প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি
সহস্রশীর্ষ পুরুষঃ সহস্রক্ষসহস্রপাত।
সা ভুমিম বিশ্বতো অত্যতিষদ্দশাঙ্গুলম্।।
অর্থাৎ তিনি সহস্র মস্তকের, সহস্র চক্ষুর, সহস্র চরণের পুরুষ। এই পৃথিবীতে সর্বশক্তিমান এবং দশ আঙ্গুল সকলের ঊর্ধ্বে।
দক্ষিণ ভারতের মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম হল কেরালার শ্রী অনন্ত পদ্মনাভস্বামীর দেবালয়। এই মন্দিরের গর্ভগৃহেরই শায়িত রয়েছেন ভগবান শ্রীবিষ্ণু।তিরুঅনন্তপুরমের সুপ্রাচীন এই দেবস্থানের প্রতিটি ইট-কাঠে মিশে আছে দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্য শৈলীর ছোঁয়া। আনুমানিক ১৮-১৯ শতকের মধ্যে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময় দক্ষিণী রাজ্যটির ওই অংশের নাম ছিল ত্রিবাঙ্কুর। অনন্তনাগের উপর শায়িত এখানকার বিষ্ণুর মূর্তিটি প্রায় ১৮ ফুট লম্বা। মূর্তিটির নাভিতে রয়েছে একটি পদ্মচিহ্ন। সেই পদ্মের উপর রয়েছেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। গর্ভগৃহে শ্রীবিষ্ণুর দুই স্ত্রী, লক্ষ্মী ও ধরিত্রীর মূর্তিও রয়েছে। পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের মূল বিষ্ণু মূর্তিটি কষ্টিপাথরে তৈরি নয়। কথিত রয়েছে, এক হাজার আটটি শিলগ্রাম শিলা সাজিয়ে তার উপর বিশেষ উপায়ে এক আয়ুর্বেদিক আঠালো মিশ্রণ ঢেলে তৈরি করা হয়েছিল সুবিশাল এই মূর্তি।
প্রতিদিন দেবতাকে বিশেষ নৈবেদ্য ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হঢয়, সঙ্গে বাজানো হয় মঙ্গল বাদ্য। ত্রিকার্থিকা (শিকড়ের ভোগ), পোঙ্গল ভোগ, তিরুভাথিরা (মিষ্টি আপ্পম), করকাটকায় (ফলের ভোগ), নিরায়ুম পুথারিয়ুম (গুড় এবং নতুন শস্য দিয়ে তৈরি ভোগ) নিবেদন করার রীতি রয়েছে।
ভগবান বিষ্ণুর এই রূপের উল্লেখ রয়েছে মহাভারত থেকে শুরু করে প্রাচীন পুরাণগ্রন্থগুলিতে। পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের মূল বিষ্ণু মূর্তিটি কষ্টিপাথরে তৈরি নয়। কথিত রয়েছে, এক হাজার আটটি শিলগ্রাম শিলা সাজিয়ে তার উপর বিশেষ উপায়ে এক আয়ুর্বেদিক আঠালো মিশ্রণ ঢেলে তৈরি করা হয়েছিল সুবিশাল এই মূর্তি। তবে অন্যান্য দেবালয়ের মতো এই মন্দিরের আনাচ-কানাচেও লুকিয়ে আছে রহস্য। মন্দিরের মধ্যেই রয়েছে সুবিশাল একটি পাতালঘর। পরপর ছটি গোপন কুঠুরি রয়েছে সেখানে। স্বাধীনতার ৬৪ বছর পর একটি বাদে সমস্ত কুঠুরি খোলা হয়। গোপন ওই কুঠুরিগুলি খুলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছিল সরকারি আধিকারিকদের। ২০১১-য় পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের পাতালঘরের গোপন কুঠুরি খুলতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন IPS অফিসার টি পি সুন্দরাজন। এর পরই সাত জনের একটি দলকে সেখানে পাঠায় আদালত। তাঁদের উদ্যোগেই এক এক করে খোলা হয় মন্দিরের গোপন কুঠুরিগুলি। আর সেগুলি খুলতেই বেরিয়ে আসে রাশি রাশি ধনরত্ন।
পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের গোপন কুঠুরিগুলিতে মেলা ধন সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। তবে সূত্রের খবর, ওই সময় মন্দিরে চোরা কুঠুরিতে মেলা সামগ্রীর বাজার মূল্য ছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় এক লাখ কোটি টাকার সমান। শুধু যে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড রয়েছে তাই নয়, মন্দিরে রয়েছে আরও কিছু কঠোর নিয়ম। অভারতীয় বা বিদেশিরা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পান না। এমনকি বিবাহসূত্রে ভারতীয় হলেও কোনও বিদেশি মন্দিরে ঢুকতে পারেন না। এমনকি শাড়ি পরে মন্দিরে প্রবেশ করলেও বিদেশিকে হিন্দু হওয়ার শংসাপত্র দেখাতে হয়।