6th Oct 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বাড়ি, কলকাতারও আগে শুরু যে পুজোর!

প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি


কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন কিছু পরিবার, যাদের পুজো শহরের জন্মেরও আগের। বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজো তেমনই এক জীবন্ত ইতিহাস। আজ যেখানে ব্যস্ত রাস্তা, দোকানপাট, অজস্র বাড়িঘর আর নাগরিক জীবনের কোলাহল, সেখানেই কয়েক শতাব্দী আগে ছিল অন্য এক বাংলা। কলকাতা তখনও পূর্ণাঙ্গ শহর হয়ে ওঠেনি। সুতানুটি, গোবিন্দপুর আর কলকাতা—এই তিন গ্রামকে ঘিরে ভবিষ্যতের মহানগরের যে বীজ রোপিত হচ্ছিল, তারও বহু আগে বড়িশায় শুরু হয়েছিল দেবীর আরাধনা।

প্রচলিত পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে। সেই সময় বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুঘল শাসনের প্রভাব বাংলায় দৃঢ়, বিভিন্ন জমিদার পরিবার নিজেদের জমি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বিস্তারের পথে এগোচ্ছে, আর গঙ্গার তীরবর্তী ছোট ছোট জনপদ ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই সময়েই লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারের উদ্যোগে বড়িশায় দুর্গাপুজোর সূচনা হয় বলে পরিবারের ঐতিহ্যে জানা যায়।লক্ষ্মীকান্ত মজুমদারের সঙ্গে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের ইতিহাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তিনি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে একাধিক পরগনার জায়গির লাভ করেছিলেন এবং ‘রায়চৌধুরী’ উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধরদের হাতেই বড়িশা ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমিদারি পরিচালিত হয়। তাঁদের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে ‘সাবর্ণ’ নামটিও যুক্ত ছিল। সেই সূত্রেই পরিবারটি ইতিহাসে সাবর্ণ রায়চৌধুরী নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

দুর্গাপুজোর সূচনাকালের কথা ভাবলে আজকের কলকাতাকে কল্পনা করা কঠিন। তখনও কলকাতার পরিচয় ছিল কয়েকটি গ্রামকে ঘিরে। বড়িশাও ছিল আলাদা জনপদ। চারপাশে ছিল জলাভূমি, কৃষিজমি, গাছপালা আর গ্রামীণ বসতি। সেই পরিবেশেই একটি জমিদার পরিবার দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের সূচনা করেছিল, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে—তখন নিশ্চয়ই কেউ ভাবেনি।শুরুতে পুজোর মণ্ডপও ছিল অত্যন্ত সাধারণ। কাঠের থামের উপর হোগলাপাতার ছাউনি দিয়ে তৈরি হয়েছিল আটচালা। সময়ের সঙ্গে পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান বদলেছে, বাড়ির স্থাপত্য বদলেছে, পুজোর আয়োজনও বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু সেই আটচালা পুজোর স্মৃতি এখনও পরিবারের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজও বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পুজো বলতে সেই পুরনো আটচালা বাড়ির কথাই বিশেষভাবে মনে পড়ে।

এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দেবীর প্রতিমা। সাবর্ণ পরিবারের দুর্গাপ্রতিমার মুখ পানপাতার মতো আকৃতির। দেবীর গাত্রবর্ণ স্বর্ণাভ, শিউলি ফুলের বোঁটার সঙ্গে যার তুলনা করা হয়। লাল বেনারসি ও ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কারে সজ্জিত দেবীর রূপে রয়েছে এক ধরনের পুরনো দিনের সৌন্দর্য। গণেশ ও অসুরের গাত্রবর্ণেও রয়েছে পারিবারিক রীতির নিজস্বতা। ফলে একই দুর্গাপ্রতিমা হলেও এই বাড়ির মায়ের রূপ অন্য বনেদি বাড়ির প্রতিমার থেকে সহজেই আলাদা করে চেনা যায়।

