প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
বোধন শব্দের অর্থ জাগ্রত করা। মর্ত্যে দুর্গার আবাহনের জন্য বোধনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। এ দিন কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয় দুর্গার বোধন। ষষ্ঠীর সকালেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তার পর দশভূজার সামনে প্রার্থনা করা হয় যে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গোটা পূজা পর্বে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে। এর পর ঘট ও জলে পূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করা হয়। এই স্থানেই দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। এর পর হয়, দুর্গার বোধন। তার পর অধিবাস, আমন্ত্রণের পর্ব। বোধনের পর বিল্ব শাখার দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। অশুভ শক্তি দূরের জন্য ঘটের চারপাশে তীরকাঠিতে সুতো জড়িয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুর হয়। এ ভাবেই শেষ হয় মহাষষ্ঠীর আচার।
এইদিনের পাঁচটি নিয়ম ছাড়া দুর্গাপুজো একেবারেই অসম্পূর্ণ। আর এই পাঁচটি নিয়ম হল বিল্ব নিমন্ত্রণ, কল্পারম্ভ, অকাল বোধন, অধিবাস এবং আমন্ত্রণ। দুর্গাপুজোর প্রথম আচার হল বিল্ব নিমন্ত্রণ। এই আচার পালন না করে দুর্গাপুজো শুরু করাই যায় না। কী করতে হয় এই আচারে? বেল পাতা দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দুর্গাপুজোর দ্বিতীয় নিয়ম হল কল্পারম্ভ, এই নিয়মের অর্থ হল সংকল্প করে সূচনা করা। কল্প শব্দের অর্থ সংকল্প এবং আরম্ভ মানে সবাই জানে, সূচনা। এর মাধ্যমে দেবীর কাছে প্রতিজ্ঞা করা হয় যে আগামীদিনে সমস্ত নিয়ম মেনে দেবীর পূজা করা হবে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আচার হল অকাল বোধন। এই অকাল বোধনের মাধ্যমে দেবীকে আবাহন করা হয় চিন্ময়ী রূপে মূর্তিতে বিরাজ করার জন্য। মূলত ষষ্ঠীর বিকেলে বিল্ব পুজো, বোধন এবং অধিবাস হয়ে থাকে। কিন্তু যেবার ষষ্ঠীর তিথি বিকেলে থাকে না সেবার পঞ্চমীর বিকেলেই এই আচার করে নেওয়া হয়