স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
সুস্থ শরীর আর দীর্ঘায়ুর মূলমন্ত্র হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু আজকের দিনে কতবার খাবার খাওয়া উচিত এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নানা মতামত উঠে আসে। কেউ বলেন দিনে দুবার খাবার খেলেই যথেষ্ট, আবার কেউ বলেন ছোট ছোট ছয়বার খাবার খাওয়া শরীরের জন্য আদর্শ। আসলে সব ডায়েট সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। কার শরীরের গঠন কেমন, বয়স, কাজের ধরন, রোগব্যাধি সব কিছুর উপর নির্ভর করে কোন ডায়েট কার জন্য ভালো হবে।
দিনে দুবার খাওয়া বলতে বোঝায় সকাল বা দুপুরে একবার এবং সন্ধ্যা বা রাতে একবার পূর্ণ আহার করা। এটি অনেকাংশে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং–এর সঙ্গে মিলে যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে:
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীর জমে থাকা ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে।
ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়:
রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।
হজমতন্ত্রের বিশ্রাম:
বারবার খাবার না খেলে পাকস্থলী ও যকৃত পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়।
শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন:
খাবারের সময় নির্দিষ্ট থাকায় অন্যান্য কাজের জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়।
দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকলে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা হতে পারে।
যাদের কাজ শারীরিক পরিশ্রমসাপেক্ষ, তাদের জন্য দিনে দুবার খাবার যথেষ্ট নাও হতে পারে।
গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ ও কিশোরদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এখানে দিনে তিন বেলার পাশাপাশি আরও তিনবার হালকা নাস্তা বা ছোট মিল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রতি ২–৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর খাবার।
শক্তি বজায় থাকে:
নিয়মিত খাবার খাওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ ওঠানামা করে না।
অতিরিক্ত খাওয়া কমে:
ঘন ঘন অল্প খাওয়ায় পেট সবসময় অল্প ভরা থাকে, ফলে একবারে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হজম সহজ হয়:
একসঙ্গে বেশি খাবার না খাওয়ায় হজমে চাপ পড়ে না।
অ্যাথলিট বা জিমপ্রেমীদের জন্য আদর্শ:
শরীরে শক্তি ও প্রোটিনের সরবরাহ বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
বারবার খাওয়ার জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দরকার, যা ব্যস্ত জীবনে কঠিন হতে পারে।
অতিরিক্ত নাস্তা যদি ভাজাভুজি বা জাঙ্ক ফুড হয়, তবে ওজন বেড়ে যায়।
খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
এদের শারীরিক পরিশ্রম কম হয়। দিনে দুবার ভারসাম্যপূর্ণ আহার এবং মাঝে একবার হালকা ফল বা বাদাম যথেষ্ট হতে পারে।
তাদের জন্য ছোট ছোট ৫–৬ বার খাবার খাওয়া উত্তম। এতে শরীর সারাদিন শক্তি পায়, মাংসপেশির ভর বজায় থাকে।
সাধারণত ডাক্তাররা ডায়াবেটিক রোগীদের ঘন ঘন অল্প খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ এতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে দিনে দুবার খাবার (ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং) কার্যকর হতে পারে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে করতে হবে।
এই অবস্থায় বেশি ক্যালোরি ও পুষ্টি দরকার। তাই ছোট ছোট ৫–৬ বার খাবার খাওয়া ভালো।
এদের হজমশক্তি আলাদা। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকা তাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই অল্প অল্প বারবার খাওয়াই উত্তম।
একটি ডায়েট সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। তাই
নিজের বয়স, স্বাস্থ্য অবস্থা ও কাজের ধরন বিচার করে ডায়েট বেছে নিতে হবে।
যদি ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বা হরমোনজনিত সমস্যা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডায়েট মানে শুধু খাওয়ার সময় নয়, খাবারের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে দুবার প্রধান খাবার খান এবং তার মাঝে ছোট ১–২ বার স্বাস্থ্যকর নাস্তা (ফল, বাদাম, দই) নেন। এতে আবারও দু’টি ধরণের ডায়েটের সুবিধা পাওয়া যায়।
দুপুর ১২টা: ভাত/রুটি + সবজি + মাছ/ডাল + সালাদ
রাত ৮টা: ভাত/রুটি + চিকেন/ডাল + সবজি + দই
সকাল ৮টা: ওটস/ডিম/দুধ
সকাল ১১টা: ফল + বাদাম
দুপুর ১টা: ভাত/রুটি + সবজি + মাছ/মুরগি
বিকেল ৪টা: স্যুপ বা স্যান্ডউইচ
সন্ধ্যা ৭টা: ফল বা দই
রাত ৯টা: ভাত/রুটি + ডাল + হালকা সবজি
দিনে দুবার খাবার আর দিনে ৬ বার ছোট খাবার দুটোই বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক, তবে তা নির্ভর করে কার জীবনযাত্রা, কাজের ধরন ও শারীরিক অবস্থার উপর। একজন অফিসে বসে কাজ করা মানুষ হয়তো দিনে দুবার খেয়ে আরাম বোধ করবেন, আবার একজন জিমপ্রেমীর জন্য ৬ বার ছোট খাবার দরকার হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যেকোনো ডায়েটই হোক না কেন, খাবার হতে হবে পুষ্টিকর, সুষম এবং স্বাস্থ্যসম্মত।