দেবী এখানে সপরিবারে পূজিত হন। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিককে সঙ্গে নিয়ে মায়ের আরাধনা করা হয়। এই সপরিবারে দুর্গার আরাধনা বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে যুক্ত। আজ বাঙালির কাছে এই রূপ অত্যন্ত পরিচিত হলেও এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ধর্মীয় ও শিল্প-ঐতিহ্য।

সাবর্ণ পরিবারের প্রতিমার চালচিত্রও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে দুর্গার সঙ্গে বিভিন্ন দেবদেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়। দশমহাবিদ্যার বিভিন্ন রূপের পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণের উপস্থিতিও দেখা যায়। ফলে একদিকে শাক্ত আরাধনা, অন্যদিকে বৈষ্ণব ভাবধারা—দুইয়েরই ছাপ এই পুজোর শিল্পরূপে ধরা পড়ে।পরিবারের ঐতিহ্যে ১৬৬০ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময় বিদ্যাধর রায়চৌধুরীর উদ্যোগে পুজোর মধ্যে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ধারার সমন্বয় ঘটেছিল বলে প্রচলিত। এই তিন ধারার মিলনকে ‘ত্রিধারা সঙ্গম’ বলা হয়। ফলে সাবর্ণ পরিবারের দুর্গাপুজোকে শুধু একটি শাক্ত পুজো হিসেবে দেখলে তার সম্পূর্ণ ঐতিহ্য ধরা পড়ে না। এর মধ্যে বাংলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্কৃতির দীর্ঘ সহাবস্থানের ছাপ রয়েছে।

পুজোর আচারও এই পরিবারের নিজস্ব নিয়মে চলে। প্রচলিত পাঁচ দিনের দুর্গাপুজোর তুলনায় এখানে প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে। দেবীর আবাহন, বোধন, ঘটস্থাপন, বিভিন্ন দেবতার আরাধনা—প্রতিটি পর্বের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। পুজোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি আচার যেন পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়।

সপ্তমীর কলাবউ স্নানেও রয়েছে নিজস্ব রীতি। সাধারণত নদী বা জলাশয়ের ঘাটে কলাবউ স্নানের যে ছবি বাঙালির পরিচিত, এই পরিবারের পুজোয় তার পরিবর্তে বাড়ির নিজস্ব পরিসরেই বিশেষ আচার পালিত হয়। বিভিন্ন পবিত্র তীর্থের জল ব্যবহার করে কলাবউ স্নান করানো হয় বলে পারিবারিক রীতিতে জানা যায়। এই ধরনের নিয়মই এই পুজোকে অন্য অনেক বনেদি বাড়ির পুজো থেকে আলাদা করে।

অষ্টমী ও নবমীর পুজোয়ও রয়েছে কিছু বিশেষ আচার। ‘মাস ভক্ত বলি’ নামে একটি প্রাচীন রীতি এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। মাসকলাই ও দই ব্যবহার করে এই আচার সম্পন্ন করা হয়। এর সঙ্গে বাংলার পুরনো লোকবিশ্বাস ও তান্ত্রিক ধর্মাচারের যোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে বহু প্রাচীন রীতির পরিবর্তন ঘটলেও এই ধরনের কিছু আচার এখনও পুজোর ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে।

