30th Aug 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

চোখের নীচের কালো দাগ কমাতে কোন অভ্যাসগুলি বদলানো জরুরি?

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


আয়নায় তাকিয়ে অনেকেই প্রথম যে সমস্যাটি লক্ষ্য করেন, তা হলো চোখের নীচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কল। এটি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, অনেক সময় শরীরের কিছু অভ্যাস বা জীবনযাত্রারও প্রতিফলন হতে পারে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, অপর্যাপ্ত জল পান কিংবা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস—এসব কারণেই অনেকের চোখের নীচে কালচে ভাব দেখা দেয়। তবে সব ডার্ক সার্কলের কারণ এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়সজনিত পরিবর্তন বা অ্যালার্জিও এর জন্য দায়ী হতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, ডার্ক সার্কল দূর করার জন্য শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই হবে না। বরং প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই বেশি কার্যকর। কারণ সমস্যার মূল কারণ যদি জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেই কারণ দূর না করলে কোনও ক্রিমই দীর্ঘমেয়াদে বিশেষ ফল দিতে পারে না।পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম চোখের নীচের কালো দাগ কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। নিয়মিত রাত জাগা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা ঘুমের অনিয়মের কারণে চোখের চারপাশের রক্তনালি আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা যেতে পারে, ফলে কালো দাগ বেশি চোখে পড়ে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপ বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখে চাপ পড়ে। এতে চোখ ক্লান্ত হয়ে যায় এবং অনেকের ক্ষেত্রে ডার্ক সার্কল আরও স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের উপর চাপ কিছুটা কমে।পর্যাপ্ত জল পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ত্বক নিষ্প্রভ দেখাতে পারে এবং চোখের নীচের অংশ আরও বসে যাওয়া বা কালচে লাগতে পারে। তাই তৃষ্ণা পেলেই শুধু নয়, সারা দিনে নিয়মিত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাশাপাশি মৌসুমি ফল ও জলসমৃদ্ধ শাকসবজিও খাদ্যতালিকায় রাখুন।খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও ডার্ক সার্কলের সম্পর্ক রয়েছে। শরীরে আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন সি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চোখের নীচে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ, বাদাম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। কোনও ভিটামিন বা মিনারেলের ঘাটতির সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।অ্যালার্জির সমস্যাও ডার্ক সার্কলের একটি কারণ হতে পারে। বারবার চোখ চুলকানো বা ঘষার ফলে চোখের চারপাশের ত্বকে রঙের পরিবর্তন হতে পারে। তাই চোখে অ্যালার্জি বা চুলকানি থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে চোখ ঘষার অভ্যাসও ছাড়তে হবে।ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান ত্বকের স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন এবং কোলাজেনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চোখের নীচের কালো দাগও বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সুস্থ ত্বকের জন্য এই অভ্যাসগুলি পরিহার করা গুরুত্বপূর্ণ।সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও চোখের চারপাশের ত্বকে অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করলে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বক কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।বাজারে ডার্ক সার্কল কমানোর নামে নানা ধরনের ক্রিম ও সিরাম পাওয়া যায়। তবে সব পণ্য সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। ক্যাফেইন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, রেটিনল বা নিয়াসিনামাইডযুক্ত কিছু প্রসাধনী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উপকার করতে পারে, কিন্তু এগুলি ব্যবহার করার আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনও পণ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।মনে রাখতে হবে, সব ডার্ক সার্কল সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব নয়। বংশগত কারণ, বয়সের সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন বা চোখের নীচে চর্বির স্তর কমে যাওয়ার মতো কারণে অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা স্থায়ী হতে পারে। যদি হঠাৎ করে কালো দাগ বেড়ে যায়, সঙ্গে চোখ ফুলে যাওয়া, ব্যথা বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চোখের নীচের কালো দাগ কমানোর কোনও জাদুকরী সমাধান নেই। তবে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, নিয়মিত জল পান, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা—এই কয়েকটি অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকার করে। সুন্দর ত্বকের ভিত্তি শুধু প্রসাধনী নয়, বরং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

Archive

Most Popular