19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

হৃদরোগ ঠেকাতে খেতেই হবে যে খাবার..

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি


অনেকে মনে করেন শরীরচর্চা ও দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটিই হার্টের অসুখ ঠেকিয়ে রাখতে যথেষ্ট। তবে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবার পাতেও রাখতে হবে নজর। খুব বেশি তেল-মশলা যেমন এই অসুখে বারণ, তেমনই হার্টের কার্যকারিতা বাড়াতে ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে কিছু কিছু খাবার অবশ্যই প্রতিদিনকার ডায়েটে রাখা উচিত। খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটিও করতে হবে। বারবার বলা হচ্ছে খাবার ও শরীরচর্চা একে অন্যের পরিপূরক। খেতেই হবে ডিম।

ডিম: হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কেবলমাত্র প্রোটিনের জোগান আসে তা-ই নয়, কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ কমাতেও এই খাবারের ভূমিকা অসীম। হার্টে রক্ত চলাচলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও হৃদস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ডিমের সাদা অংশ। কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার শঙ্কাও আধুনিক গবেষণা মনে করে না। বরং কুসুম খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীরের উপযোগী কোলেস্টেরলে পরিবর্তিত করে বলেই মত বেশিরভাগ চিকিৎসকের।

ব্লু বেরি: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন- এর গবেষকদের মতে, ১৫০ গ্রাম ব্লু বেরি হার্টের ভাস্কুলার ফাংশনের উন্নতিসাধন করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্থোসিয়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হার্টের কার্যকারিতা বাড়িয়ে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজকে দূরে রাখে।

পালং: শরীরের উপকারে সবুজ শাকসবজি খেতে লেন -প্রায় সব চিকিৎসকই। হার্টের যত্নে এদের মধ্যে সচেয়ে বেশি উপকারী পালং শাক। ভিটামিন-কে যুক্ত এই সাকি ধমনীকে সুরক্ষিত রাখে ও রক্তের চাপ কম রাখছে বিশেষ সাহায্য করে। চোখের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও এই বিশেষ উপযোগী।

আঁশযুক্ত খাবার খান: যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ আছে সেসব খাবার খাবেন। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

জমাট-বাঁধা চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন: হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হলে স্যাচুরেটেড নয় এমন চর্বি (যেসব খাবারের উপর চর্বি জমাট বাঁধে না) সে ধরনের খাবার খেতে হবে।

টমেটো: টমোটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে থাকা শর্করা উপাদান হার্টের উপকারে আসে।

সয়াবিন: সয়া থেকে তৈরি পণ্য যেমন সয়া দুধ, সয়াবিন, পনির ইত্যাদি খাওয়া হার্টের পক্ষে ভালো।

আখরোট: প্রতি সপ্তাহে কিছুটা পরিমাণে আখরোট খেলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এতে থাকা ফ্যাট বাজে কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।

লেবু: লেবুর রস রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রাকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে পটাশিয়াম যা শরীরে থাকা লবণকে সমতা প্রদান করে। নিয়মিত লেবুর রস খেলে হার্ট ভাল থাকবে।

গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে ক্যাটেচিন নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি পরিমাণে থাকে যা হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে।

রসুন: রসুন হার্টের জন্য অনেক ভালো। নিয়মিত রসুন ব্লাঞ্চিং (গরম জলে ২ মিনিট ফুটানো) করে খেলে অথবা তরকারিতে আস্ত রসুন খেলে হার্ট সতেজ থাকে।

ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কের নার্ভ সিস্টেমকে সতেজ রাখে। ফলে হাইপারটেনশন বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

সবুজ শাক-সবজি ও স্যালাড: সবুজ শাক- সবজি ও স্যালাডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা হার্টের জন্য ভালো।

মাশরুম: মাশরুমে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন আছে যা হার্ট অ্যাট্যাকের পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬, ভিটামিন ডি ইত্যাদি আছে। নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ গ্রহণে হার্ট সুস্থ থাকে।

ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ যুক্ত তেল: যেকোনও ভেজিটেবল তেল বিশেষ করে যেসব তেলে ওমেগা ৩ আছে সেসব তেল হার্টের জন্য ভালো। যেমন- অলিভ ওয়েল, ক্যানোলা ওয়েল, সানফ্লাওয়ার ওয়েল, সরিষার তেল এগুলোতে আছে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হার্টের জন্য ভাল।

কাঠবাদাম: কাঠবাদাম মস্তিষ্কের বুদ্ধি বৃদ্ধির পাশাপাশি হার্টও ভালো রাখে।

ব্ল‍্যাক কফি: ব্লাক  কফি তে আন্টিওক্সিডেন্ট  আছে যা নার্ভ সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি হার্ট সরেজ রাখে।

আদা:  আন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা হার্টকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত আদা চা, আদা জল খাওয়া যেতেই পারে।

তরল ও নরম খাবার: কম তেল ও মশলাযুক্ত যেকোনও তরল খাবার যেমন ভেজিটেবল স্ট্রং, স্যুপ, ব্লাক চা, কোল, তরকারি, লাল চিড়া, ওটমিল ইত্যাদি স্বার্টকে সুস্থ রাখে।

টকফল: যেকোনও টক জাতীয় ফল বিশেষ করে আমলকী, লেবু ইত্যাদি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

গবেষণায় পাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকির নতুন কারণ বেশি ওজন যাদের থাকে তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে। হৃদসংক্রান্ত রোগকে বিশ্বের এক নম্বর খুনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ, এর আক্রমণের ফলে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ মানুষ মারা যায়। দ্য ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও)র হিসাবে ১৯৯০ সালে বিশ্বে স্কুল শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২০ লাখ। এই পরিমাণ ২০১৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখে। আর প্রতিবছর অপর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ডের কারণে মারা যাচ্ছেন ৩২ লক্ষ মানুষ।

হৃদরোগের আরেক কারণ হচ্ছে আর্সেনিক সমস্যা। আর্সেনিক সমস্যাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হবার দুই দশক পরেও, আমাদের দেশে গ্রামে গঞ্জে এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও প্রচুর মানুষ (যাদের বেশিরভাগই গ্রামের দরিদ্র) এখনও অনিরাপদ দূষিত জল পান করে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Archive

Most Popular