একসময় সাবর্ণ পরিবারের পুজোয় পশুবলিরও প্রচলন ছিল। ঐতিহাসিক বিবরণে ছাগ ও মহিষ বলির কথা পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে সেই রীতিতে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন আসলে একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। শতাব্দীপ্রাচীন কোনও ঐতিহ্য টিকে থাকার অর্থ সবকিছু অপরিবর্তিত থাকা নয়; বরং সময়ের সঙ্গে সমাজের মূল্যবোধ ও সংস্কারের পরিবর্তনকে গ্রহণ করেও মূল উৎসবের ধারাটি ধরে রাখা।পুজোর সঙ্গে ভোগের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। একসময় বড়িশার এই বাড়ির রান্নাঘর থেকেই পুজোর জন্য নানা পদ তৈরি হত। দেবীর ভোগ, পরিবারের খাওয়াদাওয়া এবং পুজোয় আসা আত্মীয়-পরিজনদের আপ্যায়ন—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো ছিল এক বিশাল পারিবারিক আয়োজন। সেই রান্নাঘরকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বহু পুরনো স্মৃতি। পরিবারের পুরনো রান্নার মধ্যে ‘প্রাণমোহিনী’ নামে একটি মিষ্টির কথাও ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আজকের দিনে এই ধরনের হারিয়ে যেতে বসা রান্নার স্মৃতি পরিবারের ইতিহাসেরই অংশ হয়ে রয়েছে।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পুজো শুধু একটি বাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের বিভিন্ন শাখায় একাধিক দুর্গাপুজো হয়। বড়িশার আটচালা বাড়ি, বড় বাড়ি, মেজ বাড়ি, মাঝের বাড়ি, বেনাকি বাড়ি, কালীকিঙ্কর ভবন ছাড়াও নিমতা ও বিরাটিতে পরিবারের বিভিন্ন শাখায় পুজোর ঐতিহ্য রয়েছে। তবে ১৬১০ সালে শুরু হওয়া আদি পুজোর সঙ্গে বড়িশার আটচালা বাড়ির নামই সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে।এই পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে কলকাতার ইতিহাসের যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর—এই তিন গ্রামের জমিদারির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে এই তিন গ্রামই কলকাতা শহরের বিকাশের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে সাবর্ণ পরিবারের ইতিহাসের দিকে তাকালে আসলে কলকাতা শহরের জন্মের আগের ইতিহাসের একটি অংশও চোখের সামনে আসে।এই কারণেই বড়িশার দুর্গাপুজোকে শুধু বনেদি বাড়ির পুজো বলা যায় না। এটি কলকাতার প্রাক্-ইতিহাসেরও একটি জীবন্ত দলিল। আজকের মহানগরের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা শহরের কোলাহল শুনি, সেই একই ভূখণ্ডে কয়েক শতাব্দী আগে অন্য এক সমাজব্যবস্থা ছিল। জমিদারবাড়ি ছিল প্রশাসনের কেন্দ্র, পুজো ছিল সামাজিক মিলনের অন্যতম উপলক্ষ এবং দেবীর আরাধনা ছিল পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দশমীর দিনও তাই এখানে পুজোর আবেগ অন্যরকম। প্রতিমা বিসর্জনের আগে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বিজয়ার রীতিগুলি পালন করা হয়। একসময় কাছাকাছি জলপথে বিসর্জনের প্রচলন থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সময়ের সঙ্গে বিসর্জনের স্থান বদলেছে, কিন্তু বিজয়ার আবেগ বদলায়নি। আজ বড়িশা আর সেই পুরনো বড়িশা নেই। চারপাশে শহর বেড়েছে, রাস্তা হয়েছে, বাড়িঘর বেড়েছে। জমিদারি ব্যবস্থা ইতিহাসের পাতায় চলে গেছে। কিন্তু সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজো এখনও প্রতি শরতে সেই পুরনো সময়কে ফিরিয়ে আনে। পরিবারের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো প্রজন্মের দেখা হয়, আত্মীয়রা একত্রিত হন, ঠাকুরদালানে প্রদীপ জ্বলে, ঢাক বাজে, আর দেবীর সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজেদের শিকড়ের কথা মনে করে।

