আটকে জল জমে থাকে। সেই জলও মশার প্রজননের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির চারপাশে জল জমে আছে কি না, নিয়মিত দেখে নেওয়া দরকার।যেসব পাত্রে জল সংরক্ষণ করা হয়, যেমন ড্রাম, ট্যাঙ্ক বা বড় বালতি, সেগুলি সবসময় শক্ত করে ঢেকে রাখা উচিত। খোলা অবস্থায় থাকলে সেখানে মশা সহজেই ডিম পাড়তে পারে। একইভাবে ব্যবহার না হওয়া টব, বালতি বা পাত্র উল্টে রাখুন, যাতে বৃষ্টির জল জমতে না পারে।বাড়ির ভিতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখলে সেখানে ধুলো-ময়লা জমার পাশাপাশি মশা লুকিয়ে থাকার সুযোগও বাড়ে। তাই নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করা, জানালার ধারে বা অন্ধকার কোণে জমে থাকা ময়লা সরিয়ে ফেলা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা উচিত।ডেঙ্গি প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষাও জরুরি। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বেশি কামড়ায়। তাই বাইরে বেরোনোর সময় ফুলহাতা জামা, লম্বা প্যান্ট পরা, প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধক লোশন ব্যবহার করা এবং বাড়ির জানালা-দরজায় মশারি বা জালি লাগানো উপকারী হতে পারে।শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের পরিবেশের প্রতিও নজর দিতে হবে। ফাঁকা জমি, নির্মীয়মাণ বাড়ি, পরিত্যক্ত প্লট বা রাস্তার পাশে জল জমে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন বা পুরসভার নজরে আনুন। ডেঙ্গি প্রতিরোধ একটি সামাজিক দায়িত্ব, যেখানে প্রত্যেকের অংশগ্রহণ জরুরি।ডেঙ্গির লক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা ত্বকে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ কিছু ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গির জটিলতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই এই গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। জ্বরকে হালকাভাবে না নিয়ে প্রয়োজনে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো উচিত।ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু চিকিৎসকের নয়, আমাদের সবার। বাড়ি পরিষ্কার রাখা, জল জমতে না দেওয়া, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া—এই কয়েকটি সহজ পদক্ষেপই ডেঙ্গির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। বর্ষার শেষে একটু সচেতনতাই হতে পারে সুস্থ ও নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

Archive

Most Popular