6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

সকালবেলা হাঁটা, না সন্ধ্যায়? কোন সময়ে হাঁটলে বেশি উপকার?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


সুস্থ থাকার অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা। বিশেষ কোনও যন্ত্রপাতি, জিমের সদস্যপদ বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই ব্যায়াম করা যায়। তবে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে—হাঁটার জন্য কোন সময়টি বেশি উপকারী? ভোরবেলা, নাকি সন্ধ্যায়? এ নিয়ে নানা মত থাকলেও চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এককথায় কোনও একটি সময়কে সবার জন্য সেরা বলা যায় না। বরং আপনার শরীর, জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত অভ্যাসের সঙ্গে যে সময়টি মানিয়ে যায়, সেটিই সবচেয়ে উপযোগী। তবে সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটার কিছু আলাদা সুবিধা রয়েছে।সকালের হাঁটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো দিনের শুরুতেই শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে তোলা। ঘুম থেকে ওঠার পর খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটলে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, পেশি সচল হয় এবং দিনের কাজের জন্য শক্তি জোগায়। অনেকেই জানান, সকালে হাঁটার অভ্যাস থাকলে সারাদিন মনোযোগ ধরে রাখা এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এছাড়া নিয়মিত সকালের হাঁটা একটি স্বাস্থ্যকর রুটিন গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।সকালের সূর্যালোকের আরেকটি বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। সকালবেলার কোমল রোদ শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং পেশির কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সকালে প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে রাতে ঘুমের মানও ভালো হতে পারে।যাঁদের লক্ষ্য ওজন কমানো বা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরানো, তাঁদের অনেকেই সকালে হাঁটতে পছন্দ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু সময় নয়, হাঁটার নিয়মিত অভ্যাস, গতি, সময়কাল এবং খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুরই সমান গুরুত্ব রয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সকালে হাঁটলেই ওজন দ্রুত কমবে, এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।অন্যদিকে, সন্ধ্যায় হাঁটারও একাধিক সুবিধা রয়েছে। সারাদিন অফিস বা কাজের চাপের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং শরীরের ক্লান্তিও অনেকটা দূর হয়।  তাই যাঁদের কর্মব্যস্ত জীবন, তাঁদের কাছে সন্ধ্যার হাঁটা অনেক সময় বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়।সন্ধ্যার দিকে শরীরের তাপমাত্রা এবং পেশির নমনীয়তা সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে এই সময় দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। শরীরও তখন ব্যায়ামের জন্য কিছুটা প্রস্তুত থাকে। তাই যাঁরা দ্রুত গতিতে হাঁটতে চান বা হাঁটার সঙ্গে হালকা ব্যায়াম করেন, তাঁদের জন্য সন্ধ্যা সুবিধাজনক হতে পারে।তবে সন্ধ্যায় হাঁটার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। খুব রাতে বা ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই হাঁটতে যাওয়া উচিত নয়। আবার যানবাহনের ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ বেশি থাকে এমন এলাকায় হাঁটার বদলে পার্ক, মাঠ বা কম যানবাহন চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নেওয়াই ভালো। নিরাপত্তার কথাও অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। অনেক চিকিৎসক খাবারের কিছুক্ষণ পরে হাঁটার পরামর্শ দেন, কারণ এতে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য হতে পারে। তবে কারও যদি অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাহলে হাঁটার সময় ও মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।হাঁটার সময়ের পাশাপাশি কীভাবে হাঁটছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটার সময় মাথা সোজা রাখা, কাঁধ ঢিলে রাখা, হাত স্বাভাবিকভাবে নাড়ানো এবং আরামদায়ক জুতো পরা উচিত। শুরুতে ধীরে হাঁটুন, তারপর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান। শেষে আবার কিছুক্ষণ ধীরে হাঁটুন, যাতে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এতে আঘাতের ঝুঁকিও কমে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করা উচিত। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটলেও সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। তবে একদিন অনেকটা হাঁটার বদলে প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত হাঁটা অনেক বেশি উপকারী।

শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের মত একটাই—সকাল বা সন্ধ্যা, কোন সময় হাঁটবেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা। যে সময়ে আপনি স্বচ্ছন্দে, চাপমুক্তভাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখতে পারবেন, সেই সময়টিই আপনার জন্য সেরা। প্রতিদিন মাত্র আধঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো, ঘুমের মান উন্নত করা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Archive

Most Popular