বড়িশার এই পুজো দেখতে গেলে তাই শুধু প্রতিমা দেখলেই হবে না। পুরনো বাড়ির স্থাপত্য, ঠাকুরদালানের বিন্যাস, প্রতিমার মুখের বিশেষ আকৃতি, চালচিত্রের দেবদেবী এবং পুজোর আচার—সবকিছুকে একটু সময় নিয়ে দেখলে এই পুজোর আসল সৌন্দর্য বোঝা যায়। কারণ এখানে প্রতিটি ছোট রীতির পিছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস। কলকাতা থেকে বড়িশায় পৌঁছনোও এখন যথেষ্ট সহজ। মেট্রোয় যেতে চাইলে কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের সখেরবাজার স্টেশন ব্যবহার করা যায়। সখেরবাজার থেকে স্থানীয় অটো, টোটো বা গাড়িতে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পুজোর এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব। পুজোর গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে ভিড় বেশি থাকায় শেষ অংশটুকু হেঁটে যাওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে।

বাসেও দক্ষিণ কলকাতা ও শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেহালা ও সখেরবাজারমুখী যানবাহনে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে বেহালা হয়ে সখেরবাজারের দিকে এগিয়ে বড়িশায় পৌঁছতে হয়। পুজোর সময় রাস্তার ভিড় এবং যান নিয়ন্ত্রণের কারণে গাড়ি নিয়ে একেবারে বাড়ির সামনে পৌঁছনোর চেষ্টা না করে আশপাশে গাড়ি রেখে কিছুটা হেঁটে যাওয়াই সুবিধাজনক হতে পারে। ট্রেনে যেতে চাইলে কলকাতা থেকে প্রথমে উপযুক্ত শহরতলির রেলস্টেশনে এসে সেখান থেকে সড়কপথে বড়িশায় যাওয়া যায়। তবে বড়িশার এই পুজো দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি মেট্রো বা বাস ব্যবহার করাই সাধারণ দর্শনার্থীর জন্য বেশি সহজ। যাত্রার দিন বর্তমান মেট্রো ও গণপরিবহণের সময়সূচি দেখে নেওয়া উচিত।

বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়তো এর বয়স নয়, বরং এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও এর বেঁচে থাকা। চারশোরও বেশি বছর আগে যে পুজো শুরু হয়েছিল, তা আজও নতুন প্রজন্মকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। ইতিহাসের বইয়ে লেখা কোনও তারিখের মতো এই পুজো স্থির হয়ে নেই; প্রতি বছর শরৎ এলে এটি আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। একসময় এই বাড়ির ঠাকুরদালানে যে প্রদীপ জ্বলেছিল, তার আলোয় হয়তো তখনও কলকাতা শহরের ভবিষ্যৎ দেখা যায়নি। আজ সেই আলোয় দাঁড়িয়ে আমরা পিছনে তাকালে দেখতে পাই একটি সম্পূর্ণ অন্য বাংলাকে। সেই বাংলার পথ পেরিয়ে এসেছে কলকাতা, বদলেছে সমাজ, বদলেছে জীবনযাত্রা, বদলেছে উৎসবের ধরন। কিন্তু দেবীর সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিটা যেন এখনও একই।

তাই শরতের কোনও একদিন বড়িশায় গেলে একটু ধীরে হাঁটুন। ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়ান। ঠাকুরদালানের দিকে তাকান। প্রতিমার মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবুন—এই একই উঠোনে কত প্রজন্ম আগে অন্য মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরাও হয়তো শরতের আকাশের দিকে তাকিয়ে মায়ের আগমনের অপেক্ষা করেছিলেন। চারশো বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে সেই অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি। প্রতি বছর মা আসেন। প্রতি বছর বাড়ি আবার ভরে ওঠে। আর বড়িশার পুরনো ঠাকুরদালান নীরবে বলে যায়—কলকাতার ইতিহাস শহর তৈরির আগে থেকেই লেখা হচ্ছিল।


তথ্যসূত্র:

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের ঐতিহাসিক নথি ও পারিবারিক ঐতিহ্যসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য।

কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত স্টেশন ও রুট সংক্রান্ত তথ্য।

পশ্চিমবঙ্গের বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস ও আচারবিষয়ক প্রামাণ্য গবেষণা ও ঐতিহাসিক নথি।

Archive

Most Popular