19th Feb 2026

Highlights :

www.rojkarananya.com news

শিশুর জন্মগত হৃদরোগ ও তার প্রতিকার..

স্বাস্থ্য

ডাঃ দেবি প্রসাদ শেঠি


জন্মগত হৃদরোগের শুরু মায়ের গর্ভেই। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি ১০০০ জন জীবিত শিশুর মধ্যে ৮ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়। এই ৮ জনের মধ্যে আবার ২-৩ জনের এই রোগের লক্ষণ জন্মের প্রথম ছ মাসের মধ্যেই নানাবিধ উপসর্গসহ প্রকাশ পায়। অনেক সময় দেখবেন, বাচ্চার জন্মের পর থেকেই ঘন ঘন ঠান্ডা লাগছে। সঙ্গে লেগে থাকছে কাশি। শ্বাসকষ্টও হয় মাঝে মাঝে। মায়ের বুকের দুধ খেতেও অসুবিধা হয়। অল্পেতেই সে হাঁপিয়ে যায়। হাত পায়ের আঙুল ও ঠোঁটে একটা নীলাভ ভাব দেখা যায়। ওজন ও শারীরিক বৃদ্ধির অপ্রতুলতা। আমরা ছুটে যাই আমাদের বাচ্চার ডাক্তারের কাছে। তিনি শুনে দেখে বুঝে কার্ডিয়োলজিস্টের কাছে পাঠালেন। কার্ডিয়োলজিস্ট দেখে বললেন, এর হাটে একটা ফুটো আছে। এটা ওর জন্মগত হৃদরোগ।

উদ্বেগ, উত্তেজনাকে প্রশমিত করুন। শুনুন, কার্ডিয়োলজিস্টরা বলেন, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর হৃদযন্ত্র তৈরি ও বিকশিত হওয়ার আগেই যদি কোনওরকম ত্রুটি থাকে এবং শিশু সেই হৃদযন্ত্র নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়, তবে তাকেই জন্মগত হৃদরোগ বলে।

জন্মগত হৃদরোগের নাম এএসডি (ASD), একে অস্ট্রিয়াল সেন্টাল ডিফের বলা হয়। বোঝা গেল না তো? বলছি, হার্টের ওপরের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝখানে একটা অস্বাভাবিক ফুটো থাকে। তার নামই এএসডি। এএসডি ছোট হলে ২-৫ বছরের মধ্যে হয়। নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বড় এএসডি হলে অথবা নিজে নিজে বন্ধ না হলে অপারেশন করে অথবা ক্যাথেটার করে ডিভাইস ক্লোজার (ইন্টারভেনশন বা বিন্য অস্ত্রোপচারে রক্তনালির মাধ্যমে) করা যায়। অনেকসময় পরিণত বয়স বা বার্ধক্যে এসে এই রোগ ধরা পড়ে।।

ডিএসডি (VSD)

একে ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট বলা হয়। একইভাবে হার্টের নীচের অংশের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝে অস্বাভাবিক ফুটো থাকার নামই ভিএসডি। বিভিন্ন ধরনের ভিএসডি আছে, খুব জটিল প্রকৃতির না হলেও এটাও দুবছরের মধ্যে নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ভিএসডি-ই অপারেশনের সাহায্যে অথবা ক্যাথেটার করে ডিভাইস ক্লোজার (ইন্টারভেনশন বা বিনা অস্ত্রোপচারে রক্তনালির মাধ্যমে) দিয়ে বন্ধ করতে হয়।  অনেসময় পরিণত বয়স বা বার্ধক্যে এসেও ধরা পড়ে।

সিডিএ (PDA)

এর পুরো নাম পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টারিয়োসিস। ফুসফুসের ধমনির সঙ্গে মহাধমনির (অ্যাওটা) অস্বাভাবিক সংযোগই এই পিডিএ। সাধারণত পরিপূর্ণতার আগেই যে শিশুর জন্ম হয়, তাদের এই রোগ বেশি হয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর পরীক্ষা রোগ নির্ণয় করেন। এর আকার ছোট হলে ক্যাথেটার দিয়ে ডিভাইস ক্লোজার আর বড় হলে সার্জারি করতে হয়।

টফ (TOF)

টেট্রালজি অফ ফেন্ট বলে একে। বেশ জটিল এক জন্মগত রোগ। হার্টের অভ্যন্তরীণ চারটি ত্রুটির সমন্বয়ে এই রোগ হয়। জন্মের সপ্তাহ দুয়েক পর থেকেই শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। খাওয়ার সময় অথবা কাঁদলে শিশুর খুব কষ্ট হয়। ক্রমান্বয়ে এই লক্ষণগুলো বাড়তে থাকে এবং শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও আটকে যায়। মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই সে নীল হয়ে যায়। এই সময় উবু হয়ে বসলে অনেকটা আরাম লাগে।

অপারেশনই এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশন না করালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শৈশবে জীবন হারাতে পারে। আর এরজন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবুর। আসুন, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, তারকা চিকিৎসক, বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সার্জেন ডাঃ দেবী শেঠি। শিশুদের হার্ট নিয়েও তিনি অনেক কাজ করেছেন। তিনি ডাঃ দেবি প্রসাদ শেঠি।

Archive

Most Popular