30th Aug 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

জন্মাষ্টমীর উপবাসে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে এই দিনে অনেকেই উপবাস পালন করেন। কারও উপবাস সম্পূর্ণ নির্জলা, আবার কেউ ফল, দুধ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু খাবার গ্রহণ করে ব্রত পালন করেন। তবে উপবাস মানেই সারাদিন না খেয়ে থাকা নয়। বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক খাবার বেছে নেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, সুষম খাদ্য ছাড়া দীর্ঘক্ষণ উপবাস করলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, রক্তে শর্করার ওঠানামা বা ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।উপবাসের উদ্দেশ্য শরীরকে কষ্ট দেওয়া নয়, বরং সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক একাগ্রতা বজায় রাখা। তাই কী খাওয়া হবে, তার পাশাপাশি কতটা এবং কখন খাওয়া হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণে এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত, যা ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং সহজে হজম হয়।উপবাসে ফল অন্যতম আদর্শ খাদ্য। কলা, আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা, ডালিম, পেঁপে কিংবা মৌসুমি ফল শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের জোগান দেয়। কলা বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি দেয় এবং পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত ফল না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়াই ভালো।দুধ, টক দই, ছানা কিংবা লস্যির মতো দুগ্ধজাত খাবারও উপবাসে উপযোগী। এগুলিতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো পানীয় বা মিষ্টি লস্যি এড়িয়ে চলাই ভালো। যাঁদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প খাবার বেছে নিতে পারেন।অনেকেই উপবাসে বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, কিশমিশ, কুমড়োর বীজ বা সূর্যমুখীর বীজ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ। অল্প পরিমাণে এগুলি খেলে দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় থাকে এবং বারবার ক্ষুধাও লাগে না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে।যাঁরা উপবাসে শস্যজাত খাবার খান, তাঁদের জন্য সামা চাল, কুট্টুর আটা, রাজগিরা বা সাবুদানার মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে। এগুলি সহজপাচ্য এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে সাবুদানা দিয়ে তৈরি বড়া বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে কম তেলে রান্না করা খিচুড়ি বা পায়েস তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।উপবাসে পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই খাওয়ার দিকে নজর দিলেও জল পান করতে ভুলে যান। এতে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। যদি উপবাসের নিয়মে অনুমতি থাকে, তবে সারা দিনে পর্যাপ্ত জল, ডাবের জল বা চিনি ছাড়া লেবুর জল পান করা উচিত। এগুলি শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।অন্যদিকে কিছু খাবার এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ঘি বা তেলে তৈরি মিষ্টি, বেশি নুনযুক্ত স্ন্যাকস কিংবা অতিরিক্ত চিনি মেশানো শরবত শরীরের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারে। এগুলি সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও পরে দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।চা ও কফি নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেকেই খালি পেটে বারবার চা বা কফি পান করেন, যা অম্বল, গ্যাস বা বুকজ্বালার কারণ হতে পারে। ক্যাফেইনের কারণে শরীরে জলের ঘাটতিও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনে সীমিত পরিমাণে এবং খাবারের সঙ্গে চা বা কফি পান করাই ভালো।ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, গর্ভাবস্থা বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ সময় উপবাস করা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের সময়সূচির সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক থাকে। তাই ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে উপবাসের নিয়ম ঠিক করা প্রয়োজন।উপবাস ভাঙার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। প্রথমে জল বা হালকা পানীয়, তারপর ফল বা সহজপাচ্য খাবার এবং কিছুক্ষণ পরে স্বাভাবিক আহার গ্রহণ করাই ভালো। এতে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

জন্মাষ্টমীর উপবাস মূলত ভক্তি, সংযম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতীক। তাই এই দিন শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাবার নির্বাচন, পর্যাপ্ত জল পান এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে উপবাস পালন করলে ধর্মীয় আচার যেমন পালন করা যায়, তেমনই সুস্থ থাকাও সম্ভব। সংযমের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই জন্মাষ্টমীর উপবাসকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

Archive

Most Popular